জলবায়ুর প্রভাব ও সম্ভাব্য ঝুঁকি বিষয়ে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য বৈশ্বিক যে ক্ষতি হয়েছে তার জন্য বাংলাদেশ দায়ী নয়। বরং বাংলাদেশ অনেক বেশি ক্ষতির সম্মুখীন। বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করা জরুরি। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর শেরাটন হোটেলে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর আঞ্চলিক জলবায়ু সম্মেলনে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এ কথা বলেন।
স্পিকার বলেন, ‘আমাদের নদী ও পানি ব্যবস্থাপনা, বায়ুদূষণ মোকাবিলা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উদ্বেগের কারণ। এগুলো নিয়ে আলোচনা ও ব্যবস্থা নেওয়ার এটাই মোক্ষম সময়। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশগুলো নবায়নযোগ্য শক্তিকে বর্ডার ট্রেন্ড কোলাবোরেশনে আনতে পারে কি না এ প্রশ্ন উঠছে। নবায়নযোগ্য শক্তির চাহিদা যাতে মেটানো যায় তার জন্য ইনিশিয়েটিভ জরুরি। পৃথিবীর অনেক দেশ আছে যাদের কাছে সূর্যের আলো খুব কম পৌঁছায়, আবার কিছু দেশে এ আলো খুব প্রখর। সূর্যালোক শক্তি স্থানান্তরের মডেল নিয়ে ভাবা যেতে পারে।’ তিনি বলেন. ‘এ শীর্ষ সম্মেলন নীতিনির্ধারক, কূটনীতিক, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ, যুব ও অন্যান্য স্টেকহোল্ডাররা দক্ষিণ এশিয়ার ব্যাপারে তাদের চিন্তাভাবনা নিয়ে আলোচনা করতে এক ছাতার নিচে নিয়ে আসার কথা বলেছেন। জলবায়ু পরিবর্তন এবং জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকিস্বরূপ ও মানবতার জন্য একটি রেড কোড হিসেবে গবেষণার জন্য একটি বৈশি^ক মডেলের অধীনে সংকটগুলোকে একত্রিত করে কাজ করার সময় এসেছে। এ সম্মেলনে সে সমন্বয়ের কথা বলে। এখানে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর নীতিনির্ধারকরা একত্রিত হয়েছেন।’
উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক বিশেষ দূত সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘নেতৃত্ব প্রখর হতে হবে এবং স্পিকার নেতৃত্বের ভূমিকায় থাকার এবং আমাদের উৎসাহিত করার দায়িত্ব নিয়েছেন। বাংলাদেশই একমাত্র দেশ যে একটি গ্রহগত জরুরি পরিস্থিতিতে পদক্ষেপ নেয়। টেকসই ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগের প্রতি আগ্রহী মনোভাব খুব গুরুত্বপূর্ণ।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ড. কাজী খলিকুজ্জামান আহমদ বলেন, ‘আমাদের মনে রাখতে হবে, জলবায়ু পরিবর্তন দ্রুত ঘটছে। আমরা শীর্ষে যাওয়ার কথা বলছি কিন্তু আমরা আরও অনেক কিছু নিয়ে কথা বলছি না। বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত করার পর জুলাই মাসটি রেকর্ডে বিশ্বের সবচেয়ে উষ্ণ মাস হওয়ার পথে রয়েছে।’
ক্লাইমেট পার্লামেন্ট বাংলাদেশের চেয়ারপারসন তানভির শাকিল জয় (এমপি) বলেন, ‘আমরা দক্ষিণ এশিয়ায় জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যৌথ অঙ্গীকারের জন্য এখানে সম্মিলিত হয়েছি। শীর্ষ সম্মেলনটি চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে গঠন করা হয়েছে। পরিবেশ এবং জলবায়ু পরিবর্তন, পানি এবং বর্জ্য, শক্তির ভবিষ্যৎ ও আঞ্চলিক সহযোগিতা তরান্বিত হবে এ সম্মেলনের মাধ্যমে।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ড. সঞ্জয় জৈওশাল (এমপি) বলেন, ‘এটি খুবই সৌভাগ্যের বিষয় ভারতে জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনের সময়ে আমরা ইভেন্টটি করছি। আমি বিশ্বাস করি, বিশ্ব নেতাদের একত্রিত করা গুরুত্বপূর্ণ। আমরা বিশ্বব্যাপী আঞ্চলিক সংলাপকে উৎসাহিত করছি।’
ক্লাইমেট পার্লামেন্ট বাংলাদেশের আহ্বায়ক নাহিম রাজ্জাক (এমপি) বলেন, ‘এ আঞ্চলিক জলবায়ু সম্মেলনে ২০২৩-এর অংশীদার, স্টেকহোল্ডার, আমাদের আঞ্চলিক অংশীদার ও বিশেষজ্ঞদের ঐকমত্য তৈরি করার চেষ্টা করছি। জলবায়ু পরিবর্তন আমাদের জন্য হুমকি। প্রজন্মকে বাঁচাতে দরকার সমন্বিত উদ্যোগ।’
তিন দিনব্যাপী এ আয়োজনে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ ভারত, ভুটান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপসহ বিভিন্ন দেশের সংসদ সদস্যরা, বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, শীর্ষ পর্যায়ের নীতিনির্ধারকরা, করপোরেট সেক্টর, উন্নয়ন সহযোগী দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থাসহ বিভিন্ন সেক্টরের ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন। সম্মেলনে চারটি থিমেটিক সেগমেন্টে ও ১৯টি সেশনে ১২০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি আলোচক হিসেবে অংশ নেবেন। দেশ ও দেশের বাইরের প্রায় ৬০০ জন প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন।