তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, রোহিঙ্গাদের কানাডা বা ইউরোপে পাঠানো কোনো সমাধান নয়। বরং মিয়ানমারে পূর্ণাঙ্গ নাগরিক অধিকার, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনই হলো রোহিঙ্গা সমস্যার একমাত্র সমাধান।
গতকাল শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘জেনোসাইড অ্যান্ড জাস্টিস : বাংলাদেশস রেসপন্স টু দ্য রোহিঙ্গা ক্রাইসিস’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ঢাবির সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজ এ সেমিনারের আয়োজন করে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে প্রায় সব ধরনের অপরাধ কাজ সংঘটিত হয়ে থাকে। জঙ্গিবাদ দমনে অনেক উন্নত দেশ থেকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সফল হয়েছে। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ক্যাম্পগুলো ধর্মান্ধতার প্রজনন স্থান হয়ে উঠেছে। ধর্মান্ধ গোষ্ঠীগুলোর লোকবল সংগ্রহের একটি জায়গা হয়ে উঠেছে এই ক্যাম্পগুলো। এটি অনেক বড় সমস্যা।
এটি শুধু বাংলাদেশের জন্য সমস্যা নয়, পুরো অঞ্চলের জন্য সমস্যা।’
রোহিঙ্গা সমস্যার দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমাধান জরুরি উল্লেখ করে নাগরিক অধিকার ও মর্যাদাসহ রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানান ড. হাছান মাহমুদ।
রোহিঙ্গাদের নিরাপদে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্রে সহায়তা দেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে যে চাপ বার্মার ওপর প্রয়োগ করা প্রয়োজন সেই চাপ আমরা দেখছি না। এখানে চীনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ভারতের সঙ্গেও কথা বলেছি তারাও মিয়ানমারকে বোঝানোর চেষ্টা করছে।’
অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি হয়তো কূটনৈতিক সমাধানের কথা চিন্তা করছে না। তারা ভিন্ন কোনো সমাধান চায়। তবে আমরা শান্তিপূর্ণ সমাধান চাই। কিছুদিন আগেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বড় অগ্রগতি হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।’
বক্তব্যে ঢাবি উপাচার্য ড. মো. আখতারুজ্জামান রোহিঙ্গাদের অবিলম্বে দেশে ফেরত নিতে মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগের জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান। এ সময় রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে কার্যকর উপায় বের করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজের পরিচালক অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাবির আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. জামিলা এ চৌধুরী। এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে ঢাবির সামাজিকবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. জিয়া রহমান, ইউএনএইচসিআর-এর প্রতিনিধি জোহানেস ভ্যানডার ক্ল্যাও, নিরাপত্তা বিশ্লেষক এয়ার কমোডর (অব.) ইশফাক এলাহী চৌধুরী, মাইগ্রেশন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনির ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সিপিজে (গবেষণা)-এর পরিচালক ড. এম সঞ্জীব হোসেন প্যানেল আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন।