বিশ্বমানের ভ্যাকসিন আমরাই তৈরি করব

অধ্যাপক ডা. এহসানুল কবির জগলুল। ব্যবস্থাপনা পরিচালক, এসেনসিয়াল ড্রাগ্স কোম্পানি লিমিটেড (ইডিসিএল)। বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চর্মরোগ বিভাগের প্রধান। স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সহসভাপতি। চিকিৎসক হলেও আগাগোড়া রাজনৈতিক চরিত্রের এই মানুষটি এসেছিলেন দেশ রূপান্তরে। তার সঙ্গে জমে উঠেছিল, বাহারি কথার অন্য রকমের এক আড্ডা। সেই খোলামেলা আড্ডায় আসর জমিয়েছিলেন বিশেষ প্রতিনিধি প্রতীক ইজাজ, মো. হারুনের রশীদ (জিএম, সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং) এবং সহকারী সম্পাদক তাপস রায়হান।

আড্ডা তো আড্ডাই। একেবারে ভিন্ন চরিত্রের। হা হা, হো হো হাসির রোল ডা. এহসানুল কবির জগলুলের একটি কথা প্রসঙ্গে। শুরু করলেন, প্রতীক ইজাজ। মিষ্টি হেসে বললেন আজকের আড্ডাটা একবারেই আলাদা। মুখ তার ডা. এহসানুল কবির জগলুলের দিকে। কথা চলছে। তিনি বলছেন সমাজের বিভিন্ন স্তরে যে মানুষ নিবিড়ভাবে জড়িত, তাকে আমরা আজ পেয়েছি। একজন চিকিৎসক, পেশাজীবী নেতার গন্ডি পেরিয়ে একজন রাজনীতিক হয়ে উঠেছেন। যদিও রাজনীতিতে তিনি সক্রিয় সেই ছাত্রজীবনে থাকতেই। যখন তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্র। রাজনীতিতে ছাড় দেওয়ার যে বিষয়টি থাকে, তা যেন বর্তমানে উঠেই গেছে। সেক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। ত্যাগী এই রাজনীতিক প্রার্থী হয়েছিলেন লক্ষ্মীপুর-২ আসন থেকে। পরবর্তী সময়ে দলীয় হাইকমান্ডের পরামর্শে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন।

 অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করেছেন করোনা পরিস্থিতি। বর্তমানে চলছে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা। এক্ষেত্রেও প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি। দেশের একমাত্র সরকারি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এসেনসিয়াল ড্রাগ্স কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন।

প্রতীক ইজাজ :  এখন তো ডেঙ্গুর সময়। এমন সংকটময় অবস্থায় একমাত্র এসেনসিয়াল ড্রাগ্স কেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে স্যালাইন সংকট দূর করে, সরবরাহ নিশ্চিত করার। এ বিষয়ে আপনার ভূমিকাই অগ্রগণ্য। পরিস্থিতিটা কীভাবে মোকাবিলা করছেন?

ডা. এহসানুল কবির জগলুল : আসলে দেখেন, আমরা কিন্তু প্রথম থেকেই বলে আসছি, প্রিভেনটিভ ইজ বেটার দ্যান কিওর। এখন যে রোগের মধ্যে আছি, সেই ডেঙ্গুর জীবাণু আসছে কোত্থেকে? সবকিছু বিবেচনা করলে, ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে একটা সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সেই প্রয়োজনটা কেমন? খুবই সাধারণ একটা বিষয়। সেটা কী? মশা নিধন। আপনি যদি মশা নিধন না করতে পারেন, তাহলে কিন্তু শুধু চিকিৎসা দিয়ে এটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা কঠিন। একটা কথা বলি, ধুলাবালিতে গেলে আপনার হাঁপানি হয়। এখন আপনি কী করবেন? ওষুধ খাবেন নাকি ধুলাবালি থেকে নিজেকে দূরে রাখবেন? এর জন্য তো আপনাকে মাস্ক পরতে হবে। আর ওষুধ খেলে আপনার শরীরের ইমিউনিটি কমে যাবে। মেন্টালি ডিসটার্বড থাকবেন। তাহলে করণীয় একটাই। ধুলাবালি থেকে দূরে থাকতে হবে।

এখন আমার মূল দায়িত্ব হলো, এসেনসিয়াল ওষুধগুলো নিশ্চিত করা। ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন (হু) প্রায় ৩০০ ধরনের ওষুধকে এসেনসিয়াল ড্রাগ্্স হিসেবে চিহ্নিত করেছে। কিন্তু আমরা প্রায় ১৫০টি ওষুধ প্রস্তুত করতে পারছি। এখনো ১৫০টি কম রয়েছে। অবশ্য প্রাইভেট কোম্পানিগুলো অধিকাংশই করছে। কিন্তু আমরা না। তবে আমরা জরুরি চাহিদাসম্পন্ন ওষুধ ঠিকই দিতে পারছি। সেখানে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। সব দেশের তো আর একই ওষুধ জরুরি না। আফ্রিকার জন্য এক রকম আবার ইউরোপের জন্য আরেক রকম। আমাদের আবার আরেক রকম। সরকার কিন্তু বিনা পয়সায় সব হাসপাতালে ওষুধ দিচ্ছে।

তাপস রায়হান : এই ওষুধ কোম্পানির বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা কেমন? সরকার কি এখনো ভর্তুকি দিচ্ছে?

ডা. এহসানুল কবির জগলুল : একেবারেই না। এখন আরও লাভে রয়েছে। আমাদের প্রতিবছর সেল হচ্ছে প্রায় ১২০০ কোটি টাকা। লাভ হচ্ছে ১১০-১২০ কোটি টাকা। আগে কিন্তু এর চেয়ে অনেক কম হতো। মনে রাখতে হবে, আমরা কিন্তু ওপেন মার্কেটে ব্যবসা করছি না। সরকারের কাছ থেকে পাচ্ছি ৪০০ কোটি। আর বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে পাচ্ছি ৮০০ কোটি। এখানে সেনাবাহিনী রয়েছে, পুলিশ বাহিনী রয়েছে, কারা কর্তৃপক্ষ রয়েছে। তারা এখান থেকেই ওষুধ নিচ্ছে। এ ছাড়া বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল তো আছেই।  আমাদের কোম্পানির ওষুধ কিন্তু বিশ্বমানের।

প্রতীক ইজাজ : আবার স্যালাইন বিষয়েই আসি। এর সংকট বিষয়ে। আমরা এ রকমও শুনেছি, সরকারকে স্যালাইন দিতে গিয়ে, বাজারে স্যালাইনের সংকট দেখা  দিয়েছে। এই সংকট সমাধানের বিষয়ে কী বলবেন?

ডা. এহসানুল কবির জগলুল : একটা বিষয় পরিষ্কার করা দরকার। আমরা কিন্তু সরাসরি স্যালাইন উৎপাদন করছি না। আমরা বাজার থেকে সংগ্রহ করে চাহিদা পূরণ করছি। আগামী মাস থেকে স্যালাইন উৎপাদনে যাব। গোপালগঞ্জে ফ্যাক্টরির কাজ শেষের পথে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা বিভিন্ন বেসরকারি ওষুধ কোম্পানির কাছ থেকে স্যালাইন কিনে চাহিদা মেটাচ্ছি। আগামী মাস থেকে আর স্যালাইন কিনতে হবে না। হঠাৎ করে স্যালাইনের ডিমান্ড বেড়ে গেছে। এখানে কিন্তু একটা বিষয় সবার জানা প্রয়োজন।

একটা ওষুধ প্রস্তুত করার পরপরই রোগীকে দেওয়া যায়। রোগী সেটা খেতেও পারেন। স্যালাইন কিন্তু তা নয়। এটি প্রস্তুত করার পর, কমপক্ষে ১৫ দিন অবজার্ভেশনে রাখতে হয়। এরপর রোগীর শরীরে পুশ করা হয়। কারণ এর সঙ্গে সরাসরি রক্তের একটা সম্পর্ক রয়েছে। আজ যদি কেউ ৫ লাখ স্যালাইন চায়, তাহলে তাকে দেওয়ার পর আগামী ১৫ দিন পর কিন্তু আবার দেওয়া যাবে। এর আগে না। মধ্যবর্তী সময়ে একটু সমস্যা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে হবে না। নতুন ফ্যাক্টরিতে উৎপাদন শুরু হবে। আর এই সমস্যাটা কিন্তু সরকারি হাসপাতালের না, প্রাইভেট হাসপাতালগুলোর জন্য অবশ্য এটা বড় সমস্যা। আবার আমরা যদি স্যালাইন আমদানি করি, তাহলে স্যালাইনের দাম বেড়ে যাবে তিনগুণ।

তাপস রায়হান : আপনি একই সঙ্গে একজন চিকিৎসক, রাজনীতিবিদ, সংগঠক। এই তিনটার সমন্বয় কীভাবে করছেন?

ডা. এহসানুল কবির জগলুল : হা হা হা। এটা একটা কঠিন প্রশ্ন। আরও কিছু আছে। আমি একটা বই লিখতেছি, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক। একটা চলচ্চিত্র নির্মাণেরও ইচ্ছা আছে। আমি তো মুক্তিযুদ্ধে জড়িত ছিলাম। সেই ৯ মাসের অভিজ্ঞতা নিয়েই কাহিনি। নাম এখনো চূড়ান্ত হয়নি। প্রাথমিকভাবে নাম রেখেছি  একটি কিশোর ও একাত্তর সাল। এটা অনুদানের জন্য আবেদন করব। আমার চোখে দেখা সেই যুদ্ধদিনের কথাগুলো নিয়েই কাহিনি।

(শুরু হলো বিরতি। ডা. এহসানুল কবির জগলুলের সঙ্গে অব দ্য রেকর্ড অনেক কথা হচ্ছিল। তিনি হাসছিলেন, হো হো করে। সঙ্গে প্রতীক ইজাজ এবং আমরা। সে এক প্রাণবন্ত আড্ডা। হঠাৎ ডিজিটাল থেকে ভেসে এলো, লিটু হাসানের কথা। তিনি বললেন, এখন কি লাইভ শুরু হবে? ডা. এহসানুল কবির জগলুল বললেন আমরা রিয়াল আড্ডা মারতেছি। ছবি তোলার জন্য আড্ডা মারতেছি না। সব কিন্তু আবার লেইখেন না! হ, শুরু করেন।)

প্রতীক ইজাজ : এখন যেটা হচ্ছে...

(তাকে থামিয়ে দিলেন, ডা. এহসানুল কবির জগলুল)। বললেন এখন স্যালাইনের বিষয়টা আরেকটু পরিষ্কার করি। দেখেন, প্রতিবছর স্যালাইনের ডিমান্ড ছিল, ৮০ লাখ। এখন মাত্র ২ মাসে অলরেডি ৩০ লাখ ক্রস করে গেছে। আসলে ডেঙ্গুতে স্যালাইনটা হলো এসেনসিয়াল। আমার মনে হয়, সরকার মেডিকেল সেক্টরটা ভালো মতো নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে। আমি তো বিষয়টা জানি। আপনি যদি এখন বাংলাদেশ মেডিকেল হাসপাতালে যান  দেখবেন, কী অবস্থা! কোনো জায়গা পাবেন না। তবে স্যালাইনের যে সমস্যাটা ছিল, সেটা কভার হয়ে গেছে।

প্রতীক ইজাজ : আপনি ভ্যাকসিনের কথা বলছিলেন। গোপালগঞ্জে যে প্ল্যান্টটা হচ্ছে সেটা তো দেশের জন্য একটা সুখবর!

ডা. এহসানুল কবির জগলুল : শোনেন, এটা শুধু সুখবর না। বিস্ময়কর সংবাদ। আমাদের দেশে করোনা শুরু হয়, সম্ভবত ২০২০ সালের শুরু দিকে। ২০২০ সালের শেষ দিকে রাতে আমাকে ফোন করলেন, ডিজি হেলথ। বললেন জগলুল ভাই, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রায় ২০ মিনিট কথা হলো। কথা প্রসঙ্গে তিনি বললেন আচ্ছা, এই ভ্যাকসিন কি আমরা প্রস্তুত করতে পারি না? আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বললাম হ্যাঁ, পারি। তখন তিনি বললেন, তুমি একটা কাজ করো। এই দায়িত্বটা এসেনসিয়াল ড্রাগ্্সকে দাও। আর জগলুলকে আমার কথা বলবা। সে যেন এই বিষয় নিয়া কাজ শুরু করে। আর কোন জায়গায় করবে, এটা নিয়ে যেন সে আমার সঙ্গে কথা বলে। আমার সঙ্গে সে যেন যোগাযোগ রাখে।

একটা দেশের সরকারপ্রধান ২০২০ সালে চিন্তা করেছেন, আমাদের দেশে ভ্যাকসিন তৈরি করতে হবে! বিষয়টা একটু গভীরভাবে চিন্তা করেন। যাই হোক, এ এক দীর্ঘ আলোচনা। তখন থেকেই আমরা কাজ শুরু করলাম। বিভিন্ন  আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে আলোচনা শুরু করলাম। জুম মিটিং হলো অনেকের সঙ্গে। যাই হোক, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি তত্ত্বাবধানে আমাদের কাজ শুরু হলো। গোপালগঞ্জের সাড়ে ৬ একর জায়গা নিয়ে গুনাপাড়ায় শুরু হলো, ফ্যাক্টরি তৈরির কাজ। সেখানে তিনটা ধাপে ভ্যাকসিন তৈরি হবে। এখানে এডিবি দিচ্ছে ২৫০ মিলিয়ন ডলার। আর বাংলাদেশ সরকার দিচ্ছে ৫০ মিলিয়ন। ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রোফাইল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। এটা একনেকে আগামী মাসে পাস হয়ে যাবে। এডিবির সঙ্গে আমাদের নিয়মিতভাবে মিটিং হচ্ছে। ওরা আমাদের প্রতি খুবই কনফিডেন্ট। আগামী বছর থেকেই এর কাজ শুরু হবে। ইনশাল্লাহ, এরপর আর কোনো কিছু নিয়ে সমস্যা হবে না। এটা নিয়ে আমাদের অনেক পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৬ সালের মধ্যে কী হবে, ২০২৯ সালে কী হবে সব ঠিক করা রয়েছে। সবশেষে এখানে শুরু হবে রিসার্চ ওয়ার্ক। আমরা পরিকল্পনামাফিকই অগ্রসর হচ্ছি।

তাপস রায়হান : আমরা একটু অন্য বিষয়ে আসি। শুনেছি, আগামী সংসদ নির্বাচনে আপনি অংশগ্রহণ করছেন?

ডা. এহসানুল কবির জগলুল : আসলে আমি পারিবারিকভাবেই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ছাত্রজীবন থেকেই সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। সেই ’৬৯ সাল থেকেই আমি রাজনীতি করে আসছি। মুক্তিযুদ্ধ করেছি। ফলে আমার ভেতরে তো সেটা আছেই। দেখা যাক, কী হয়? ইচ্ছা তো আছেই।

প্রতীক ইজাজ : গত নির্বাচনে আপনি নমিনেশন পাওয়ার পরও স্যাক্রিফাইস করেছেন।

ডা. এহসানুল কবির জগলুল : অনেক দিন প্রচারণাও চালিয়েছিলাম। (মো. হারুনের রশীদের দিকে তাকিয়ে হেসে বললেন তিনি আমার সঙ্গে যায় নাই বলে, হয় নাই। হা হা হা। এই কথা শুনে মো. হারুনের রশীদও মুচকি হাসলেন।)

মো. হারুনের রশীদ হাসতে হাসতে বললেন আসলে, তা না। আমি তখন মাত্র দৈনিক বর্তমানে জয়েন করেছি। যে কারণে এলাকায় যাওয়া হয়নি। আর কিছু না।

পরে আর কী? নেত্রী বললেন। ওবায়দুল কাদের ভাই বললেন। এরপর তো আর থাকা যায় না। ব্যস, উইথড্র করলাম। কিন্তু এবার করব। বাকিটা আল্লাহ জানেন। তবে এটা বলব একটা কিছু হবে, ইনশাল্লাহ!

তাপস রায়হান : মনে করুন, আপনি জেনে গেলেন আর বাঁচবেন না। ঠিক মৃত্যু মুহূর্তে আফসোস হবে কোন বিষয়ে?

ডা. এহসানুল কবির জগলুল : আল্লাহর কাছে, লাখো কোটি শুকরিয়া। আমি একজন তৃপ্ত মানুষ। কোনো আফসোস নেই। তবে একটা ইচ্ছা আছে। আমি আব্বার নামে একটা ট্রাস্ট বানাব। সেখানে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং সামাজিক বিষয় থাকবে। এই চারটা লক্ষ্য নিয়েই কাজ করে যাচ্ছি। আর আফসোসটা থাকবে, আমি গণমানুষের কোনো সেবা করতে পারলাম না। আর কিছু না। আসলে প্রতি মুহূর্তে বেঁচে থাকাটাই তো আশ্চর্যের। আর মানুষের ইচ্ছা বা আফসোসের কি শেষ আছে? একটা পূর্ণ হলেই আরেকটা ইচ্ছা দানা বাঁধে। এ খেলা নিরন্তর, এটাই জীবন। এই ভালো-মন্দ, আশা-নিরাশা, স্বপ্ন-দুঃখ, প্রাপ্তি আর অপ্রাপ্তিই তো জীবন। এভাবেই আমরা চলছি...।  

গ্রন্থনা : তাপস রায়হান

ছবি : আবুল কালাম আজাদ

লোকেশন : গ্রিন লাউঞ্জ

একনজরে

নাম : অধ্যাপক ডা. এহসানুল কবির জগলুল

মা : মরহুমা মাহবুবা হাই

বাবা : মরহুম ডা. আবদুল হাই (ভাষাসৈনিক)

জন্ম : ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (১ এপ্রিল, ১৯৫৬)

পড়াশোনা : এসএসসি ১৯৭২, সেন্ট যোসেফ হাই স্কুল, ঢাকা

এইচএসসি : ১৯৭৫, নটর ডেম কলেজ, ঢাকা

এমবিবিএস : ঢাকা মেডিকেল কলেজ

ডি/ভি.ভি : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

ফেলোশিপ : আলাবামা বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাষ্ট্র

স্ত্রী : রেহানা খানম (সহযোগী অধ্যাপক, বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ)

সন্তান : ৩ (২ মেয়ে, ১ ছেলে)

সহসভাপতি : বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, লক্ষ্মীপুর

সহসভাপতি : স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ)

কার্যকরী সদস্য : বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ)

সাবেক সভাপতি : বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ শাখা