রাজধানীর মোহাম্মদপুরে চোর সন্দেহে কিশোরকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার ভোরে টিক্কাপাড়া এলাকায় বরাবো সরকারি প্রাইমারি স্কুলের নির্মাণাধীন ভবনে চোর সন্দেহে রাতভর নির্যাতন করা হয় আকাশ (১৪) নামে ওই কিশোরকে। ঘটনাস্থল থেকে তাকে নির্যাতনে ব্যবহৃত লাঠি, লোহার রড, ক্রিকেট খেলার স্টাম্প ও অন্যান্য আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় নিহতের ফুফু মালতি আক্তার (৩০) বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন। পরে গতকাল শুক্রবার সিরাজগঞ্জ সদর থেকে জহিরুল ইসলাম বাবু ও আব্দুল বারেক বাবু নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার নিয়তি রায় বলেন, ‘গত ৭ সেপ্টেম্বর ভোরে চোর সন্দেহে নির্মাণাধীন ভবনের নিরাপত্তাকর্মী ও নির্মাণশ্রমিকরা শিশু আকাশকে আটক করে সকাল ৬টা পর্যন্ত নির্যাতন চালায়। এতে আকাশ গুরুতর আহত হয়ে বাসায় যাওয়ার পর সকাল ৮টার দিকে মারা যায়।’
জানা গেছে, নিহত আকাশ মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেট এলাকার হাজী চিনু মিয়া স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে সে বাসা থেকে বের হয়ে আর বাসায় ফেরেনি। পরদিন সকাল ৬টার দিকে একটি মোবাইল নম্বর থেকে কল করে এক ব্যক্তি তার পরিবারের সদস্যদের জানায়, আকাশ বরাবো সরকারি প্রাইমারি স্কুলের নির্মাণাধীন প্লটে পড়ে আছে। তাকে যেন সেখান থেকে নিয়ে যাওয়া হয়। এই সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল গিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্নসহ আহত অবস্থায় পড়ে থাকা আকাশকে উদ্ধার করে বাসায় নেওয়া হয়। এর কিছুক্ষণ পর সমস্ত শরীর ঠাণ্ডা, নিথর ও নিস্তেজ হয়ে আকাশ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।
এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে মাঠে নামে থানা পুলিশ। পরে গোয়েন্দা ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সিরাজগঞ্জ সদর থেকে হত্যায় জড়িত দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তাররা হত্যার দায় স্বীকার করে পুলিশকে জানায়, ঘটনার দিন ভোরে চোর সন্দেহে তারা আকাশকে প্রথমে আটক করে। পরে ৬-৭ জন মিলে আটকে রেখে দীর্ঘ সময় নির্যাতন করে। অতিরিক্ত নির্যাতনের কারণে আকাশ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে জহিরুল ইসলাম বাবু তার ফোন থেকে ফুফু মালতি আক্তারকে কল করে ডেকে এনে আকাশকে বাসায় পাঠিয়ে দেয়। কিছুক্ষণ পর আকাশের মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে তারা সবাই ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।