রাজধানীর আজিমপুর থেকে অস্ত্র, গুলিসহ ছাত্রদলের ছয় নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার রাতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তরফ থেকে পাঠানো এক খুদে বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। আজ রবিবার ডিএমপি সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
গতকাল বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর দেওয়া এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়, গত শুক্রবার গভীর রাতে ছাত্রদল নেতা মমিনুল ইসলাম জিসান তার আজিমপুরের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন। মমিনুল ইসলামের খোঁজ নেওয়ার জন্য আজিমপুরে তার বাসার সামনে গেলে বাকি পাঁচজনকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। রিজভী বলেন, ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মমিনুল ইসলাম বেলা ১১টায় তার আজিমপুরের বাসা থেকে বের হন। তখন থেকে খবর পাওয়া যাচ্ছে না। তার খোঁজ নেওয়ার জন্য মমিনুল ইসলামের বাসার সামনে গেলে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহসাধারণ সম্পাদক শাহাদত হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সহসভাপতি মো. হাসানুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল রিয়াদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের এফ রহমান হল শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দীন মোহাম্মদ বাবরকে সাদাপোশাকধারী লোকেরা তুলে নিয়ে যায়।
বিবৃতিতে রিজভী বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের বেআইনিভাবে আটকের পর তা অস্বীকার করা এখন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এ ধরনের অমানবিক ঘটনা প্রতিদিন ঘটছে। আটকের পর অস্বীকার করাটা অবৈধ আওয়ামী সরকার বিরোধী দল নিধনে মোক্ষম অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে।
তবে গতকাল এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মশিউর রহমান বলে ছিলেন, তারা ছাত্রদলের কাউকে গ্রেপ্তার করেননি। অবশ্য গতকাল রাতে লালবাগ থানার ওসি খোন্দকার হেলালউদ্দীন ওই ছয়জনকে আটকের কথা জানান। তিনি জানান, তারা ডিবি হেফাজতে আছেন। তাদের আজ রাতেই থানায় নিয়ে আসা হবে।
এর আগে বিএনপির পক্ষ থেকে ছাত্রদলের ওই ছয় নেতাকে ‘তুলে নেওয়ার’ অভিযোগ করা হলেও তা অস্বীকার করেছিল পুলিশ। পরে বিকেলে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পদযাত্রা অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন, আগামী ছয় ঘণ্টার মধ্যে তাদের জনগণের সামনে হাজির না করলে, মুক্তি না দিলে সব দায় সরকারকে নিতে হবে। পরে গতকাল রাতে ডিএমপি ও লালবাগ থানা পুলিশ তাদের গ্রেপ্তারের তথ্য জানায়।
এদিকে গতকাল রাতে সাড়ে ১১টার দিকে রিজভী দাবি করেছেন, কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় ডিবি স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি ডা. জাহেদুল কবীর, ছাত্রদলের সহসাংগঠনিক আরিফ সরকারসহ ছয়-সাতজনকে ধরে নিয়ে গেছে। তিনি বলেন, অফিসের নিচে এখনো ডিবি ও থানা পুলিশ আছে। তবে ডিবির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে বলা হয়েছে, তারা পল্টন থেকে কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করেনি।