রোডমার্চে নজরুল

সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে নির্দলীয় সরকার চাই

এই দেশকে মুক্ত করতে আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়া, আমাদের নেতা তারেক রহমানের পরামর্শে আমরা বিএনপি ও বাংলাদেশের বিরোধী রাজনৈতিক দল একদফা দাবিতে আজ আন্দোলনরত আছি। আমরা এই সরকারের পতন চাই। যে সরকার ও সংসদ জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়নি, সেই সংসদ বাতিল করতেই হবে, সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে আমরা নির্দলীয় সরকার গঠন করতে চাই। আর সেই দাবিতে সারা দেশের মানুষ রোডমার্চ করছে, সভা করছে, মিছিল করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

গতকাল শনিবার দুপুর পৌনে ১২টায় বরিশাল নগরীর বঙ্গবন্ধু উদ্যানে বিএনপির বিভাগীয় রোডমার্চের আগে এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এদিকে বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় রোডমার্চে যাওয়ার পথে গৌরনদী উপজেলা বিএনপি ও যুবদল নেতাদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে যুব ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা এই হামলা চালান বলে দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন।

গতকাল সকালে বরিশাল থেকে রোডমার্চটি শুরু হয়। রোডমার্চে যোগ দিতে বরিশাল উত্তর জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়কের নেতৃত্বে একটি বহর মাইক্রোবাসে করে ঢাকা থেকে বরিশালে আসে। সকাল ৯টার দিকে বহরটি গৌরনদী বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছালে মাইক্রোবাসের গতি রোধ করে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন। তারা মাইক্রোবাস তল্লাশি করে নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করে। 

রোডমার্চ শুরুতে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘উন্নয়ন হয়েছে আওয়ামী লীগ নেতাদের। তাদের হাজার হাজার নেতাকর্মী শত শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। আর সাধারণ মানুষ আজ শেষ হয়ে যাচ্ছে। এই দেশে একটি শিশু জন্মগ্রহণ করে এক লাখ টাকার ঋণ মাথায় নিয়ে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণ এবং দেশে একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশের জন্য সরকার পতনের একদফা দাবিতে বিএনপি আন্দোলনে রয়েছে। আর সরকার পতনের মধ্য দিয়ে দেশে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আদায় করবে দেশের জনগণ।’

তিন আরও বলেন, দেশের মানুষ অনাচারের বিরুদ্ধে কথা বলতে গেলে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট, যা বদল করে করা হয়েছে সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্টে মামলা দেওয়া হয়, গ্রেপ্তার করা হয়। নারী-শিশু-সাংবাদিক পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের শাস্তি দেওয়া হয়। এই অবস্থা থেকে দেশ ও দেশের জনগণকে মুক্ত এবং দেশের ভবিষ্যৎ রক্ষা করতে আমাদের সংগ্রাম, যুদ্ধ করতে হবে।’

বরিশাল নগরীর সমাবেশে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুকের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন দলের স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য বেগম সেলিমা রহমান, বিএনপির দুই ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর ও আলতাফ হোসেন চৌধুরী, দুই যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ার ও হারুন-অর রশিদ, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান, কেন্দ্রীয় নেতা নজিমউদ্দিন আলম ও যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু প্রমুখ।

বরিশালে সমাবেশ শেষে বান্দ রোড থেকে বিএনপি নেতাদের নেতৃত্বে বিভাগীয় রোডমার্চ ঝালকাঠী হয়ে পিরোজপুরের উদ্দেশে রওনা করে। দুপুর দেড়টায় রোডমার্চ ঝালকাঠী পৌঁছে একটি সমাবেশ করে। দুপুর পৌনে ২টায় রোডমার্চটি পিরোজপুরের উদ্দেশে রওনা হয়। পরে পিরোজপুরে একটি সমাবেশের মধ্য দিয়ে রোডমার্চ কর্মসূচি শেষ করছে বরিশাল বিভাগীয় বিএনপি।

এর আগে বরিশাল মহানগর, বিভাগের ভোলা, বরগুনা ও পটুয়াখালী থেকে বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মী বিভিন্ন ধরনের যানবাহন নিয়ে বরিশাল নগরীর বঙ্গবন্ধু উদ্যানে সমবেত হয়।

গৌরনদীতে হামলা : বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। হামলায় আহতরা হলেন বরিশাল জেলা উত্তর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সায়েদুল আলম খান সেন্টু, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সরকারি গৌরনদী কলেজ ছাত্রসংসদের সাবেক ভিপি কেএম আনোয়ার হোসেন বাদল, পৌর বিএনপির সদস্য কামাল হোসেন, যুবদল নেতা আজিজুল ইসলাম ও মামুন হোসেন।

অন্যদিকে উপজেলার মাহিলাড়া বাসস্ট্যান্ডে বিএনপি নেতা আবদুল মালেক আকন ও ডিএসবি বাজারে বিএনপি নেতা মহিউদ্দিন হাওলাদারকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে স্থানীয় যুবলীগ নেতাকর্মীরা।

আহত সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সকালে বরিশাল শহরে বিএনপির রোডমার্চে যাওয়ার পথে গৌরনদী বাসস্ট্যান্ডে বসে স্থানীয় অর্ধশতাধিক ছাত্র ও যুবলীগ নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। এ সময় হামলাকারীদের ভয়ে তাদের রক্ষায় কেউ এগিয়ে না আসারও অভিযোগ রয়েছে। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে থানা-পুলিশের সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠান।

তবে বিএনপি ও যুবদল নেতাদের ওপর হামলার ঘটনায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে দাবি করেছেন গৌরনদী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এইচ এম জয়নাল আবেদীন।

এ বিষয়ে গৌরনদী মডেল থানার ওসি মো. আফজাল হোসেন জানিয়েছেন, হামলার ঘটনায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।