ব্রিজের স্ল্যাবে রডের পরিবর্তে সুপারি গাছ

পিরোজপুরের কাউখালীতে সেতুর স্ল্যাব তৈরিতে রডের পরিবর্তে সুপারি গাছ চেরাই করে তার টুকরো (স্থানীয় ভাষায় সুপারির ডাব) ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বিরুদ্ধে। কাউখালী উপজেলা সদর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের (কাঠালিয়া) নূরুল ইসলামের বাড়ির সামনে সেতু মেরামতের কাজে ওই স্ল্যাব ব্যবহার করা হয়েছে। এরই মধ্যে তিনটি স্ল্যাব ভেঙে গেছে, যার প্রতিটিতে রডের পরিবর্তে পাঁচটি করে সুপারি গাছের চেরাই করা টুকরো দিয়ে ঢালাই করা হয়েছে। এ ছাড়া সেতুটির প্রায় সবগুলো স্ল্যাবই ফেটে গেছে।

জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীন এডিপির আওতায় কাউখালী ইউনিয়নে ছয়টি উন্নয়ন কাজের একটি ওই সেতু মেরামতের কাজ। মেসার্স হালিমা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী লাভলু খান ওই সেতু মেরামতের কাজ বাস্তবায়ন করেন। কার্যাদেশ অনুযায়ী গত বছরের ২০ জুন কাজটি শেষ করা হয়।

ওই এলাকার বাসিন্দা আব্দুল লতিফ বলেন, ‘ঠিকাদার তার নিজের এলাকায় স্ল্যাব তৈরি করে নিয়ে এসে ব্রিজে সেগুলো মাত্র এক দিনের মধ্যে স্থাপন করে। কাজ করে যাওয়ার পর থেকেই স্ল্যাবগুলোতে ফাটল দেখা দেয় এবং তিন দিন পর তিনটি স্ল্যাব ভেঙে পড়লে তা থেকে সুপারির চটা বের হয়ে পড়ে। আর এ খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে এলাকার লোকজনসহ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউএনও সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মেসার্স হালিমা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী লাভলু খান বলেন, ‘এক-দেড় বছর আগের ঘটনা তা এখন কী বলব।’ লাভলু পাল্টা প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘স্ল্যাব যখন ঢালাই দেয় তখন উপজেলা প্রকৌশলী বা তার প্রতিনিধিরা দেখেননি কেন? এখন সমস্যার কথা বললে কি হবে?’

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেনের মোবাইল ফোনে দফায় দফায় কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) স্বজল মোল্লা বলেন, ‘খবর পেয়েই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেছি এবং অবাক হয়েছি। উপজেলা চেয়ারম্যানের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।’

উপজেলা চেযারম্যান আবু সাইদ মনু বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে ইউএনওকে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রত্যক্ষ করেছি। প্রকৌশলী আসতে না পারায় তাকে আগামী আট ঘণ্টার মধ্যে ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। বিষয়টি এলাকার সংসদ সদস্য, এলজিইডির চিফ ইঞ্জিনিয়ার ও নির্বাহী প্রকৌশলীকে জানানো হবে, এত বড় দুর্নীতি কাউখালীতে করতে দেওয়া যায় না।’