দেশে ঢাকার চেয়ে বাইরে দৈনিক ডেঙ্গুর রোগীর ব্যবধানের সর্বোচ্চ রেকর্ড হয়েছে। বিভিন্ন হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) ২ হাজার ৬০৮ জন ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ঢাকার বাইরে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৭১৬ জন, যা দিনে ভর্তি রোগীর ৬৬ শতাংশ। বাকি ৮৯২ জন বা ৩৪ শতাংশ ভর্তি হয়েছে ঢাকায়। সে হিসাবে ঢাকার বাইরে এই প্রথম দৈনিক সর্বোচ্চ রোগী ভর্তির রেকর্ড হলো। এর আগে সর্বোচ্চ ৮২১ জন রোগী ভর্তির রেকর্ড ছিল গত ১৩ আগস্ট।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত দেড় মাস ধরেই ঢাকার চেয়ে ঢাকার বাইরে বেশি রোগী পাওয়া যাচ্ছে। এ বছরে প্রথম ঢাকার বাইরে বেশি রোগী পাওয়া যায় ২ জুলাই। সেদিন ঢাকায় রোগী ছিল ২২৪ ও ঢাকার বাইরে ২৮৫ জন। সে মাসে ১১ দিন ঢাকার বাইরে রোগী বেশি ছিল।
পরে গত আগস্টে ঢাকার বাইরে রোগীর চাপ আরও বাড়তে থাকে। সে মাসে মাত্র এক দিন ৪ আগস্ট ঢাকায় রোগী বেশি ছিল। এ ছাড়া বাকি ৩০ দিনই ঢাকার বাইরে রোগী বেশি ছিল এবং গতকাল পর্যন্ত তা অব্যাহত রয়েছে। তবে এতদিন ঢাকা ও বাইরে রোগীর ব্যবধান ৩০০-৫০০-এর মধ্যে ওঠানামা করছিল। গতকালই সর্বোচ্চ ব্যবধান দাঁড়ায় ৮২৪ জনে।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ডেঙ্গুতে নতুন করে আরও ১৬ জন মারা গেছে। তাদের মধ্যে অর্ধেক ঢাকায় ও অর্ধেক ঢাকার বাইরে। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ৬৩৪ জনে। তাদের মধ্যে ঢাকায় মারা গেছে ৪৬৪ জন, যা মোট মৃত্যুর ৭৩ শতাংশ। বাকি ১৭০ জন বা ২৭ শতাংশ ঢাকার বাইরে।
এদিকে গত ২২ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ রোগী ভর্তির রেকর্ড হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে রোগী পাওয়া গেছে ২ হাজার ৬০৮ জন। এর আগে এর চেয়ে বেশি রোগী পাওয়া গিয়েছিল ১৩ আগস্ট ২ হাজার ৯০৫ জন। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ১ লাখ ৩০ হাজার ৩০২ জন। তাদের মধ্যে ঢাকার বাইরে ৬৯ হাজার ৮১৮ জন, যা মোট রোগীর ৫৪ শতাংশ ও ঢাকায় ৬০ হাজার ৪৮৬ জন বা ৪৬ শতাংশ।
বর্তমানে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছে ৮ হাজার ৮৪৫ ডেঙ্গুরোগী। তাদের মধ্যে ঢাকায় ভর্তি আছে ৩ হাজার ৯২৮ ও ঢাকার বাইরে ৪ হাজার ৯১৭ জন।
ডেঙ্গুর নেগেটিভ রেজাল্টে উদ্বিগ্ন স্বাস্থ্যমন্ত্রী : নিজের ফেসবুক পেজে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ডেঙ্গুর নেগেটিভ রেজাল্ট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত হলেও পরীক্ষায় ‘নেগেটিভ’ রিপোর্ট আসার বিষয়ে প্রায়ই রোগীদের অভিযোগ রয়েছে। এই অবস্থায় ভুল রিপোর্ট পেয়ে রোগী বাসায় থাকছে, এতে শারীরিক জটিলতা বাড়ছে।
গতকাল রবিবার নিজ ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা বলেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সঠিক সময়ে ডেঙ্গু পরীক্ষা না করায় বাড়ছে ডেঙ্গুর নেগেটিভ রেজাল্টের সংখ্যা। এই পরিস্থিতিতে জটিলতা এড়াতে জ¦র হওয়ার এক থেকে তিন দিনের মধ্যেই ডেঙ্গু পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।
কিন্তু ঠিক কী পরিমাণ নেগেটিভ রেজাল্ট আসছে সে সংক্রান্ত কোনো তথ্য দেননি স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ বিষয়ে কিছু জানাতে পারেননি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারাও। তারা দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন, তাদের কাছে এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য নেই। ভবিষ্যতে তারা এ তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করবেন।