সমাবেশে ফখরুল

নির্বাচনী পরিবেশ নেই তাই পর্যবেক্ষক পাঠাবে না ইইউ

সরকার পতনের এক দফা দাবি আদায়ে গতকাল শুক্রবার রাজধানী ঢাকার দুই প্রবেশমুখে সমাবেশ করেছে বিএনপিসহ সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো।

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির উদ্যোগে উত্তরার আবদুল্লাহপুর পলওয়েল মার্কেটসংলগ্ন মাঠে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি টিম দেশে এসেছিল। তারা দেশের রাজনীতিবিদ, কূটনৈতিক, পত্রিকার সম্পাদক ও জাতীয় পার্টি এবং আওয়ামী লীগের সঙ্গে আলোচনা করেছিল। তারা বলেছিল, দেশে গিয়ে বলব, এ দেশে নির্বাচনে পর্যবেক্ষক টিম পাঠাব কি না, তারা কী বলেছে? তারা বলেছে, বাংলাদেশে নির্বাচনের পরিবেশ নেই। তাই তারা পর্যবেক্ষক টিম পাঠাবে না।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের মা-বোনেরা জেগেছে, তারা এ সরকারকে আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না। দয়া করে সংসদ বিলুপ্ত করে নির্বাচন দিন। আমরা রাস্তায় নেমেছি। আমরা পদযাত্রা করেছি, রোডমার্চ করছি। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মাঠে আছি। কথা পরিষ্কার, শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচন হবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা তো বেশি কিছু চাইনি। শুধু চেয়েছি সরকারকে পদত্যাগ করে একটা সুষ্ঠু নির্বাচন দিক।’

সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, ‘এই মুহূর্তে দেশে যদি কেউ নির্যাতিত, বঞ্চিত থাকেন তিনি খালেদা জিয়া। তাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে আটকে রেখেছে সরকার তা কিন্তু আমরা জানি। তিনি একজন হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা। তার ডাকে কোটি কোটি মানুষ বেরিয়ে আসত, অথচ এই ফ্যাসিস্ট সরকার তাকে গৃহবন্দি করে রেখেছে।’

তিনি বলেন, ‘এ সরকার কাউকে ভোট দিতে দেয় না। সবকিছু জোর করে কেড়ে নেয়। বিশ্বের সব গণতান্ত্রিক দেশ যখন সুষ্ঠু নির্বাচন চাচ্ছে নির্দলীয় সরকারের অধীনে, তখন সরকার সংবিধানের দোহাই দিয়ে যাচ্ছে। কীসের সংবিধান, যেটা তোমরা কাটাছেঁড়া করে শেষ করে দিয়েছ।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেশে নির্বাচনের পরিবেশ নেই। এ কথা বিশ্বের সবাই জানে। এমনকি জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টিও বলেছে, যদি সরকার পদত্যাগ না করে তবে এ দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তাই সুষ্ঠু নির্বাচন হতে হলে শেখ হাসিনাকে পদত্যাগ করতে হবে। আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে এ সরকারকে পরাজিত করতে হবে। একটা নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনব্যবস্থা করতে হবে।’

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনারের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব আমিনুল হকের পরিচালনায় সমাবেশ আরও বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বকুল প্রমুখ।

একই সময়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে যাত্রাবাড়ী শহীদ ফারুক সড়কে অন্য একটি সমাবেশ হয়। দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালামের সভাপতিত্বে এবং ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব লিটন মাহমুদের পরিচালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘গত ১৫ বছরে আমরা অনেক নেতাকর্মীকে হারিয়েছি। আর হারাতে চাই না। দেশের জনগণ ফুঁসে উঠেছে। তারা রুখে দাঁড়িয়েছে। আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটিয়ে এক দফা দাবি বাস্তবায়ন করা হবে।’

এ ছাড়া বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি কারওয়ান বাজার এফডিসি গেটসংলগ্ন এলাকায় নিজেদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করে। ১২ দলীয় জোট বিজয়নগর পানির ট্যাংকি এলাকায়, এবি পার্টি বিজয়নগর হোটেল ৭১-এর উল্টো পাশে, সমমনা জোট পুরানা পল্টনে আল রাজী কমপ্লেক্সের সামনে সমাবেশ করে।