চবিতে সাংবাদিককে মারধর, ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল রবিবার দুপুরে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সভাপতি সাদ্দাম হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের জরুরি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চবি শাখা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এর আগে গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রথম আলোর চবি প্রতিনিধি মোশাররফ শাহকে মারধর করে ছাত্রলীগের কর্মীরা। মারধরের সময় তাকে ছাত্রলীগ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ না করার জন্য হুমকি দেওয়া হয়। কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের দ্বিতীয় ভবনের সামনে প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে চবি ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক সভাপতি রেজাউল হক রুবেলের অনুসারীরা তাকে মারধর করে।

এর কিছু পরেই বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে চবি শাখা ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইলিয়াছের নেতৃত্বাধীন বিজয় গ্রুপের অনুসারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় চবি শাখা ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক সভাপতির নেতৃত্বাধীন সিএফসি গ্রুপের নেতাকর্মীরা।

এ ছাড়া চলতি মাসে একাধিকবার সংঘর্ষে জড়ায় চবি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। চবি ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ডে বিরক্ত হয়ে গত শুক্রবার চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও চবি ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসাইনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেন। এ সময় তিনি ছাত্রলীগের কমিটি ভেঙে দিয়ে যারা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন। চবি ছাত্রলীগের লাগাম টেনে ধরতে আগামী নির্বাচন পর্যন্ত এই ইউনিটের কার্যক্রম স্থগিত রাখার পরামর্শও দেন তিনি।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসাইন তাকে আশ্বস্ত করে বলেন, যারাই অপকর্মে যুক্ত থাকবে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে যাওয়া সংঘর্ষের ঘটনা পর্যবেক্ষণ করছেন বলেও ওই সময় জানান তিনি।

কমিটি বিলুপ্তির বিষয়ে চবি শাখা ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক সভাপতি রেজাউল হক রুবেল বলেন, ‘বর্তমান কমিটি তার দায়িত্ব শেষ করেছে। কেন্দ্রীয় কমিটি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তার প্রতি আমার সম্মান রয়েছে।’

ছয় বছর পর গত বছর ৩১ জুলাই চবি ছাত্রলীগের ৪২৫ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল।

এদিকে আহত সাংবাদিক মোশাররফ শাহকে গতকাল প্রথমে চবি মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে বুক ও হাতে আঘাত থাকার কারণে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়।

চবি মেডিকেল সেন্টারের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মো. আবু তৈয়ব বলেন, ‘সাংবাদিক মোশাররফের কপালে বেশ রক্তক্ষরণ হয়েছে। কপালে চারটি সেলাই দিতে হয়েছে। তার হাতেও আঘাত আছে। এক্স-রে করাতে হবে। এ ছাড়া উন্নত চিকিৎসা জন্য চমেকে পাঠানো হয়েছে।’

আহত মোশাররফ শাহ বলেন, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপাচার্যের কার্যালয়ে যাওয়ার সময় দ্বিতীয় কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের সামনে ১৫-২০ ছাত্রলীগের কর্মী তাকে প্রথমে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এরপর ছাত্রলীগ নিয়ে কেন প্রতিবেদন তৈরি করেছেন, তা জানতে চায়। কয়েকজন তার কপালে, মুখে কিল-ঘুসি দেয়। তারা বুকেও লাথি মারে। হাতেও আঘাত করে। মারধরের সময় নেতাকর্মীরা তাকে পরবর্তী সময়ে আর ছাত্রলীগ নিয়ে প্রতিবেদন না প্রকাশের জন্য হুমকি দেয়। তারা বলে, ‘আর নিউজ করিস, তারপর দেখব তোরে কে বাঁচাতে আসে। ছাত্রলীগকে নিয়ে কোনো নিউজ হবে না।’

সাংবাদিক মোশাররফ শাহকে মারধরের প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে মানববন্ধন করে বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি।

এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে চবি সাংবাদিক সমিতির (চবিসাস) সাধারণ সম্পাদক ইমাম ইমু বলেন, ‘সাংবাদিকদের মারধরের ঘটনা এটাই প্রথম নয়। প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। দোষীদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ী বহিষ্কার ও গ্রেপ্তারের দাবি জানাই। দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রশাসন এর ব্যবস্থা না নিলে বৃহত্তর কর্মসূচিতে যাবে চবিসাস।’