আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনেই ‘স্বাধীন’ নির্বাচন কমিশন পরিচালনা করবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এমন বার্তা দিয়ে বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, ‘পছন্দ হলে নির্বাচনে আসুন, না হলে যা ইচ্ছা করুন। তবে আগুন নিয়ে খেললে খবর আছে। আগুন নিয়ে খেলতে এলে প্রতিহত করা হবে।’ গতকাল শনিবার আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) শোক দিবসের আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আজকে মির্জা আব্বাস বলে সংবিধান আমরা মানি না। কেন মানে না, এটার মধ্যে কি কাঁটা আছে? এটা নাকি কাটাছেঁড়া করেছি, কাটাছেঁড়া আমরা করিনি, কাটাছেঁড়া করেছে সেনাপতিরা। প্রথম করেছে জিয়াউর রহমান।’
তত্ত্বাবধায়ক সরকার হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করবেন না, সংসদ ভাঙবে না, স্বাধীন এ নির্বাচন কমিশন নির্বাচন পরিচালনা করবে, পছন্দ হলে নির্বাচনে আসুন, না হলে যা ইচ্ছা করুন। তবে আগুন নিয়ে খেললে খবর আছে। আগুন নিয়ে খেলতে আসবেন না, আগুন নিয়ে খেলতে আসলে প্রতিহত করা হবে, সমুচিত জবাব দেওয়া হবে। ২০১৩-১৪ আর ২০২৩ সাল কিন্তু এক নয়।’
বিএনপি আজীবন বিরোধী দলে থাকবে দাবি করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপির মির্জা ফখরুলের লাফালাফি, এই বুঝি গেল শেখ হাসিনার গদি, গদি গেল; ফখরুল ইসলাম, নেতিবাচক বিদ্বেষমূলক রাজনীতির কারণে আজীবন আপনাদের বিরোধী দল থাকতে হবে। আজীবন বিরোধী দলের খাতায় নামটা লিখে রাখুন।’
বিদেশিরা শুধু বাংলাদেশকে ‘পেয়ে বসেছে’ দাবি করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘এ বছর বিশ্বের ২২টি দেশে নির্বাচন হবে, বাংলাদেশ ছাড়া আমি একটা দেশও খুঁজে পাচ্ছি না যেখানে বড় বড় দেশ একেকবার প্রতিনিধি, কখনো কংগ্রেসম্যান, মন্ত্রী গিয়ে তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মাথা ঘামাচ্ছে, কোথাও কোনো প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছে। শুধু বাংলাদেশ, কী অপরাধ আমাদের গণতন্ত্রের, কী অপরাধ আমাদের উন্নয়নের? গণতন্ত্র আছে বলেই বিশ্ব আজ এত উন্নয়নের মুখ দেখছে। গণতন্ত্র অব্যাহত না থাকলে এত উন্নয়ন সম্ভব হতো না।’
তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রের যারা প্রবক্তা, মানবাধিকারের যারা প্রবক্তা তাদের যদি বলি, ইউক্রেনে এক বছরে ৭৫ বিলিয়ন ডলার আপনারা পাঠিয়েছেন, রেজাল্ট কী, নিজেরাই অঙ্ক করে হিসাব করুন। ৭৫ বিলিয়ন ডলার, যুদ্ধ বন্ধ হয়েছে? না কারও পরাজয় হয়েছে? সোমালিয়ায় প্রতিদিন মানুষ না খেয়ে মারা যাচ্ছে, সোমালিয়ায় মিনিটে মিনিটে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে, কই এখানে তো কিছু করতে পারলেন না।’
‘জাতিসংঘের কথা ইসরায়েল শোনে না। একজন সাংবাদিককে রিফিউজি ক্যম্পে গিয়ে ইসরায়েলি সৈন্যরা হত্যা করে। সবাই জানে কে তাকে মেরেছে। অথচ এখানে ওয়াশিংটন নীরব। ওয়াশিংটন জানে, তারপরও ইসরায়েলকে কিছু বলে না। ফিলিস্তিনে লাখ লাখ মানুষ মারা যাচ্ছে, তারা পেয়েছে শুধু বাংলাদেশকে। তারা পেয়েছে, পান থেকে চুন খসলে আমাদের ভিসা নীতি দেবে, হুমকিধমকি।’
স্বাচিপ সভাপতি জামাল উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফি, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির, স্বাচিপের সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান মিলন, যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান প্রমুখ।