সড়কের কাজ শেষ না করেই চূড়ান্ত বিল অনুমোদন

সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ-রাজনগর-মৌলভীবাজার সড়ক মেইনটেন্যান্স (রক্ষণাবেক্ষণ) কাজে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি শেষ না করেই চূড়ান্ত বিল অনুমোদন হয়েছে। অনুমোদিত বিলের ৬ কোটি টাকার মধ্যে ইতিমধ্যে দেড় কোটি টাকা ঠিকাদারকে পরিশোধ করেছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ, সিলেট। তহবিলপ্রাপ্তি সাপেক্ষে বাকি টাকা উত্তোলন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সূত্র জানায়, সিলেট সড়ক সার্কেলের সদ্য বিদায়ী তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী উৎপল সামন্ত এখানে কর্মরত থাকাকালে তার স্বাক্ষরেই চূড়ান্ত বিল অনুমোদন হয়েছে। একটি বিশেষ সম্পর্কের জোরে কাজ শেষ না করেই চূড়ান্ত বিল অনুমোদন করে নিয়েছেন জয়দ্বীপ দে পার্থ নামের একজন ঠিকাদার। উৎপল সামন্তের সঙ্গে এই জয়দ্বীপের ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। প্রকল্পের কাজ খাগড়াছড়ির এস অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পেলেও তা বাস্তবায়ন করেছেন জয়দ্বীপ দে পার্থ ও শফিকুল ইসলাম। অভিযোগ রয়েছে, কাজটি যথাযথ নির্দেশনামতো না করে এবং একাংশ অসম্পূর্ণ রেখেই এখন বিলের টাকা পকেটে ভরা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে সওজ সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, গত অর্থবছরে আংশিক বিল পরিশোধ হয়েছে। চলতি অর্থবছরে কোনো অর্থ ছাড় হয়নি। কাজ এখনো বাকি রয়েছে। যথাযথভাবে কাজ শেষ করার পরই বিল পরিশোধ করা হবে।

সওজ ও একাধিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সূত্র জানায়, সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ-রাজনগর-মৌলভীবাজার সড়কের রক্ষণাবেক্ষণ কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এস অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা। গত বছরের ২১ অক্টোবর কাজের উদ্বোধন করেন সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা-ফেঞ্চুগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব। ২০২১-২২ অর্থবছরের এ কাজ চলতি বছরের জুনের মধ্যে শেষ করার কথা। কিন্তু এখনো কাজ শেষ হয়নি। নির্দেশনামতো কাজও হয়নি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের অনেক জায়গায় এখনই ফাটল দেখা দিয়েছে। ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ঠিকাদার জানান, যোগসাজশে এখানে দায়সারা কাজ হয়েছে। যেভাবে কাজ করার কথা, সেভাবে করা হয়নি। সওজ সিলেট সার্কেলের সদ্য সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী উৎপল সামন্তের সঙ্গে সম্পর্কের খাতিরে জয়দ্বীপ দে পার্থ এসব কাজ করে ইতিমধ্যে চূড়ান্ত বিলও অনুমোদন করে নিয়েছেন। 

২০২১ সালে সিলেটের কানাইঘাটে একটি সেতু ও সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে দুটি সড়ক নির্মাণে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী উৎপল সামন্ত পছন্দের লোক দিয়ে কাজ করান। এসব কাজও নিম্নমানের হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। উৎপল সামন্ত ও তার বন্ধু জয়দ্বীপ দে পার্থ মিলে সিলেট সওজে নানা অনিময়-দুর্নীতি করেছেন বলেও ওই সময় একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়।