ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত মার্সা বার্নিকাটের গাড়িবহরে হামলার মামলায় ৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে সম্পূরক অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। গতকাল রবিবার ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখায় এ চার্জশিট জমা দেওয়া হয়। এতে অন্য আসামিদের সঙ্গে মোহাম্মদ ইশতিয়াক মাহমুদ নামে একজনের নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন করা হয়েছে। ইশতিয়াক এ মামলার বাদী সুজন (সুশাসনের জন্য নাগরিক) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারের শ্যালক।
মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক (এখন সভাপতি) নাইমুল হাসান, তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মীর আমজাদ হোসেনের নাম রয়েছে। এ ছাড়া চার্জশিটে ফিরোজ মাহমুদ, মো. সাজু ইসলাম, রাজিবুল ইসলাম রাজু, শহিদুল আলম খান কাজল, সিয়াম, অলি আহমেদ ওরফে জনি নামে আরও ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এতে ১৯ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।
আসামি ইশতিয়াকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করা হয়েছে। এ ছাড়া আগের চার্জশিটে নাম থাকা মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি মুজাহিদ আজমি তান্না মারা যাওয়ায় তাকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৮ সালে ৪ আগস্ট রাতে বদিউল আলম মজুমদারের মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডের বাসায় নৈশভোজে অংশ নিতে যান মার্সা বার্নিকাট। এতে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও সুজন সভাপতি হাফিজ উদ্দিন আহমেদও অংশ নেন। একপর্যায়ে সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করে ওই বাসায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। নৈশভোজ শেষে বেরিয়ে যাওয়ার সময় মার্সা বার্নিকাটের গাড়িকে ধাওয়া করে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় একই বছরের ১০ আগস্ট বদিউল আলম মজুমদার বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় একটি মামলা করেন। ২০১৯ সালের ১৯ জানুয়ারি ঘটনার তদন্ত করে চার্জশিট দেয় ডিবি। ৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিটের ভিত্তিতে সাক্ষ্য শুরু হওয়ার পর সাক্ষীদের বক্তব্যে এ ঘটনায় ইশতিয়াকের নাম উঠে আসে। এরপর মামলাটি অধিকতর তদন্তের আবেদন করা হলে তা মঞ্জুর করে আদালত।