রাশিয়ায় গত বুধবার উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের ঘটনায় ভাড়াটে সেনাদল ওয়াগনারের প্রধান ইয়েভগেনি প্রিগোজিনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন রুশ তদন্তকারীরা। গতকাল রবিবার রাশিয়ার তদন্ত কমিটি জানায়, উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে মারা যাওয়া ১০ আরোহীর জেনেটিক পরীক্ষার ফলাফলে তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। এদের মধ্যে আছেন ওয়াগনার প্রধান ইয়েভগেনি প্রিগোজিন।
গত সপ্তাহে বুধবার মস্কো থেকে সেন্ট পিটার্সবার্গ যাওয়ার পথে তিভিয়ের অঞ্চলে বিধ্বস্ত হওয়া ব্যক্তিগত জেটপ্লেনটির যাত্রী তালিকায় প্রিগোজিনের নাম ছিল। উড়োজাহাজটির আরোহীরা সবাই মারা গেছে বলে রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছিল। রাশিয়ার তদন্ত কমিটি তাদের টেলিগ্রাম অ্যাপে এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘তিভিয়ের অঞ্চলে উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের ঘটনা তদন্তের অংশ হিসেবে মলিকুলার-জেনেটিক পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে। এই পরীক্ষার ফলে নিহত ১০ জনেরই পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। যাত্রী তালিকায় যাদের নাম ছিল তাদের সঙ্গে এর মিল পাওয়া গেছে।’
প্রিগোজিনের উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের পর বিশ্ব জুড়ে রীতিমতো হইচই শুরু হয়। তৈরি হয়েছিল ধোঁয়াশা। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনই উড়োজাহাজ ধ্বংসের নির্দেশ দিয়েছেন, পশ্চিমারা এমন অভিযোগ তোলে। তবে রুশ প্রেসিডেন্টের দপ্তর থেকে বলা হয়, ‘প্রিগোজিনকে হত্যা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে’ বলে যেসব কথা বলা হচ্ছে, সেগুলো ‘মিথ্যা’। অবশ্য ওয়াগনার প্রধান প্রিগোজিনের প্রতি প্রেসিডেন্ট পুতিনের ক্ষোভ ছিল। কারণ মৃত্যুর মাত্র দুই মাস আগে তিনি রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে নিজের ২৫ হাজার সেনা নিয়ে বিদ্রোহ করেছিলেন। ওই বিদ্রোহে রুশ বাহিনীর যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছিল ওয়াগনার সেনারা।
আবার প্রিগোজিন সত্যিই মারা গেছেন কি না, তা নিয়ে সামান্য সংশয়ও ছিল। যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছিল, প্রিগোজিন যে উড়োজাহাজটিতে ছিলেন, তেমন অকাট্য কোনো প্রমাণ তাদের হাতে ছিল না। রুশ তদন্তকারীদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে অবশেষে নিশ্চিত হলো প্রিগোজিন মারা গেছেন।