ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে চালু হওয়া দণ্ডবিধি বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। গতকাল শুক্রবার অমিত শাহ লোকসভায় বলেন, রাষ্ট্রদ্রোহী-সংক্রান্ত আইন সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা হচ্ছে। দেশটির বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, এদিন অমিত শাহ ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার ভারতীয়করণের লক্ষ্যে তিনটি বিলও উত্থাপন করেন, যা স্ট্যান্ডিং কমিটির বিবেচনার জন্য পাঠানো হয়েছে। তিনটি নতুন বিল পেশ করে অমিত শাহ বলেন, ১৮৬০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত দেশের ফৌজদারি বিচারব্যবস্থা ব্রিটিশদের তৈরি আইন অনুসারে চলছিল। তবে এই তিনটি আইনে বদল আনা হবে এবং দেশের ফৌজদারি বিচারব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। এই তিন বিল আগের তিনটি ঔপনিবেশিক আইনের অবসান ঘটাবে। অমিত শাহ জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত আইনে ‘রাষ্ট্রদ্রোহ’ কথাটি নেই। এটি ভারতের সার্বভৌমত্ব, একতা এবং অখণ্ডতাকে বিপন্ন করার জন্য ১৫০ নম্বর ধারা দ্বারা প্রতিস্থাপিত করা হয়েছে ।
আনন্দবাজার পত্রিকা বলছে, ১৮৬০ সালের ‘ইন্ডিয়ান পেনাল কোড’, ‘ক্রিমিনাল প্রসিডিউর কোড’ এবং ‘ইন্ডিয়ান অ্যাভিডেন্স অ্যাক্ট’ বদলে হতে চলেছে ভারতীয় ন্যায়সংহিতা, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা এবং ভারতীয় সাক্ষ্য। সংবাদমাধ্যমটি বলছে, বর্তমানে, রাষ্ট্রদ্রোহ আইনে সাজা হিসেবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। কিছু ক্ষেত্রে তিন বছরের জেলের সাজাও দেওয়া হয়। নয়া প্রস্তাবে তিন বছর জেলের সাজা হতে পারে।
এ ছাড়া বিলে গণপিটুনির ঘটনার ক্ষেত্রে তাকে হত্যার পরিভাষার সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে। যেখানে জাতি, ধর্ম, লিঙ্গ, জন্মস্থান, ভাষা, ব্যক্তিগত বিশ্বাস বা অন্য কোনো কারণে হত্যার ঘটনার ক্ষেত্রে অভিযুক্ত প্রত্যেকের মৃত্যুদণ্ড বা কারাবাসের সাজার সংস্থান রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ন্যূনতম সাজার সংস্থান রাখা হয়েছে সাত বছর। সর্বোচ্চ ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড। এ ছাড়া জরিমানাও করা হবে।
নতুন প্রস্তাবে ঘৃণা বা উসকানিমূলক ভাষণকেও অপরাধের শ্রেণিভুক্ত করা হয়েছে। যদি কোনো ব্যক্তি ঘৃণা ভাষণ বা উসকানিমূলক ভাষণ দেন, তাহলে তার তিন বছরের জেলের সাজা প্রাপ্য। সঙ্গে রয়েছে জরিমানা। এ ছাড়া যদি কোনো ধর্মীয় সমাবেশে কোনো অংশ বা শ্রেণির মানুষের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক ভাষণ দেন, তাহলে পাঁচ বছরের সাজার সংস্থান রাখা হচ্ছে।
অমিত শাহ বলেন, আমি বলতে চাই সরকার একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং রাষ্ট্রদ্রোহ আইনকে সম্পূর্ণভাবে শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি বলেন, গত বছর, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে স্বাধীনতার ৭৫ বছর পূর্তিতে, দেশে দাসত্বের সমস্ত পুরনো নিদর্শনগুলো মুছে ফেলা হবে। এরই ধারাবাহিকতায় আমরা ব্রিটিশ আমলে প্রণীত তিনটি দণ্ডবিধি এবং ঔপনিবেশিকতার নিদর্শন চিরতরে পরিবর্তনের জন্য সংসদে একটি বিল পেশ করছি। এই তিনটি বিল আমাদের পাঁচটি প্রতিজ্ঞার একটি পূরণ করতে চলেছে’।