সমস্ত দিন পাখি ওড়ার শব্দ
১.
একদিন নুন ছাড়া তরকারি আর ভাত মেখে খেতে দিও,
গৃহস্থের সব অকল্যাণ
মাথা নিচু করে এসে খেয়ে যাবে।
একদিন উঠানে রেখো ছাই ফেলতে ভাঙা কুলা,
একদা সম্ভাবনাময়
একটি নষ্ট হারিকেন আর অন্ধকার।
দেখো,
দূর থেকে তোমাকে নজরে রাখা সিগ্রেটের আগুন
কাছে আসবে সন্ধ্যাবেলা।
ঘরে কেউ নেই,
সুমিষ্ট ফলের ঘ্রাণ হাওয়ায় ভাসে।
২.
আমি অনেক কিছু পছন্দ করি।
এই যেমন ধরো
কোথাও বসে সন্ধ্যাবেলা কাগজ পুড়িয়ে মশা তাড়ানো,
চেনা কাউকে দেখে না-চেনার ভান করা,
পিস্তলের ট্রিগারে আলতো চাপ লেগে
ছিটকে বের হয়ে যাওয়া গুলি
(বেশিরভাগ ক্ষেত্রে হতভম্ব)।
আমি অনেক কিছু পছন্দ করি
এই যেমন ধরো
শীত ভালোভাবে না-পড়লেও
মাঙ্কি ক্যাপ,
খয়েরি রঙের মাফলার,
একটা পিরিচে পড়ে থাকা কয়েকটা বাদাম,
হয়তো শেষ না-হওয়া বাকি কথা।
৩.
সকালে রাস্তায়
রোদ না মেরিলিন মনরো?
সকালে রাস্তায়
বৃক্ষ না খসে পড়া পাতা?
একটাই তো নদী,
আশ্বিনে সামান্য রুগ্ণ বৃষ্টি,
কয়েকটা স্মৃতি,
ভেজা বাঁশঝাড় আর তালগাছ
দূরত্ব বোঝাতে।
সকালে শহর,
কী মারাত্মক তার সব বিস্মৃতি আজও।
৪.
রৌদ্রে গিয়ে পাঠ করো
আগুনে গিয়ে পাঠ করো।
বহুদিন হাওয়া থেকে বাঁচাইনি নিজেকে,
বহুদিন পাখি থেকে;
কুয়াশা থেকেও।
আজ সব দুঃখ সাক্ষ্য দিতে এসেছে দেখে
ভালো লাগছে।
রৌদ্রে গিয়ে পাঠ করো
আগুনে গিয়ে পাঠ করো আমার দিনলিপি;
আমার ভালো লাগবে।
৫.
ভেষজ বিজ্ঞানীদের মতো
কবিতা লিখতে পারিনি কখনো;
মেয়েদের কাছে চিঠিও না।
হাত ধরিনি
ফুল তুলিনি।
জ্যোৎস্না দেখতে গিয়ে
চাঁদকে বিবস্ত্র লেগেছে।
বিকেলে কামারশালার ফুলকি থেকে উঠে
সোজা ঘরে ঢুকে
নিজের গলা নিজেই টিপে ধরেছি
মুখ থেকে কবিতা টেনে বের করব বলে।
উঠি,
আমাকে বাজারে যেতে হবে।
ফেরার সময় নিশ্চিত দেখব
সবজির দোকানে ফুটে উঠছে
আমার কবিতা না-লেখার ভূমিকা।