মাঠে ফিরে ভাইয়ের বাধার মুখে লতিফ সিদ্দিকী

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর বহিষ্কৃত সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী দীর্ঘদিন পর নিজের নির্বাচনী এলাকা টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে গণসংযোগ করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার সকালে ১৯টি গাড়ির বহর নিয়ে গণসংযোগ শুরু করেন তিনি। দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকার পর নতুন করে রাজনীতিতে ফেরায় কালিহাতীতে নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

এদিকে আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর গাড়িবহরে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছোট ভাই মুরাদ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে। এ সময় দুই ভাইয়ের সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এ ছাড়া একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে।

গণসংযোগের অংশ হিসেবে কালিহাতীর জোকারচরে গতকাল বিকেলে চা-চক্রে অংশ নেন আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। তিনি সেখানে উপস্থিতদের উদ্দেশে বলেন, ‘স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তিকে কোনোভাবেই বাড়তে দেওয়া যাবে না। সর্বশক্তি প্রয়োগ করে তাদের দমন করতে হবে। বিএনপি আগামী অক্টোবর মাসে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের উৎখাত করার ঘোষণা দিয়েছে, এটা স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তির উত্থানের সুর। এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।’

এর আগে গতকাল সকালে দেলদুয়ার উপজেলার পাথরাইল-সিলিমপুর সড়কের দশকিয়া এলাকায় লতিফ সিদ্দিকীর গাড়িবহরে বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটে। অনুসারীদের নিয়ে তিনি আটিয়া মাজার জিয়ারত করতে যাচ্ছিলেন। তার ছোট ভাই মুরাদ সিদ্দিকী গাড়িবহরে বাধা দেন। এ ছাড়া লতিফ সিদ্দিকীর কর্মী-সমর্থকদের মারধরও করেন। তখন লতিফ সিদ্দিকী গাড়ি থেকে নেমে সামনে এগিয়ে যেতে থাকলে মুরাদ সেখান থেকে চলে যান। এ সময় দুই ভাইয়ের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে মুরাদ সিদ্দিকীর বহরে থাকা পাঁচটি গাড়ির মধ্যে একটি মাইক্রোবাসের সামনের কাচ ভাঙা হয়। পরে তিনি অনুসারীদের নিয়ে তার টাঙ্গাইল শহরের বাসায় চলে যান। লতিফ সিদ্দিকী আটিয়া মাজার জিয়ারত করে কালিহাতীর এলেঙ্গায় চলে যান।

তবে বড় ভাইয়ের গাড়িবহরে বাধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মুরাদ সিদ্দিকী। তিনি বলেন, ভাই কাদের সিদ্দিকী ও লতিফ সিদ্দিকীর সঙ্গে মাজার জিয়ারত করতে গিয়েছিলেন। মাজার জিয়ারত শেষে বাসায় চলে আসেন। সেখানে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘বিএনপি নেতারা ঘোষণা দিয়েছেন অক্টোবর মাসে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের উৎখাত করবে। আমার বিবেক থেকে এটা প্রতিহত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি তো কোনোকালেই সন্ত্রাস করিনি। এটা প্রতিহত করতে হলে জনগণের কাছে যেতে হবে। সেজন্য কালিহাতীর জোকারচর ও গোহালিয়াবাড়ি এলাকায় এসেছি। কোনো সভা-সমাবেশ না করে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করতে এসেছি। নেতাকর্মীদের বলছি, নিজেরা ঐক্যবদ্ধ হও। স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি ও সন্ত্রাসীদের মোকাবিলা করতে হবে। নির্বাচনের সিদ্ধান্ত ১৪ দলের নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেবেন।’

মুরাদ সিদ্দিকীর বিষয়ে সাবেক এ মন্ত্রী বলেন, ‘আমার চার-পাঁচ কর্মীকে সে মারধর করছে বলে তারা (অনুসারীরা) নালিশ করেছে। মুরাদ বিভিন্নজনকে মোবাইলে হুমকি দিচ্ছে, সেটি আমি জানি। এলেঙ্গার মেয়রকে সে ভয় দেখাচ্ছে। আমি তাকে কখনো রাজনৈতিক নেতা মনে করিনি। সে ঠিকাদার ও সন্ত্রাসী। এর বাইরে তাকে নিয়ে আমি কোনো চিন্তা করিনি। ছাত্ররাজনীতি ও আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিল আজাদ সিদ্দিকী। আমার জানামতে মুরাদ কোনো দিন আওয়ামী লীগ করেনি, ছাত্রলীগও করেনি। তাই তাকে নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই।’

এ বিষয়ে দেলদুয়ার থানার ওসি নাছির উদ্দিন মৃধা বলেন, ‘ঘটনাস্থলে আমি নিজে ছিলাম। হামলা বা ভাঙচুরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে দুপক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে।’