ফ্যাশন ট্রেন্ড প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল। পুরনো ট্রেন্ড বিদায় নেবে, নতুন কিছু আসবে। অথবা নতুন ও পুরনো মিলিয়ে আরেকটি ট্রেন্ড তৈরি হবে এটাই ফ্যাশনের চলমান ধারা। এই ধারায় এবার যোগ হয়েছে একই প্রিন্টের সালোয়ার কামিজ।
পোশাকের নতুন এই ট্রেন্ড নিয়ে লিখেছেন রবিউল কমল করোনার সময় থেকেই বিশ্বব্যাপী ফ্যাশনে পরিবর্তনের ধারা শুরু হয়। আমাদের দেশেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। যেমন কিছুদিন আগেও পোশাকে প্রকৃতিকে মোটিফ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। এখন আরেকটি ট্রেন্ড খুব বেশি দেখা যাচ্ছে। আর তা হলো ফ্যাশনসচেতন মেয়েরা এখন একই প্রিন্টের সালোয়ার-কামিজ পরছেন। কেউ কেউ ওড়নাটাও একই প্রিন্টের পরছেন। কেউ বা বেছে নিচ্ছেন এক রঙের। আরও এই ট্রেন্ডটাই যেন এখন ফ্যাশনে পূর্ণতা এনে দিয়েছে।
ফ্যাশনে ট্রেন্ড পরিবর্তন হবে, এটা খুবই স্বাভাবিক বিষয়। পুরনো ট্রেন্ড বিদায় নেবে, নতুন কিছু আসবে। অথবা নতুন ও পুরনো মিলিয়ে আরেকটি ট্রেন্ড তৈরি হবে এটাই ফ্যাশনের চলমান ধারা। সেই ধারাকে প্রাধান্য দিয়ে থাকে আমাদের দেশের ফ্যাশন হাউজগুলো। বর্তমান ট্রেন্ডের সঙ্গে মিল রেখে দেশীয় ফ্যাশন হাউজগুলো একই নকশার সালোয়ার-কামিজ নিয়ে এসেছে।
একই নকশার পোশাক পরার ক্ষেত্রে স্ক্রিন বা ডিজিটাল প্রিন্টের ব্যবহার বেশি হচ্ছে। যদিও ফ্যাশনে প্রিন্ট নতুন কিছু নয়, কয়েক বছর ধরেই প্রিন্টের প্রতি মানুষের একটু বেশি ঝোঁক দেখা যাচ্ছিল। কিন্তু নতুন বিষয় হলো একই প্রিন্টের পোশাক পরা। এ ধরনের পোশাকে ফুল, ফুলের নকশা বা ফ্লোরাল মোটিফ প্রিন্ট করা হচ্ছে। কখনো প্রকৃতির কোনো অনুষঙ্গ উঠে আসছে নকশার থিমে। সবমিলিয়ে কামিজে যে ডিজাইন, পায়জামাও সেই একই ডিজাইনের, এভাবেই যেন ফুটে উঠছে বর্তমান ফ্যাশন ট্রেন্ড। সঙ্গে বাড়তি নকশা হিসেবে নানা রকমের লেইস ও বাটনের ব্যবহার দেখা যাচ্ছে।
ফ্যাশন ডিজাইনার সুমাইয়া ইসলাম বলেন, ইদানীং একক নকশার ট্রেন্ড বেশ জনপ্রিয় হয়েছে। সাধারণত এ ধরনের পোশাকের নকশায় স্ক্রিন প্রিন্ট বা বুনন বেশি ব্যবহার হচ্ছে। নকশার কিন্তু বিভিন্ন বিষয় উঠে আসছে। কখনো কখনো ফুলের ডিজাইন ব্যবহার হচ্ছে, কখনো গোল গোল নকশা, কখনো বল চিত্র, আবার কখনো পাতা দিয়েও নকশা করা হচ্ছে। মাধ্যম হিসেবে প্রিন্টে এ ধরনের ডিজাইন খুব ভালো ফুটে ওঠে।
ইডেন কলেজের শিক্ষার্থী টুসি হালদার বলেন, আমি ট্রেন্ডের সঙ্গে চলতে পছন্দ করি। এখন একই ডিজাইনের পোশাকের চল বেশি। নিউমার্কেট থেকে এ ধরনের থ্রিপিস খুব কম দামেই কেনা যায়। আর দীর্ঘদিন ধরেই কিন্তু এই ধারাটা একটু একটু করে জনপ্রিয় হচ্ছিল। এখন তো সবাই ফলো করছে। একক ডিজাইনের পোশাকে স্ক্রিন প্রিন্ট আমার পছন্দের মাধ্যমে। টেক্সারও খারাপ লাগে না। আমি ওড়নাটাও সেম ডিজাইনের পরি আবার কখনো কখনো পোশাকের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে এক রঙের জর্জেট ওড়না বেছে নেই।
ফ্যাশন ডিজাইনার রিফাত রাকা মনে করেন, এ ধরনের পোশাক কেনার আগে কাপড়ের ধরনটা একটু দেখে নিতে হবে। প্রকৃতিতে এখন রোদ ও বৃষ্টির লুকোচুরি চলছে। এ জন্য অবশ্যই আরামদায়ক কাপড় বেছে নিতে হবে। সুতির কাপড় এ সময়ের জন্য সেরা পছন্দ হতে পারে। তবে চাইলে কেউ কটনের সঙ্গে লিনেন, ভিসকসের মিশেলও বেছে নিতে পারেন। কারণ এ ধরনের কাপড় নরম হয়। তা ছাড়া প্রিন্টের কাপড় পরলে সুবিধা এই যে, বৃষ্টির কাদা পানি পোশাকে লেগে গেলেও সেভাবে বোঝা যাবে না।
আবার আপনি যদি অন্যদের পোশাক থেকে আপনার পোশাকে ভিন্নতা আনতে চান, তাহলে ডিজিটাল প্রিন্টও বেছে নিতে পারেন। ডিজিটাল প্রিন্ট হলো মাল্টিকালার ব্যবহার। মানে নকশায় নিজের পছন্দমতো একাধিক রঙ ব্যবহার করা। এ ধরনের ডিজাইন বেশ ফোটোজেনিক হয়। তাই সবার চেয়ে কিন্তু আপনার ফ্যাশনে ভিন্নতা আসবে। ডিজিটাল প্রিন্টের ছাপাটাও চমৎকার হয়, তাই পোশাক খুবই উজ্জ্বল মনে হয়।
কার জন্য কেমন পোশাক
নানা রকমের প্রিন্টের কাপড়ে সেজে উঠেছে ফ্যাশন হাউজগুলো। এই যেমন- ফ্লোরাল, লেপার্ড, স্ট্রাইপ, চেক, পোলকা ডট। তরুণরাও সানন্দে গ্রহণ করছেন এই প্রিন্ট ট্রেন্ড। তাই যারা একই ডিজাইনের প্রিন্টের পোশাক পরতে চান, তারা নিজের শরীরের সঙ্গে মানিয়ে পোশাক বেছে নিন। যেমন আপনি লম্বা হলে বড় আকারের প্রিন্ট পরা ঠিক হবে না। তাহলে আরও লম্বা দেখাবে, শুধু তাই নয়, হালকা মোটা দেখাতেও পারে। সে ক্ষেত্রে মাঝারি বা ছোট প্রিন্ট পরতে পারেন। মোনোক্রম পরতে পারেন, তাতে দেখতে মোটা লাগবে না।
যদি স্লিম দেখাতে চান, তাহলে ডিপ টোন প্রিন্টের পোশাক পরতে পারেন। আর আপনার গঠন যদি একটু পাতলা হয়, তাহলে রকমারি রঙের প্রিন্টের পোশাক পরতে পারেন। সে ক্ষেত্রে বোল্ড গ্রাফিক প্রিন্ট দারুণ মানিয়ে যাবে। যাদের হাইট একটু কম, তাদের জন্য ছোট প্রিন্ট ভালো মানাবে। তারা ভার্টিকাল স্ট্রাইপ প্রিন্টের পোশাক কিংবা প্যাস্টেল শেডের ফ্লোরাল প্রিন্ট পরতে পারেন।
পোশাকের সঙ্গে অনুষঙ্গ
সাজ পোশাক পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে অনুষঙ্গের সাহায্যেও। সে ক্ষেত্রে সঙ্গে স্টাইলিশ ব্যাগ, গয়না আর মানানসই জুতা থাকা চাই। সেগুলো হতে পারে কামিজ ও সালোয়ার সেটের সঙ্গে মিলিয়ে কিংবা একেবারেই বিপরীতধর্মী। যদি কামিজ ও সালোয়ার একরঙা হয়ে থাকে, তাহলে মানানসই ম্যাচিং বা কন্ট্রাস্ট দুই ধরনের গয়নাই ভালো লাগবে। সঙ্গে নেওয়া যায় প্রিন্টের ক্লাচ বা ব্যাগ। জুতাও রাখা যায় কন্ট্রাস্ট রঙের। অন্যদিকে, প্রিন্টের কামিজ ও সালোয়ার সঙ্গে ভারী গয়না খুব একটা ভালো লাগবে না। পোশাকের নকশায় গয়না হারিয়ে যাবে। তাই কানে ও হাতে মানানসই কিছু পরা যেতে পারে। আর লং প্রিন্টের সালোয়ার-কামিজের সঙ্গে হিলস ভালো লাগবে নিঃসন্দেহে।