বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে মায়ের দেওয়া কিডনি সন্তানের দেহে সফলভাবে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই প্রথমবারের মতো সন্তানের দেহে মায়ের কিডনি প্রতিস্থাপন করল হাসপাতালটি।
গতকাল বৃহস্পতিবার সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের ৬ষ্ঠ তলায় কিডনি দাতা মা ও গ্রহীতা মেয়েকে ছাড়পত্র প্রদান উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিএসএমএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ এই কিডনি প্রতিস্থাপনের তথ্য জানান। অনুষ্ঠানে কিডনি গ্রহীতা মেয়ে ও দাতা মাকে কেক কেটে হাসপাতাল থেকে বিদায় জানানো হয়
এ সময় উপাচার্য বলেন, দেশের রোগী যেন বাইরে না যায়, সে লক্ষ্যে বিএসএমএমইউ ও সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল কাজ করছে। দেশের মানুষ ট্রান্সপ্ল্যান্ট বিশেষ করে কিডনি, লিভার, কর্নিয়া ট্রান্সপ্ল্যান্টের জন্য বিদেশে যান। এ ছাড়া ক্যানসার, ইনফার্টিলি, জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট, আর্থোস্কপিক, স্টেমসেল থেরাপি, রোবটিক সার্জারি, বোনম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট, হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যান্ট করতেও বিদেশে যান। সব চিকিৎসা সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে শুরু করতে চাই। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল থেকে জানানো হয়, ফরিদপুরের বাসিন্দা ১৭ বছরের শ্রাবণী দীর্ঘদিন ধরে কিডনি ফেইলর হয়ে অসুস্থ ছিলেন। তার মা ৪৫ বছর বয়সী মনোয়ারা মেয়েকে বাঁচাতে এগিয়ে এসে নিজের একটি কিডনি দান করার সম্মতি দেন। কিডনি দাতা ও গ্রহীতার সব আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর গত ১ আগস্ট বিএসএমএমইউর সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়। কিডনি প্রতিস্থাপনে নেতৃত্ব দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউরোলজি বিভাগের রেনাল ট্রান্সপ্ল্যান্ট ইউনিটের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুর রহমান দুলাল
এ ছাড়া অ্যানেসথেসিয়া বিভাগের অধ্যাপক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন ডা. দেবব্রত বণিক, চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. দেবাশীষ বণিক, শিশু কিডনি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. আফরোজা বেগম, ইউরোলজি বিভাগের রেনাল ট্রান্সপ্ল্যান্ট ইউনিটের অধ্যাপক ডা. তৌহিদ মো. সাইফুল হোসেন দিপু, সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফারুক হোসেনসহ ৩১ জন চিকিৎসক এই কিডনি প্রতিস্থাপনে অংশ নেন।