দিনাজপুর শহরে ব্রিটিশ আমলে নির্মিত হয়েছিল বেশ কয়েকটি ঢোপকল। যেগুলো থেকে স্থানীয়রা সুপেয় পানি পান করত। বর্তমানে এগুলোর বেশিরভাগই প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। অবশিষ্ট থাকা কিছু ঢোপকল জরাজীর্ণ ও ময়লা ফেলার স্থানে পরিণত হয়েছে। এ রকম কিছু ঢোপকল স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীদের হাতের ছোঁয়ায় নতুন রূপ পেয়েছে। তারা ঢোপকলগুলো পরিষ্কার ও রঙ করে নতুনভাবে চালু করেছেন। পৌরসভার সরবরাহ করা পানির লাইনের সংযোগ দিয়ে ঢোপকলগুলো চালু করায় স্থানীয়রা এগুলো থেকে পানি পান করতে পারছেন।
জানা যায়, ১৯৪০ সালে দিনাজপুরে তৎকালীন মহারাজা গিরিজানাথ রায় বাহাদুর জনগণের সুপেয় পানির ব্যবস্থা করার জন্য ঢোপকল নির্মাণ শুরু করেন। এরপর দিনাজপুর শহরে একে একে ২৫টি ঢোপকল নির্মাণ করা হয়। কিন্তু কালের বিবর্তণে ঢোপকলগুলো হারিয়ে যেতে বসেছে। বর্তমানে দিনাজপুর শহরের বুটিবাবুর মোড়, ডাবগাছ মসজিদ মোড়, লালবাগ চৌরাস্তার মোড়, কালিতলা থানা মোড়ে রয়েছে ঢোপকল। সম্প্রতি ফেসবুকভিত্তিক ‘বিউটিফুল দিনাজপুর’ গ্রুপের সদস্যরা ঢোপকলগুলো সংস্কার ও নতুনভাবে রঙ করে ব্যবহার উপযোগী করে।
দিনাজপুর শহরের ডাবগাছ মসজিদ এলাকার ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধ আকরাম হোসেন বলেন, ‘রাজাদের আমলে আমাদের এলাকায় একটি পানি খাওয়ার ঢোপকল নির্মাণ করা হয়। এরপর পৌরসভা কয়েকবার সংস্কার করেছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন ঢোপকলগুলো আর ব্যবহার হয় না। সেগুলো থেকে পানিও বের হয় না। কয়েকটি ছেলে ঢোপকলগুলো নতুন করে রঙ করে চালু করেছে। মনে হচ্ছে রাজার আমলে যেমন দেখেছি, এখনো সেই রকমই দেখছি।’
৬১ বছর বয়সী ইজিবাইক চালক আকাশ হোসেন বলেন, ‘২০ বছর আগে যখন রিকশা চালাতাম পানির তৃষ্ণা পেলে ঢোপকল থেকে পানি পান করতাম। প্রতিটি মোড়ে মোড়ে ঢোপকল ছিল। কিন্তু এখন সেই ঢোপকল আর নজরে পড়ে না। হাতেগোনা কয়েকটি ঢোপকল শহরে আছে। সেগুলো ব্যবহার উপযোগী ছিল না। এখন দেখছি সেগুলো নতুন রূপে ফিরেছে। ধন্যবাদ জানাই যারা ঢোপকলগুলো নতুন রূপে ফিরিয়ে দিয়েছে।’
স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য ফিরোজ মাহফুজ বলেন, ‘মহারাজার আমলে নির্মিত এই ঢোপকলগুলো দীর্ঘদিন অযত্ন আর অবহেলায় পড়ে ছিল। দেখতে খারাপ লাগছিল। আমরা কলগুলো পরিষ্কার করে নতুন করে রঙ করে দিয়েছি। এটা করে আমাদের খুব ভালো লাগছে।’
বিউটিফুল দিনাজপুর গ্রুপের অ্যাডমিন মাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘মহারাজার আমলে ২৫টির মতো ঢোপকল নির্মাণ করা হয়। কিন্তু বর্তমানে হাতে গোনা চার থেকে পাঁচটি ঢোপকল রয়েছে। সেগুলোও ব্যবহার উপযোগী ছিল না। বিষয়টি দেখার পর আমরা গ্রুপের সদস্যরা মিলে ঢোপকলগুলো ঘষামাজা করে নতুন করে রঙ করে দিয়েছি। আগে ঢোপকলগুলোর কাছে কেউ যেত না। তবে এখন নতুনের মতো হওয়ায় সাধারণ মানুষ ঢোপকলগুলো থেকে পানি খাচ্ছে।’