প্রথম বৈদ্যুতিক চার্জিং স্টেশনের যাত্রা শুরু

দেশে প্রথমবারের মতো বৈদ্যুতিক চার্জিং স্টেশনের (ইভি চার্জিং) যাত্রা শুরু হলো। এই চার্জিং স্টেশন থেকে ফাস্ট চার্জিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে একটি বৈদ্যুতিক গাড়ি ৪০ থেকে ৪৫ মিনিটে পুরোপুরি চার্জ করা সম্ভব হবে। ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) সহায়তায় অডি বাংলাদেশ-প্রোগরেস মোটর ইমপোর্টস লিমিটেড তেজগাঁওয়ে তাদের কার্যালয়ে এ ফাস্ট চার্জিং স্টেশন চালু করল।

প্রথম চার্জিং স্টেশনটি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উদ্বোধন করেন বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. হাবিবুর রহমান, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ¦ালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) চেয়ারম্যান মুনীরা সুলতানা, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিডেটের (ডিপিডিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী বিকাশ দেওয়ান, অডি বাংলাদেশ-প্রোগরেস মোটর ইমপোর্টস লিমিটেডের পরিচালক (অর্থ) মো. হাসিব উদ্দিন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিদ্যুৎ সচিব বলেন, ‘পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোতে এখন বৈদ্যুতিক গাড়ি ব্যবহার করে। আমাদেরও ক্রমান্বয়ে সেদিকে যেতে হবে।’ তিনি বলেন, ২০২৩ সালের মধ্যে ফসিল ফুয়েল থাকবে না। তখন ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল সর্বত্র চালু হবে। ২০৩৫ সাল নাগাদ বাংলাদেশের সব জায়গায় ইলেকট্রিক গাড়ি চলবে। জীবাশ্ম জ¦ালানির গাড়ি থাকবে না। উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সারা দেশে ইভি চার্জিং স্টেশন প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান বিদ্যুৎ সচিব। বিশেষ করে বিদ্যুৎ বিতরণের দায়িত্বে থাকা অন্যান্য কোম্পানিকেও চার্জিং স্টেশন স্থাপনের কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

অডি বাংলাদেশ-প্রোগরেস মোটর ইমপোর্টস লিমিটেডের পরিচালক (অর্থ) মো. হাসিব উদ্দিন বলেন, সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে তারা প্রথম চার্জিং স্টেশনটি চালু করেছেন। এ ক্ষেত্রে ডিপিডিসি সহযোগিতা করেছে। এ স্টেশনে অডি, টেসলা, জেনারেল মোটরস, মার্সিডিজ বেঞ্জ, এমজি মোটরসের মতো দামি গাড়ি চার্জ করা যাবে। তিনি আরও বলেন, ডিজেলে এক লিটারে গাড়ি চলে ১০ কিলোমিটার। সেখানে প্রতি কিলোমিটার খরচ পড়ে ১৩ টাকা। কিন্তু বৈদ্যুতিক চার্জে গাড়ি প্রতি কিলোমিটার আড়াই থেকে ২ টাকা ৯০ পয়সা খরচ পড়বে। অর্থাৎ জ¦ালানি তেলের তুলনায় অনেক কম খরচে আগামী দিনে বাংলাদেশে গাড়ি চলবে। সারা দেশে আরও অন্তত ১১টি চার্জিং স্টেশন স্থাপন করবে তাদের কোম্পানি এমন তথ্য তিনি জানান।

ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী বিকাশ দেওয়ান বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল (ইভি) চাজিং বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। সারা দেশে ইভি চাজিং স্টেশন স্থাপন হলে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলা ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে সবুজ জ¦ালানি পরিবহন ব্যবস্থা চালু হবে। কার্বনমুক্ত পরিবেশ হবে।