বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এক দফা দাবিতে বিএনপিসহ রাজনৈতিক দলগুলো মাঠে নেমেছে। আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর হবে। এক দফা দাবির কোনো বিকল্প নেই।
রাজধানীর সিক্স সিজন হোটেলে গতকাল সোমবার বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সভাপতি জয়নুল আবেদীনের লেখা ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল, সর্বোচ্চ আদালতের রায় লঙ্ঘন’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
দেশ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে মন্তব্য করে সাবেক বিচারপতি মীর হাসমত আলী অভিযোগ করে বলেন, গণতন্ত্রের নামে দেশে এখন লাঠিতন্ত্র চলছে।
সাবেক বিচারপতি মিফতাহ উদ্দীন চৌধুরী বলেন, তৎকালীন প্রধান বিচারপতি উন্মুক্ত আদালতে বলেছিলেন, অন্তত দুটি মেয়াদে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা অনুযায়ী নির্বাচন হওয়া উচিত। কিন্তু এ রায়ের সঙ্গে লিখিত রায়ের মিল নেই।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক বোরহান উদ্দীন খান তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে হওয়া আদালতের রায়, সংবিধানের সংশোধনীর পূর্বাপরের ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা কোনো ব্যাপারই না। সংসদ অধিবেশন দিলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। কারণ এটি জনগণের চাওয়া, আদালতেরও এটি চাওয়া।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, তৎকালীন প্রধান বিচারপতি তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিষয়ে পরামর্শ নিতে আটজন অ্যামিকাস কিউরি নিয়োগ করলেন। তাদের মধ্যে সাতজন বললেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বহাল রাখা উচিত। ১৬ মাস পর ফরমায়েশি রায় লেখা হলো।
বইয়ের লেখক জয়নুল আবেদীন সূচনা বক্তব্যে বলেন, এটি গতানুগতিক বই নয়, তথ্যভিত্তিক আইনগত পর্যালোচনা। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায় অমান্য করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্ত করার সাংবিধানিক ও আইনগত ব্যাখ্যা।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির ড. আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সুপ্রিম কোর্টের সাবেক রেজিস্ট্রার জেনারেল ইকতেদার আহমেদ, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহম্মদ ইবরাহিম প্রমুখ।