৭১ বছর লোহার ফুসফুসে জীবন

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেমেছে কয়েক বছর আগে। যুদ্ধে জড়ানো দেশগুলো নিজেদের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার অবিরাম চেষ্টা করে যাচ্ছে। বিশ্বে শান্তির প্রচেষ্টায় ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে লিগস অব নেশনস (জাতিসংঘ)। ঠিক তখনই যুক্তরাষ্ট্র মুখোমুখি হলো এক অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির। ১৯৫২ সালে দেশটি ইতিহাসে দেশটিতে সবচেয়ে বড় পোলিও প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। তখন দেশটিতে ৫৮ হাজারের বেশি মানুষ পোলিওতে আক্রান্ত হয়েছিল। আক্রান্ত ব্যক্তির অধিকাংশই ছিল শিশু। তাদের মধ্যেই একজন ছয় বছর বয়সী পল আলেকজান্ডার; যিনি এখন ইতিহাসের অংশ হয়ে উঠেছেন। পোলিও আক্রান্ত হওয়ার পর পল এখনো পর্যন্ত একটি ‘লোহার ফুসফুসের’ ভেতরে বেঁচে আছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির ডালাসে বসবাসকারী পল আলেকজান্ডার ৬০০ পাউন্ড ওজনের লোহার ফুসফুসের ভেতরে যেমন বেঁচে আছেন, তেমনি লেখাপড়া থেকে শুরু করে বেড়াতে যাওয়া সবই করেছেন ওই বিশাল আকার যন্ত্রের মধ্যেই। এ কারণে একটি বিশেষ নামও পেয়ে গেছেন তিনি। লোকজন এখন তাকে ‘পোলিও পল’ নামেই বেশি চেনে। কিছুদিন আগেই তিনি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্র্তৃপক্ষ পলকে বিশ্বের দীর্ঘতম ‘আয়রন ফুসফুসের রোগী’ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন।

পোলিওতে আক্রান্ত হওয়ার কারণে শিশুকাল থেকেই পলকে অনেক বাধাবিপত্তির মুখোমুখি হতে হয়েছে। পোলিওর কারণে পলের ঘাড় থেকে শরীরের নিচের অংশ অবশ হয়ে যায়। এ কারণে তিনি নিজ থেকে শ্বাস নিতে পারছিলেন না। শ্বাস নিতে সহায়তার জন্য পলকে ক্যাপসুল আকৃতির একটি যন্ত্রের (আয়রন লাং) ভেতরে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। ক্যাপসুলটি রোগীর মাথা ছাড়া পুরো শরীর ঢেকে রাখে। যন্ত্রটি কৃত্রিম ফুসফুস হিসেবে কাজ করে।

পরবর্তী সময়ে উন্নত প্রযুক্তি এলেও পল এই লোহার ফুসফুস ছাড়তে রাজি হননি। তার ভাষ্য, তিনি এই যন্ত্রের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন।

তিনি বলেন, প্রথম প্রথম কষ্ট হতো। কোনো ধরনের নড়াচড়া করতে পারতাম না। আমি খুব করে চাইতাম। কিন্তু আমাকে একটা লোহার ড্রামের মধ্যেই থাকতে হতো। তিনি জানান, পরে অভ্যস্ত হতে শুরু করলে তিনি এভাবে স্কুল-কলেজে গিয়েছে। আইনে স্নাতকও করেছেন। বিশ্বের একাধিক দেশেও ঘুরে ওই লোহার ড্রামের ভেতরে থেকেই।