ধর্মীয় আচার ও নানা আয়োজনে আনন্দ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে গতকাল বুধবার রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে শ্রীকৃষ্ণের জন্মদিন জন্মাষ্টমী উদযাপন করেছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। হিন্দু পুরাণ ও ইতিহাস অনুযায়ী, প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে দাপর যুগে ভাদ্র মাসে মথুরা নগরীতে কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে জন্মগ্রহণ করেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ। সত্য ও সুন্দরকে প্রতিষ্ঠিত করতে এবং দুষ্টের দমন ও সজ্জনদের রক্ষা করে মানবজাতির কল্যাণ এবং ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠায় তার আবির্ভাব ঘটেছিল। জন্মাষ্টমী উপলক্ষে গতকাল ছিল সরকারি ছুটি।
জন্মাষ্টমী উপলক্ষে পূজা অর্চনা, ব্রতোপবাস, শোভাযাত্রাসহ নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও ঢাকা মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে কেন্দ্রীয়ভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন), রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠে নানা আয়োজনে জন্মাষ্টমী উদযাপিত হয়। সকালে জাতীয় মন্দির ঢাকেশ্বরীতে পূজা অর্চনা এবং দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় পবিত্র গীতাযজ্ঞ অনুষ্ঠিত হয়। বিকেলে জন্মাষ্টমীর বিশেষ আকর্ষণ শোভাযাত্রা ও আনন্দ মিছিল বের হয়। রাজধানীর পলাশী মোড় থেকে শুরু হওয়া শোভাযাত্রা উদ্বোধন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য এবং সংসদ সদস্য মোহাম্মদ হাজী সেলিম। শোভাযাত্রাটি ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির থেকে শুরু হয়ে বাহাদুর শাহ পার্কে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে ১০টি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। ঢাকেশ্বরীতে রাতে অনুষ্ঠিত হয় শ্রীকৃষ্ণ পূজা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
এদিকে আজ বৃহস্পতিবার সকালে গণভবনে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামীকাল শুক্রবার বেলা ৩টায় ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে হবে আলোচনা সভা। উদ্বোধন করবেন ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা। প্রধান অতিথি থাকবেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। বিশেষ অতিথি থাকবেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ ফরিদুল হক খান ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া।
হিন্দু পুরাণ মতে, ভাদ্র মাসের শুক্লপক্ষের অষ্টম তিথিতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্ম। পাশবিক শক্তি যখন ন্যায়নীতি, সত্য ও সুন্দরকে গ্রাস করতে উদ্যত হয়েছিল, তখন সেই শক্তিকে দমন করে মানবজাতির কল্যাণ এবং ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠার জন্য শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটেছিল।
চট্টগ্রামে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা : জন্মাষ্টমী উপলক্ষে চট্টগ্রাম নগরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা হয়েছে। এতে অংশ নিয়েছে হাজারো ভক্ত। গতকাল সকালে নগরের আন্দরকিল্লা মোড় থেকে জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ আয়োজিত এই শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন নগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। এ সময় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার কৃষ্ণপদ রায়ও উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় দেওয়া বক্তব্যে আ জ ম নাছির বলেন, ‘আমরা কারা? বাঙালি। সেটাই আমাদের একমাত্র পরিচয়। সেজন্য মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানÑ সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে যুদ্ধ করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে আমরা এই দেশকে স্বাধীন করতে সক্ষম হয়েছি।’ সিএমপি কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় বলেন, ‘আনন্দ শোভাযাত্রায় সবাই শামিল হতে এসেছি। যেকোনো ধর্মীয় উৎসবে নিরাপত্তা বিধান আমাদের দায়িত্ব।’
শোভাযাত্রায় সভাপতিত্ব করেন জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ, বাংলাদেশের সভাপতি সুকুমার চৌধুরী। বক্তব্য দেন নগর আওয়ামী লীগ সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, সংসদ সদস্য নোমান আল মাহমুদ, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর জহর লাল হাজারি, হাসান মুরাদ বিপ্লব, শৈবাল দাশ সুমন প্রমুখ। শোভাযাত্রাটি লালদীঘির পাড়, কোতোয়ালি, নিউ মার্কেট, আমতল, নন্দনকানন, চেরাগী পাহাড় হয়ে আবার আন্দরকিল্লায় গিয়ে শেষ হয়।