ব্রিকসের ১৫তম শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে আগামীকাল মঙ্গলবার দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি সেখানে সম্মেলনে যোগদানের পাশাপাশি একাধিক সদস্য দেশের সরকারপ্রধান অথবা রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন।
গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। তিনি বলেন, ‘এ (দ্বিপক্ষীয় বৈঠক) বিষয়টি এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে, অবশ্য এ ধরনের বৈঠকের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসে শেষ মুহূর্তে। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’ দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসার আমন্ত্রণে জোহানেসবার্গে যাচ্ছেন শেখ হাসিনা। ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকাÑ এই পাঁচ দেশের অর্থনৈতিক জোট ব্রিকস নামে পরিচিত।
প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম এবং পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ব্রিকসের সদস্যদেশগুলো ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানরা ওই সম্মেলনে অংশ নেবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।
এ বছর বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিকসে যোগদানের বিষয়ে ইচ্ছা ব্যক্ত করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, বৈশি^ক অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা এবং উন্নয়নমূলক সহযোগিতার লক্ষ্যে দক্ষিণ এশিয়া থেকে বাংলাদেশ, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে ইন্দোনেশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য থেকে তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, ইরান, সৌদি আরব এবং সিরিয়াসহ পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের ২০টিরও বেশি দেশ ব্রিকস জোটে যোগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
গত জুনে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠকে ব্রিকসে নতুন সদস্যপদ নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট বলেছেন, তারা সদস্যসংখ্যা বাড়াতে চান এবং তারা চিন্তাভাবনা করছেন যে আরও কয়েকটি, আমার যদি ঠিক মনে থাকে ৮টি দেশের কথা বলেছেন। এখন দেখছি যে ২২টির মতো দেশ আগ্রহ প্রকাশ করেছে। কিন্তু তিনি মনে হয় বলেছেন, ৮টির মতো বাড়াতে চাইছেন এবং আমাদের কথা চিন্তাভাবনা করছেন।’
বিশ্ব নেতাদের মধ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এ সপ্তাহে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর জোহানেসবার্গ সফর প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সফরকালে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত ব্যস্ত সময় কাটাবেন। শেখ হাসিনা ২৩ আগস্ট বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ও বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (বিআইডিএ) যৌথ আয়োজনে ‘বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড বিজনেস সামিট’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন। প্রধানমন্ত্রী আফ্রিকার দেশগুলোতে থাকা বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূতদের আয়োজনে ‘রিজিওনাল এনভয়েস কনফারেন্স’ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। একই দিন প্রধানমন্ত্রীর দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্টসহ ব্রিকস সদস্য কয়েকটি দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী সন্ধ্যায় ব্রিকসের বর্তমান সভাপতি এবং দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসার আমন্ত্রণে ‘রাষ্ট্রীয় ভোজসভায়’ অংশ নেবেন।
প্রধানমন্ত্রী ২৪ আগস্ট ‘নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক অব ব্রিকস’ এবং ‘ব্রিকস-আফ্রিকা আউটরিচ অ্যান্ড দ্য ব্রিকস প্লাস ডায়ালগের’ নতুন সদস্য হিসেবে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেবেন। ৭০টি দেশের প্রতিনিধিরা সেখানে উপস্থিত থাকবেন। প্রধানমন্ত্রী একই দিন সন্ধ্যায় দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মিলিত হবেন।
এই সফরকালে ‘নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের’ প্রধান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে ‘ব্রিকস-আফ্রিকা আউটরিচ অ্যান্ড দ্য ব্রিকস প্লাস ডায়ালগ’ অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেবেন।
প্রধানমন্ত্রীর ২৬ আগস্ট দেশের উদ্দেশে জোহানেসবার্গ ত্যাগ করার কথা রয়েছে।