শিশুর শারীরিক মানসিক ও বুদ্ধিভিত্তিক বিকাশ

আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৫৪ এএম

শিশুর শারীরিক, মানসিক, নৈতিক ও বুদ্ধিভিত্তিক বিকাশ কতটা সমৃদ্ধ হবে, তা বহুলাংশে নির্ভর করে মা-বাবা কীভাবে লালন করছেন তার ওপর। অধিকাংশ ক্ষেত্রে অভিভাবকরা না জেনে শিশুর সঙ্গে এমন কিছু আচরণ করেন, যা সন্তানের স্বাভাবিক বিকাশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই শিশুর সঙ্গে কী ধরনের আচরণ করা যায়, আর কী আচরণ করা যায় না তা জানা খুব গুরুত্বপূর্ণ। লিখেছেন

শ্যামল আতিক

বয়স অনুযায়ী শিশুকে আয়, ব্যয়, সঞ্চয়, দান, বাজেট ইত্যাদি সম্পর্কে ধারণা দিন। বিষয়টি একাডেমিক শিক্ষা, নৈতিকতা, আদব কায়দা শেখানোর মতোই গুরুত্বপূর্ণ। অর্থের প্রয়োজন নেই এ কথা শিশুকে বলবেন না, আবার অর্থের মাধ্যমে সবকিছু সমাধান করা যায় বা কেনা যায় অর্থাৎ অর্থই সবকিছু এ ধরনের কথাও শিশুকে বলবেন না। 

শুধু খরচ ও দান করতে শিখলে শিশু উড়নচ-ী স্বভাবের হয়। পরিণত বয়সে অর্থের অভাবে দেউলিয়াও হতে পারে। আবার শুধু সঞ্চয় করতে শেখালে কৃপণ স্বভাবের হয়। তাই প্রয়োজন দান ও সঞ্চয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে চলা। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে শিশুকে বাজারে নিয়ে যান, কোনটির দাম কত তা শিশুকে জানান। সম্ভব হলে শিশুর হাত দিয়ে টাকা পরিশোধ করুন। তবে বিলাস দ্রব্যের কেনাকাটায় শিশুকে যত কম নিতে পারেন তত ভালো।

চার বছরের আগে শিশুকে দান করতে বলবেন না। এ সময় তার মধ্যে মালিকানাবোধ জাগ্রত হয়। এটা স্বার্থপরতা নয়, গুরুত্বপূর্ণ একটি দক্ষতা। এই দক্ষতা বিকশিত হওয়ার পরেই শিশুকে দান করতে শেখাবেন। দানের ক্ষেত্রে সম্ভব হলে শিশুকে পাশে রেখেই দান করুন অথবা শিশুর হাত দিয়ে দান করুন, যাতে সে অন্যের প্রয়োজনে দান করতে শেখে।

ছয় বছর বয়সে শিশুকে টাকার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিন। টাকার নোট দিয়ে, তার মূল্যমান কত তা শিখিয়ে দিন, টাকা গুনতে দিন। এই টাকা দিয়ে আমরা কী করি তা বুঝিয়ে বলুন। বিজ্ঞাপন সম্পর্কে শিশুকে সচেতন করতে হবে। বিজ্ঞাপনে প্রচারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে মুনাফা অর্জন। বিজ্ঞাপনে দেখানো তথ্য সত্য নাও হতে পারে এটা শিশুকে জানাতে হবে। ঋণ ও ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহারকে সবসময় নিরুৎসাহিত করবেন। আশপাশের মানুষজন ঋণগ্রস্ত হয়ে কীভাবে নিঃস্ব হয়েছে তা শিশুর সামনে তুলে ধরুন।

আপনি কত বেতন পান, ব্যাংকে কত টাকা আছে এই প্রশ্নগুলো যে অশিষ্টাচার তা শিশুকে বলুন। আপনি নিজে তা পালন করুন, শিশুকেও মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ করুন। বয়স ১২ বছর হলে তাকে স্বাবলম্বী হতে উদ্বুদ্ধ করুন। অর্থ উপার্জনের জন্য সে কী কী কাজ করতে পারে, তা জিজ্ঞেস করুন। তবে অর্থ উপার্জন করতে গিয়ে পড়াশোনা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, এ বিষয়টিও খেয়াল রাখবেন। মা-বাবা উভয়েই কর্মজীবী হলে, শিশুকে সময় দিতে পারছেন না এই অপরাধবোধ থেকে শিশুর সব চাহিদা পূরণ করার চেষ্টা করেন। এটা মারাত্মক ভুল। পণ্য দিয়ে দিয়ে শিশুকে খুশি করার চেষ্টা করবেন না। এর ফলে শিশুর চাহিদা দিনে দিনে বাড়তে থাকে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত