কুমিল্লার মেঘনায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আওয়ামী লীগের দুপক্ষের সংঘর্ষ ও গুলিতে স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক নেতা নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হন আরও অন্তত ১০ জন। গতকাল সোমবার সকালে মেঘনা উপজেলা চালিভাঙা ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত নিজাম সরকার (৪০) চালিভাঙা ইউনিয়ন স্বেচ্ছসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ও একই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবিরের ছোট ভাই।
সংঘর্ষের ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল দুপুরে তাদের আটক করা হয়। স্থানীয় বালুমহালে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে।
পাঁচজনকে আটকের তথ্য জানিয়েছেন কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) খন্দকার আশফাকুজ্জামান। তবে আটক ব্যক্তিদের নাম জানাননি এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘ঘটনার তদন্তের স্বার্থে আটক ব্যক্তিদের নাম পরে জানানো হবে। তবে তারা ঘটনায় জড়িত। এর মধ্যে একজন ইউপি সদস্য আছেন।’
নিজামের বাড়ি উপজেলার নলচর গ্রামে। তার বাবার নাম মৃত আক্কাস মেম্বার। তার বালুর ব্যবসা রয়েছে।
নিহতের স্ত্রী সালমা আক্তার ও ভাই সানাউল্লাহ সরকার জানান, সকালে চালিভাঙায় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। খবর শুনে বাড়ি থেকে ঘটনাস্থলে যান নিজাম। সেখানে যাওয়ার পর তাকেও টেঁটাবিদ্ধ করে প্রতিপক্ষ। এ সময় নিজাম ছাড়াও বেশ কয়েকজন আহত হন। তাদের সবাইকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তখন চিকিৎসক নিজামকে মৃত ঘোষণা করেন।
মেঘনা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল্লা সিকদার রতন বলেন, ‘হুমায়ুন চেয়ারম্যান গ্রুপ ও জেলা পরিষদ সদস্য কাইয়ুম মিয়ার উপস্থিতিতে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। আর সেই সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডে যারা জড়িত, তাদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।’
সংঘর্ষে আহতরা হলেন নলডাঙা গ্রামের বাসিন্দা টিটু (৩০), রমজান (৩৫), ইব্রাহীম (২৮), শাকিল (২২), খালেদ হাসান (১৯), দেলোয়ার হোসেন (৩২), আনিছ সরকার (২৫), সুমন (২৪), হানিফ (৪৫) এবং ওয়াসিম (৩৫)।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির সমর্থিত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের একটি অংশ রয়েছে। অপরদিকে জেলা পরিষদ সদস্য কাইয়ুম হোসেনের নেতৃত্বে আছে আওয়ামী লীগের আরেকটি অংশ, যা কাইয়ুম গ্রুপ নামে পরিচিত। আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। যার জেরে গতকাল সকালে সানাউল্লাহ গ্রুপ ও কাইয়ুম গ্রুপ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় দুই গ্রুপের লোকজন টেঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালায়।
মেঘনা থানার ওসি দেলোয়ার হোসেন বলেন, দুই দিন ধরে দুই পক্ষের সংঘর্ষ চলছিল। গত রবিবার একপক্ষ একটি মামলা করে। সংঘর্ষে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছিল। এরই মধ্যে গতকাল সকালে আবারও সংঘর্ষ হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. বাচ্চু মিয়া জানান, কুমিল্লার সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।
প্রতিবেদনটি তৈরিতে তথ্য দিয়েছেন মেঘনা (কুমিল্লা) ও ঢামেক প্রতিনিধি।