চীনের প্রেডিডেন্ট শি জিনপিং ভারতের দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় জি-২০ সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন না সে বিষয়টি আগেই জানা গিয়েছিল। গতকাল সোমবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতি দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। পাশাপাশি তার পরিবর্তে দেশটি প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং ওই সম্মেলনে অংশ নেবেন বলেও জানানো হয়েছে।
এদিকে চীনের প্রেসিডেন্ট না আশার খবরে হতাশা প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তিনি বলেছেন, জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যাবেন না শুনে তিনি নিরাশ হয়েছেন। আগামী ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই সম্মেলনে থাকছেন না রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনও। অবশ্য বিষয় আগেই জানিয়েছিলেন তিনি। তার বদলে থাকবেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ।
গতকাল রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, জি-২০ সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্টের অনুপস্থিতির কোনো কারণ বিবৃতিতে জানানো হয়নি। তিনি চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে অনুষ্ঠেয় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর আসিয়ানের সম্মেলনেও তিনি যোগ দিচ্ছেন না। দুই অনুষ্ঠানেই লি কিয়াং চীনের প্রতিনিধিত্ব করবেন।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমসের ‘এক্স’ হ্যান্ডেলে বলা হয়, চীন আশা করছে, আসন্ন জি-২০ সম্মেলনে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও উন্নয়ন নিয়ে নেতারা ঐকমত্যে পৌঁছাবেন।
আকসাই চীন, অরুণাচল প্রদেশ ও বিশ্বের আরও কয়েকটি দেশের ভূখণ্ডকে নিজেদের দাবি করে চীনের নতুন ‘মানচিত্রে’ প্রকাশ নিয়ে বিতর্ক শুরু হলে জল্পনা-কল্পনা ছড়িয়ে পড়ে, সি চিন পিং জি-২০ সম্মেলনে নাও যোগ দিতে পারেন। শেষ অবধি সেটাই সত্যি হলো। যা নিয়েই এক দিন আগেই হতাশ প্রকাশ করেন জো বাইডেন।
গত রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের ডেলাওয়ারে রেহোবোথ বিচ এলাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাইডেন বলেন, আমি নিরাশ। তবে তার (সি চিন পিং) সঙ্গে আমার দেখা হবে।
শি জিনপিং দিল্লিতে জি-২০ সম্মেলনে না এলেও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকায় ব্রিকস সম্মেলনের এক ফাঁকে দুই নেতার মধ্যে সংক্ষিপ্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। বৈঠকে তারা প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ লাইনে (এলএসি) উত্তেজনা কমিয়ে আনার বিষয়ে সম্মত হন।