বিগত দুই নির্বাচন নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তার চাপ বর্তমান ইসির ওপর এসে পড়েছে বলে মনে করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। তিনি বলেন, আস্থার সংকটই নির্বাচনের আসল সংকট। তাই এই কমিশনের দায়িত্ব বেড়ে গেছে। আগামী নির্বাচন নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু করার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছে ইসি।
গতকাল রবিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে নির্বাচন ব্যবস্থাপনাবিষয়ক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিইসি এসব কথা বলেন।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), উপজেলা ও থানা নির্বাচন কর্মকর্তারা এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন।
এর আগে ২০১৪ সালে দশম এবং ২০১৮ সালে একাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। দশম সংসদ নির্বাচনে বিএনপিসহ সরকারবিরোধী দলগুলো অংশ নেয়নি। অন্যদিকে একাদশ সংসদ নির্বাচনে নিবন্ধিত প্রায় সব দল অংশ নিলেও ‘দিনের ভোট রাতে’ হয়েছে বলে অভিযোগ তোলে বিএনপিসহ কয়েকটি দল। তারা ফল প্রত্যাখ্যান করে পুনরায় নির্বাচনও দাবি করে। যদিও পরে সংসদে যোগ দেয়।
সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘আমরা আগামীতে যে নির্বাচন করতে যাচ্ছি, তার বিশেষ দিক হচ্ছে অভিযোগের মাত্রা অতিরিক্ত। নির্বাচন নিয়ে সমালোচনা-বিতর্ক থাকতে পারে। অতীতে, এমনকি ব্রিটিশ আমলেও নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক হয়েছে।’
কর্মকর্তাদের উদ্দেশে সিইসি বলেন, ‘আপনাদের মনে রাখতে হবে, ক্রেডিবল বলে একটা শব্দ আছে। এই শব্দটা শুধু আমাদের দেশের আইনে নয়, সব দেশের আইনে এবং আন্তর্জাতিক যে আইসিসিপিআর আছে ইউনিভার্সাল ডিক্লারেশন অব হিউম্যান রাইটস, সেখানেও ডেমোক্রেসির ক্ষেত্রে এই শব্দটা ব্যবহার করা হয়েছে; নির্বাচনগুলো ক্রেডিবল হতে হবে। ক্রেডিবল তখনই হবে, যখন আমরা আমাদের দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে স্বচ্ছতা প্রতিপাদিত করতে পারব।’
ডিজিটাল প্রযুক্তি থাকায় এটা সম্ভব, এমন মন্তব্য করে সিইসি বলেন, মিডিয়ার কর্মীরা তাৎক্ষণিক তথ্যগুলো ধারণ করে সরাসরি সম্প্রচার করতে পারেন। এদিক থেকে জবাবদিহি অনেক সহজ হয়ে গেছে এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা, এটা শুধু অবাধ হবে তা নয়, এটা স্বচ্ছছভাবে হচ্ছে, দেখা যেতে হবে।’
এ সময় সব নির্বাচনী কর্মকর্তাকে নিরপেক্ষতার সঙ্গে ভোট অনুষ্ঠানে কাজ করার আহ্বান জানান সিইসি। এর আগে জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে উপজেলা নির্বাচনী কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন করেন সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল।