আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন। আগামী বছরের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে এখনো ভোটগ্রহণের তারিখ ঠিক করা হয়নি। গতকাল শনিবার প্রথম ধাপে প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষক (টিওটি) কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এ সময় চার নির্বাচন কমিশনার ও ইসি সচিব উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আসন্ন। কাজেই প্রস্তুতি প্রয়োজন। যারা নির্বাচন পরিচালনা করবেন, তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে উপযুক্ত করা হবে। নয় লক্ষাধিক নির্বাচনী কর্মকর্তা নির্বাচনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হবেন।
তিনি বলেন, ‘রিটার্নিং অফিসারের যে দায়িত্ব ও ক্ষমতা, আমি বলব বর্ধিত করা হয়েছে এবং দায়িত্বপূর্ণ করা হয়েছে।’
সিইসি বলেন, ‘আমাদের সার্থকতা হবে একটি অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করতে পারলে। এর সঙ্গে আরেকটি বিষয়যুক্ত হয়েছে ক্রেডিবিলিটি। আমাদের সমন্বিতভাবে চাইতে হবে এবং এটা বিশ্বাসযোগ্য হতে হবে। নির্বাচন কোনো সহজ কর্ম নয়। আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি সর্বোচ্চ ধাপে পৌঁছায়নি। পৃথিবীর অনেক দেশ আছে যেখানে নির্বাচন নিয়ে হাহুতাশ করতে হয় না। বিশেষ করে ইউরোপের অনেকগুলো দেশ, যেখানে নির্বাচনগুলো খুব শান্তিপূর্ণভাবে হয়ে যায়। ওরা গণতন্ত্রের একটি বিশেষ অবস্থানে গিয়ে থিতু হয়েছে।’
ইসি আনিছুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের গোড়ার দিকে অর্থাৎ জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে সংসদ নির্বাচন হবে। আজকের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়ে গেল।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের ইলেকশনের তিন-চারদিন আগে অল্প সময়ের জন্য ট্রেনিং করা হতো। সেই সময় কোনো প্রশ্ন বা কোনো জবাব দেওয়ার সুযোগ ছিল না। কারণ দু’তিন দিনের মধ্যে অনেক কাজ করতে হতো। ওই সময় কাজের তুলনায় লোকবল ছিল না। এখন লোকবল পাওয়া যাচ্ছে। সীমাবদ্ধতা থাকবে। তবে আমার ধারণা, আপনারা আইন-কানুন বিধি-বিধান সম্পর্কে জানবেন।’
তিনি আরও বলেন, প্রিসাইডিং অফিসারের ক্ষমতা সবচেয়ে বেশি ভোটের দিনে। অনেকে বিষয়টা জানেন না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলেও করণীয় আছে, আইনে প্রিসাইডিং অফিসারের ভোট বন্ধ করারও ক্ষমতা দেওয়া আছে। সে সময় ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার দেওয়া থাকে, তাও কাজে লাগানোর সুযোগ আছে।
নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, দিন যত যাচ্ছে ততই সবকিছু জটিল হচ্ছে। এরই প্রেক্ষিতে নির্বাচনও জটিল হয়ে গেছে। এই জটিল হওয়ার কারণে এত আইন-কানুন ও এত প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হয়।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আইন-কানুন ভালোভাবে জেনে নেওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব তুলে ধরে নির্বাচন কমিশনার বেগম রাশেদা সুলতানা বলেন, নির্বাচন যাতে প্রশ্নবিদ্ধ না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য করার চেষ্টা করা হবে বলে জানান তিনি।
নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আহসান হাবিব খান বলেন, কঠিন প্রশিক্ষণ সহজ যুদ্ধ। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু নিরপেক্ষ করার জন্য সবার সহযোগিতা দরকার। তিনি বলেন, ‘আমরা দায়িত্ব নিয়ে ১ হাজার নির্বাচন সুন্দর ও অবাধভাবে করেছি। কোনো কথা ওঠেনি সেসব নির্বাচন নিয়ে।’