শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে সম্মান দেখানোর আহ্বান জাতিসংঘের

‘অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ’ না করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানোর পর এবার নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও বিক্ষোভের অধিকারকে সম্মান দেখাতে বলেছে জাতিসংঘ। গত মঙ্গলবার জাতিসংঘের এক প্রেস বিফ্রিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে সংস্থার মহাসচিবের উপমুখপাত্র ফারহান হক এই আহ্বান জানান।

ব্রিফিংয়ে প্রশ্ন করে বলা হয়, বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল বাংলাদেশ সফর করছে। বর্তমান ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ তাদের আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছে। তবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক পক্ষগুলো সফরকারী দলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে অনীহা প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে বিএনপির চলমান বিক্ষোভ-ভাঙচুরের মধ্যেই তাদের দিক থেকে এমন অনীহা প্রকাশ করা হয়েছে। এই পরিস্থিতি বিবেচনা করে আপনি কি মনে করেন যে, বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য বিএনপির মনোভাব সহায়ক?

জবাবে উপ-মুখপাত্র বলেন, ‘এই পর্যায়ে, আমি আপনাকে যা বলতে পারি তা হলো আমরা বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ, বিশ্বাসযোগ্য এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনকে উৎসাহিত করে যাচ্ছি। অবশ্যই, প্রতিবাদের বিষয়ে আমি বলব যে, বিশ্বের সর্বত্রই তা হচ্ছে। আমরা চাই, সব নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনী শান্তিপূর্ণ সমাবেশ এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকারকে স্বীকৃতি দেবে এবং সম্মান করবে।

এর আগে গত ৪ আগস্ট বাংলাদেশে বিরোধী দলের সমাবেশে পুলিশের ‘অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের’ ঘটনা ঘটলে দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানায় জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশন। সম্প্রতি বিরোধী দলের সমাবেশ ঘিরে সহিংসতার কথা তুলে জাতিসংঘ মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের মুখপাত্র জেরেমি লরেন্স জেনেভায় এক ব্রিফিংয়ে এ আহ্বান জানান। কমিশন তাদের ওয়েবসাইটে এ সংক্রান্ত প্রেস নোট প্রকাশ করে।

জেরেমি লরেন্স বলেন, ‘আমরা পুলিশের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, যখন জরুরি হয়ে পড়ে, শুধু তখনই যেন তারা বলপ্রয়োগের পথে যায়। আর যদি সেটা করতেই হয়, আইন ও নীতি মেনে, সংযম ও যৌক্তিকভাবে তা করতে হবে। অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ হলে সেটাকে অবশ্যই তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।’

তিনি বলেন, আগামী জানুয়ারিতে সাধারণ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতির এ সময়ে অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোটের জন্য শান্তিপূর্ণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সব রাজনৈতিক দল, তাদের সমর্থক ও নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশন।

একই দিন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশে বিক্ষোভকারীদের ওপর অবিলম্বে বেআইনি ও অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। গত ২৯ জুলাই বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দল আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচিতে বিক্ষোভকারী ও বিরোধী দলের নেতাদের ওপর সহিংস আক্রমণের খবর যাচাই করার কথা উল্লেখ করে এই আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংস্থাটি।