মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের কালাপাহাড় এলাকায় জঙ্গিদের নতুন আস্তানায় অভিযান চালিয়ে ছয় কেজি বিস্ফোরক ও ১৪ রাউন্ড পিস্তলের গুলি উদ্ধার করেছে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিসিটিসি) ইউনিট। গতকাল মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সিটিটিসি প্রধান মো. আসাদুজ্জামান। এ ছাড়া গত সোমবার কর্মধায় স্থানীয় জনতার হাতে আটক হওয়া জঙ্গি সংগঠন ‘ইমাম মাহমুদের কাফেলার’ ১৭ সদস্যের পরিচয় প্রকাশ করেছে সিটিটিসি ইউনিট। তাদের মধ্যে চিকিৎসক ও প্রকৌশলীও রয়েছেন।
গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মৌলভীবাজার পুলিশ লাইনসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন ‘অপারেশন হিলসাইডের’ সমাপ্তি ঘোষণা করেন সিটিটিসি প্রধান মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, সোমবার সকালে কুলাউড়ার কর্মধা ইউনিয়নের আছকরাবাদ বাজারে স্থানীয়রা ১৭ ব্যক্তিকে আটক করে।
এ খবর পাওয়ার পরপরই আমরা ঘটনাস্থলে যাই। আমাদের টিম গত শনিবার তাদের যে আস্তানায় অভিযান চালায়, আটক ব্যক্তিরা তাদের সহযোগী বলে আমরা নিশ্চিত হই। এরপর কর্মধা ইউনিয়নের কার্যালয় থেকে তাদের আমাদের হেফাজতে নিয়ে আসি। এরপর রাতভর জিজ্ঞাসাবাদ করে এক্সক্লুসিভ কিছু তথ্য পাই। এই কালাপাহাড়ে তাদের আরেকটি আস্তানা আছে বলে আমাদের জানায় তারা।
সিটিটিসি প্রধান আরও বলেন, আমরা ভোরে ওই আস্তানা সন্ধানের জন্য বের হই। দুর্গম প্রায় ২০টি পাহাড় পাড়ি দিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সক্ষম হই। সেখানে গিয়ে বিশেষায়িত ফোর্স অনুসন্ধান চালিয়ে দুটি ঘর থেকে ছয় কেজি এক্সক্লুসিভ (বিস্ফোরক), ১৪ রাউন্ড পিস্তলের গুলি উদ্ধার করে। এর আগে আটক হওয়া ‘ইমাম মাহমুদের কাফেলার’ সদস্যদের সঙ্গে ছিল নগদ ২ লাখ টাকা, দুটি বড় দা, ৯৫টি ডেটোনেটর।
সিটিটিসি প্রধান বলেন, আমরা ধারণা করছি এখানে ওই সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্ররা রয়েছে। তাদের মধ্যে ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ারও আছেন। যেহেতু তাদের জিজ্ঞাসাবাদে অনেক সময় ও কৌশলের প্রয়োজন হয়, তাই এই মুহূর্তে তাদের মূল পরিকল্পনা সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
গত সোমবার আটক ১৭ জন হলেনথ নাটোরের গাঁওপাড়ার জুয়েল মাহমুদ (২৮), সিরাজগঞ্জের পুরাবাড়ির সোহেল তানভীর রানা (৩০), কক্সবাজারের রামুর সাদমান আরেফিন ফাহিম (২১) মো. ইমতেজার হাসসাত নাবীব (১৯), যশোরের মোল্লাপাড়ার ফাহিম খান (১৭), পাবনার আতাইকোলার মো. মামুন ইসলাম (১৯), গাইবান্ধার চাদপাড়ার রাহাত ম-ল (২৪), জামালপুরের সোলাইমান মিয়া (২১), নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের আরিফুল ইসলাম (৩৪), বগুড়ার হাটশিপুরের মো. আশিকুল ইসলাম (২৯), পাবনার আতাইকুলার মামুন ইসলাম (২৬), ঝিনাইদহের ছয়াইলের তানভীর রানা (২৪), সাতক্ষীরার তালার জুয়েল শেখ (২৫), পাবনার আতাইকুলার রফিকুল ইসলাম (৩৮), পাবনার সাঁথিয়ার মো. আবির হোসেন (২০), মাদারীপুরের মেহেদী হাসান মুন্না (২৩) ও টাঙ্গাইলের কোয়েল (২৫)।
এর আগে ১২ আগস্ট সিসিটিসি ও সোয়াত কর্মধার পূর্ব টাট্রিউলি এলাকায় একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ইমাম মাহমুদের কাফেলার ১০ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে।