ভূমধ্যসাগরে ট্রলার ডুবে ৭ বাংলাদেশি নিখোঁজ

আবারও দালালের মাধ্যমে লিবিয়া হয়ে সমুদ্রপথে ইতালি যাওয়ার সময় নরসিংদীর সাত যুবক নিখোঁজ হয়েছেন। তারা প্রত্যেকেই জেলার বেলাব উপজেলার বাসিন্দা। এ খবরে পরিবারগুলোতে চলছে শোকের মাতম। গতকাল শনিবার নিখোঁজ হওয়া যুবকদের স্বজনরা সাংবাদিকদের কাছে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

এর আগে জুন মাসে একইভাবে পাড়ি দিতে গিয়ে নরসিংদীর রায়পুরার একজনের মরদেহ উদ্ধার ও বেলাব উপজেলার সাতজন নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটে।

নিখোঁজ যুবকরা হলেন বেলাব উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের কাঙ্গালিয়া গ্রামের মোখলেছুর রহমান, একই এলাকার কামাল হোসেন, ভাটের চর গ্রামের মাসুদ রানা, দুলালকান্দি গ্রামের মনির হোসেন, একই এলাকার রবিউল, টান লক্ষ্মীপুর গ্রামের স্বাধীন মিয়া ও নিলক্ষিয়া গ্রামের আমান মিয়া।

নিখোঁজদের স্বজনদের দাবি, ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা খরচ করে দুই দালাল জাকির হোসেন এবং তার ফুপু একই এলাকার নুর কাসেমের স্ত্রী শাহিনুরের মাধ্যমে অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার জন্য দেশ ছাড়েন।

নিখোঁজ কামাল মিয়ার ছোট ভাই জামাল মিয়া জানান, ‘পাঁচ থেকে ছয় মাস আগে আমার ভাইকে ১২ লাখ টাকার চুক্তিতে ইতালির উদ্দেশে প্রথমে লিবিয়া নিয়ে যাওয়া হয়। বেশ কিছুদিন গেমঘরে রেখে গত বুধবার রাত ৮টায় বোটে তুলে ইতালির পথে যাত্রা করে। কিন্তু ৪০ মিনিট পর বোটটি ডুবে যায়। জাকিরের তত্ত্বাবধানে ২০ জনের মধ্যে ১২ জন ফিরে এলেও আটজন নিখোঁজ রয়ে যান। এ তথ্য দালাল জাকির হোসেন স্থানীয় মিলন মেম্বারের মাধ্যমে আমাদের জানানো হয়। এরই মধ্যে আমার ভাইও নিখোঁজ।’

নিখোঁজ রবিউলের ভাই ইব্রাহিম বলেন, ‘আমার ভাই আট মাস আগে লিবিয়া গিয়েছিল ভৈরবের দালাল রবিউল্লার মাধ্যমে। কিন্তু সেখানে ভাইকে বৈধ কোনো কাগজ করে দেননি। দুলালকান্দির দালাল জাকির হোসেন ইতালি যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে আমাদের কাছ থেকে ৯ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। এখন আমার ভাইয়ের খবর পাচ্ছি না। আমার ভাইয়ের সন্ধান চাই।’

রবিউলের স্ত্রী সাথী আক্তার জানান, ‘আজ থেকে ১৭ দিন আগে আমার স্বামীর সঙ্গে কথা হয়েছিল, তিনি বলেছেন আমার জন্য দোয়া কইরো। আমরা এখন গেমঘরে আছি, আগামী বুধবার ডিঙিতে তুলবে, এ কথা বলে মোবাইল বন্ধ করে দেন। তারপর থেকে আর কোনো যোগাযোগ করতে পারিনি।’

এ বিষয়ে দুলালকান্দি গ্রামের বর্তমান ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মিলন মেম্বার জানান, ‘আমি খবর পেয়ে জাকির হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করি। ফোন দিলে মোবাইল অন্য একজন রিসিভ করে আমাকে জানান, জাকির হোসেনের অধীনে থাকা ২০  জনের মধ্যে ১২ জন উদ্ধার হলেও আটজনের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।’

এদিকে লিবিয়া হয়ে ইতালি যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে নিখোঁজ হওয়ার খবরে দালাল জাকির হোসেন ও শাহিনুরের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। নিখোঁজের খবর ছড়িয়ে পড়লে তাদের পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে তালা দিয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন।

বেলাব থানার ওসি মো. তানভীর আহমেদ বলেন, ‘বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে এবং লোকমুখে শুনেছি। তবে এখনো কোনো অভিযোগ আসেনি। এ বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।’

বেলাব উপজেলা নির্বাহী অফিসার আয়েশা জান্নাত তাহেরা বলেন, ‘নিখোঁজের সংবাদ লোকমুখে শুনেছি। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। নিখোঁজের বিষয় জানতে প্রবাসী ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি।’

এর আগে গত ২৪ জুন নৌপথে ইতালি পাড়ি দিতে গিয়ে নরসিংদীর বেলাব উপজেলার সাতজন নিখোঁজ ও রায়পুরা উপজেলার একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।