জামালপুরে সাংবাদিক গোলাম রব্বানী নাদিম হত্যার প্রধান আসামি মাহমুদুল আলম বাবুকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ স্থগিত করেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। অন্যদিকে আলোচিত আরেক আসামি সহিদুর রহমান লিপনকে উপজেলা তাঁতী লীগের সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সোমবার তাকে এই পদ দেওয়া হয়েছিল।
গত সোমবার হাইকোর্টের একটি অবকাশকালীন বেঞ্চ প্রধান আসামি চেয়ারম্যান বাবুকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের আদেশ দেয়। জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষে গত
মঙ্গলবার চেম্বার আদালতে আবেদন করা হয়। আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল বুধবার বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের আদালত আগামী ২০ নভেম্বর পর্যন্ত হাইকোর্টের আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ দেয়।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। তাকে সহযোগিতা করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন বাপ্পি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সাইফুল আলম। আসামিপক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোমতাজ উদ্দিন ফকির।
অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন জানান, আগামী ২০ নভেম্বর আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানি হবে।
সাংবাদিক নাদিম হত্যা মামলার প্রধান আসামি জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলার চার নম্বর সাধুরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান (পরে বরখাস্ত) মাহমুদুল আলম বাবু। তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের জেরে গত ১৪ জুন রাতে বাড়ি ফেরার পথে বকশীগঞ্জের পাটহাটি এলাকায় হামলার শিকার হন বাংলানিউজটুয়েন্টিফোরডটকম-এর গোলাম রব্বানী নাদিম। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৫ জুন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। হত্যার এ ঘটনায় নাদিমের স্ত্রী মনিরা বেগম ১৭ জুন বকশীগঞ্জ থানায় ২২ জনকে আসামি করে মামলা করেন।
এ মামলার এজাহারভুক্ত ১১ নম্বর আসামি সহিদুর রহমান লিপনকে মঙ্গলবার উপজেলা তাঁতী লীগের সভাপতি করা হয়েছিল। নানা আলোচনা-সমালোচনার মুখে তাকে কমিটি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। জেলা তাঁতী লীগের আহ্বায়ক অধ্যাপক জাকির হোসেন রুকু ও সদস্য সচিব মো. আরমান হোসেন সাগর স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে তাকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি জানানো হয়।
কমিটির সহ-সভাপতি মো. মাহবুবুর রহমান নাজমুলকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করা হয়েছে।
লিপন নাদিম হত্যাকান্ডের পর থেকে পলাতক ছিলেন। সম্প্রতি জামিন পেয়ে এলাকায় আসেন তিনি।
জামালপুর জেলা তাঁতী লীগের সদস্য সচিব বলেন, ‘আমরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই কমিটির বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার হয়। কিন্তু আমরা যে তাকে সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছি, তার জায়গায় সহ-সভাপতি মো. মাহবুবুর রহমান লিপনকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করেছি। সেই চিঠি আর কেউ ফেসবুকে দেয়নি। ফলে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল।’