মেডিকেলের ফাঁস হওয়া প্রশ্ন ছড়ান আইডিয়াল শিক্ষিকা

মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ও ফাঁস হওয়া প্রশ্নে ভর্তির অভিযোগে সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। প্রশ্ন ফাঁসের মামলার তদন্তে তাদের নাম উঠে আসে বলে জানিয়েছে পুলিশের এ তদন্ত সংস্থাটি। সিআইডি বলছে, রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষিকা মাকসুদা আক্তার মালা ছড়িয়েছেন মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন। ২০১৫ সালে নিজের মেয়ে ইকরাসহ আরও সাত শিক্ষার্থীকে ফাঁস করা প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তি করিয়েছেন তিনি। গতকাল বুধবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান সিআইডির মুখপাত্র অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আজাদ রহমান।

তিনি আরও জানান, গত রবি থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে প্রশ্নফাঁস চক্রের মূলহোতাসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন মাকসুদা আক্তার মালা (৫২), ডা. কেএম বশিরুল হক (৪৮), ডা. অনিমেষ কুমার কুন্ডু (৩৩), জাকিয়া ফারইভা ইভানা (৩৫), সাবরিনা নুসরাত রেজা টুসী (২৫), জাকারিয়া আশরাফ (২৬) ও মৈত্রী সাহা (২৭)।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গ্রেপ্তার ডা. বশিরুল হক থ্রি ডক্টরস কোচিং সেন্টারের পরিচালক। প্রশ্ন ফাঁসের মাধ্যমে অসংখ্য শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে ভর্তি করিয়েছেন। ডা. অনিমেষ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একজন মেডিকেল অফিসার। ২০১৫ সালে ১০ জন শিক্ষার্থীকে ফাঁস করা প্রশ্ন পড়িয়েছেন। এদের মধ্যে আটজন বিভিন্ন মেডিকেলে চান্স পায়।

গ্রেপ্তার জাকিয়া ঢাকা মেডিকেল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী। চক্রের মূলহোতা ডা. ময়েজ উদ্দিন আহমেদ প্রধানের কাছ থেকে প্রশ্ন পেয়ে ২০০৬-০৭ সেশনে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় জাতীয় মেধায় ৬০তম স্থান অর্জন করেন। সাবরিনা নুসরাত রংপুর মেডিকেল কলেজের ২০১৫-১৬ সেশনের সাবেক শিক্ষার্থী। ডা. অনিমেষের মাধ্যমে প্রশ্ন পেয়ে ভর্তি হন তিনি। এ ছাড়া গ্রেপ্তার জাকারিয়া ও মৈত্রী সাহা ২০১৫-১৬ সেশনের ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী। তারা ডা. অনিমেষের মাধ্যমে প্রশ্ন পেয়ে ভর্তির সুযোগ পান।

সিআইডি জানায়, গত ৩০ জুলাই থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালিয়ে মেডিকেলের প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িত ১২ চিকিৎসকসহ ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের ১০ জন আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। তাদের কাছে থেকে মেডিকেলের প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িত চক্রের অন্যান্য সদস্য ও ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়া অসংখ্য শিক্ষার্থীর নাম পাওয়া যায়। এ ছাড়া এই চক্রের হোতা জসীম উদ্দিনের কাছে থেকে উদ্ধার হওয়া গোপন ডায়েরি থেকে সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা চক্রের সদস্যদের সন্ধান পাওয়া গেছে।

এদিকে প্রশ্ন ফাঁসে জড়িত থাকার অভিযোগে আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের মতিঝিল ক্যাম্পাসের সহকারী শিক্ষক মাকসুদা আক্তারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানটির রুটিন দায়িত্বে থাকা অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। মাকসুদা আক্তার আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের মতিঝিল শাখার বাংলা মাধ্যম প্রভাতির সামাজিক বিজ্ঞান বিষয়ের সহকারী শিক্ষক ও গভর্নিং বডির শিক্ষক প্রতিনিধি। সাময়িক বরখাস্তের চিঠিতে বলা হয়েছে, মাকসুদা আক্তারের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে। পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মিরপুর মডেল থানায় মামলাটি হয়েছে। বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় শিক্ষক-কর্মচারী চাকরির শর্ত ভঙ্গের কারণে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।