বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘খালেদা জিয়া আমাদের অনুপ্রেরণা, বাতিঘর। ৯ বছর স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করছেন, আপস করেননি। তারপর এখনো গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করে চলেছেন। আজকে তিনি মৃত্যুশয্যায় বলা যেতে পারে। সেখানেও তিনি পরিষ্কার করে বলে দিয়েছেন, গণতন্ত্রের প্রশ্নের কোনো আপস নেই। কোনো শর্ত মেনে নিয়ে আমি কোথাও যাব না। তৎকালীন বেআইনি সরকারের লোকরা (১/১১) বলেছিল বিদেশে চলে যাও, তিনি বলেছিলেন, এই দেশ ছাড়া কোথাও আমার জায়গা নেই। তখন কিন্তু অন্যরা (শেখ হাসিনা) বিদেশে চলে গিয়েছিলেন।’
গতকাল বুধবার দুপুরে রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ ও গণতান্ত্রিক পেশাজীবী ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে আয়োজিত পেশাজীবী কনভেনশনে মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন। এতে সারা দেশ থেকে শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী, কৃষিবিদ, সাংস্কৃতিককর্মীসহ বিভিন্ন পেশার ২২টি সংগঠনের দেড় সহস্রাধিক প্রতিনিধি অংশ নেন বলে আয়োজকরা জানান।
আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সংবাদ সম্মেলনের দেওয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি (আইনমন্ত্রী) বলেছেন, ‘আমি নাকি ভুল বলেছি, মিথ্যাচার করেছি। এখানে আইনজীবীরা আছেন, ৪০১ ধারায় পরিষ্কার বলা আছে, সরকার সরকার সরকার। তার (সরকার) ক্ষমতা আছে শাস্তি মওকুফ করে দেওয়ার, মাফ করে দেওয়ার, সাময়িকভাবে স্থগিত করার। দ-কে মাফ করে দিয়ে তাকে বিদেশে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়ার। অথচ বেমালুম বলে যাচ্ছে, কোনো সুযোগ নেই, তাকে কারাগারে গিয়ে আবেদন করতে হবে। এই ধরনের কথাবার্তা বলার মানে হচ্ছে, খালেদা জিয়াকে আপনারা হত্যা করতে চান।’
লন্ডনে এক নাগরিক সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপি প্রধান সম্পর্কে যেসব বক্তব্য রেখেছেন তার জন্য ‘জনগণ নিকৃষ্টতম ধিক্কার ও নিন্দা জানাচ্ছে’ মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, তিনি তার বক্তব্যে কয়েকটি সত্য কথা বলে দিয়েছেন। তা হলোÑ এ দেশে যা কিছু ঘটে তা শেখ হাসিনার ইঙ্গিতে ঘটে। খালেদা জিয়াকে ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার তার স্বীকারোক্তিতে তা প্রমাণিত। এতে আরও স্পষ্ট হয়েছে, এ দেশে বিচার বিভাগের কোনো প্রয়োজন নেই। শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তই হলো সিদ্ধান্ত। এখন শেখ হাসিনা নিজেকে নিজে সম্রাট ঘোষণা দিলে পারেন।’
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘দিল্লি আছে, আমরাও আছি, আমরা আছি দিল্লিও আছে? কী বোঝাতে চাইছেন (ওবায়দুল কাদের)? দিল্লি কি আপনাদের জানিয়েছে যে, এভাবে অপকর্ম করতে থাকো? বলে দিয়েছে দরকার নেই নির্বাচনের? জোর করেই নির্বাচন ঘোষণা করে দাও? তাহলে পরিষ্কার করে বলেন? আওয়ামী লীগ এত বেশি পা-চাটা হয়ে গেছে, তাদের সাধারণ সম্পাদক বলছেন, ভয় নেই, ও রে ভয় নেই। তলে তলে আপস হয়ে গেছে। তাহলে স্বীকার করলেন এত দিনে আপস ছিল না। আগে তাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, আলোচনা হয়েছে। আসলে কোনো আলোচনা হয়নি। বৈঠকও হয়নি। ছবি তোলার জন্য কত লবিং করেছে সেটা আমরা সবাই জানি।’
ফখরুল বলেন, দেশ সারা বিশ্বে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপে দেখতে চায়, তারা স্পষ্ট করে বলে দিয়েছে, ২০১৪ সালে নির্বাচন হয়নি, ২০১৮ সালেও কোনো নির্বাচন হয়নি। এবারও তাদের অধীনে কোনো নির্বাচন হতে পারে না। তাদের অধীনে নির্বাচন কখনো বৈধতা দেওয়া হবে না।
সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট এ জে মোহাম্মদ আলীর সভাপতিত্বে সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের সদস্য সচিব কাদের গণি চৌধুরী, পেশাজীবী নেতা কামরুল ইসলাম সজল, আবদুস সালাম ও শামীমুর রহমানের যৌথ সঞ্চালনায় পেশাজীবী পরিষদের অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন, অধ্যাপক আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনসহ বিভিন্ন পেশার নেতারা বক্তব্য রাখেন।
এতে বিএনপির আবদুল মঈন খান, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, জেএসডির আ স ম আবদুর রব, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।