বিএনপি নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করে দেশের গণতন্ত্র বাধাগ্রস্ত করার পথে হাঁটছে, এমন মন্তব্য করে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘এ দেশের মানুষ তা হতে দেবে না। যথাসময়ে নির্বাচন হবে এবং কেউ নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা চালালে দেশের মানুষ যেমন প্রতিহত করবে, একইভাবে নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার প্রক্রিয়া কখনো বিদেশিরাও সমর্থন করে না।’
গতকাল শুক্রবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের বঙ্গবন্ধু হলে এক অনুষ্ঠান শেষে তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
একুশে পত্রিকার সদ্যপ্রয়াত সম্পাদক আজাদ তালুকদারের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল ও শোকসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন তিনি। এরপর চট্টগ্রামে বিএনপির রোডমার্চ ও নতুন কর্মসূচির বিষয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন তথ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘বিএনপি মহাসচিব বলেছেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচনে তারা অংশগ্রহণ করবেন না, এতেই প্রমাণিত হয় তারা নির্বাচনকে ভয় পাচ্ছেন। কারণ তাদের কর্মসূচি ও সমাবেশগুলোতে মানুষ হচ্ছে না। ফলে তারা বুঝতে পেরেছেন নির্বাচনে জয়লাভের সম্ভাবনা নেই, তাই নির্বাচনকে ভয় পাচ্ছেন। এজন্য নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার পথে তারা হাঁটছে।’
হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বিএনপি গত ১৩-১৪ বছরে বহুবার এমন আলটিমেটাম দিয়েছে। গত ডিসেম্বরেও তাদের আলটিমেটাম ছিল, তারপর খালেদা জিয়াকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিদেশ পাঠানোর আলটিমেটামও ছিল। এখন ১৮ তারিখ আবার আলটিমেটাম দিয়েছে। এই বছরের ১৮ তারিখ নাকি আগামী বছরের ১৮ তারিখ, নাকি তারও পরের বছরের ১৮ তারিখÑ সেটিও অনেকে প্রশ্ন রেখেছে।’
বিএনপির আলটিমেটাম ফাঁকা বুলি ছাড়া অন্য কোনো কিছু নয়, এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব চট্টগ্রামে দলীয় কার্যালয়ের সামনে রোডমার্চ শেষে বক্তব্য রেখেছেন। সেখানে যে সংখ্যক মানুষ হয়েছে, চট্টগ্রামের লালদীঘির পাড়ে অনেক সময় যখন পাগল নাচে তখনো এর কাছাকাছি মানুষ হয়। সুতরাং তাদের কর্মসূচিতে লোক সমাগম সেভাবে হয়নি এবং তারা প্রচ- হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। আশা করেছিল, বিদেশিরা তাদের কোলে করে ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে, সেই আশাও বুমেরাং হয়েছে।’
সাংবাদিকদের উদ্দেশে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক হয়েছে এবং জি-২০ সম্মেলনে কীভাবে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হয়েছে, জো বাইডেনসহ অন্যান্য বিশ্বনেতার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় হয়েছে, এতে বিএনপি হতাশ হয়ে পড়েছে।’
এর আগে শোকসভায় প্রয়াত একুশে পত্রিকা সম্পাদক আজাদ তালুকদারের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘আজাদ তালুকদার একজন লড়াকু মানুষ ছিলেন। তিনি যেমন অকুতোভয় সাংবাদিক ছিলেন, একই সঙ্গে একজন লড়াকু মানুষ ছিলেন। ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার পরও তিনি কিন্তু ক্ষান্ত হননি, দমে যাননি। ক্যানসারের সঙ্গে অবিরত লড়াই করেছেন।’
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মৃত্যুর কদিন আগে আমি যখন হাসপাতালে আজাদ তালুকদারকে দেখতে যাই, তখন তিনি যেভাবে মৃত্যুর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন এবং মৃত্যুর পর কী করতে হবে দুয়েকটি কথাও আমাকে বলেছেন। একটা মানুষ জানেন, তিনি মৃত্যুপথযাত্রী, এরপরও অবিচল, সেই চারিত্রিক দৃঢ়তা আমি তার মধ্যে দেখেছি।’
একুশে পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক নজরুল কবির দীপুর সভাপতিত্বে শোকসভায় অন্যদের মধ্যে চট্টগ্রাম বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ওবায়দুল করিম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. মো. সেকান্দর চৌধুরী, রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার মেয়র শাহজাহান সিকদার, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্য কলিম সরওয়ার, বিএফইউজের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব কাজী মহসিন, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রুবেল খান, সাধারণ সম্পাদক ম শামসুল ইসলাম, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক দেবদুলাল ভৌমিক, সাবেক সভাপতি আলী আব্বাস, সহসভাপতি চৌধুরী ফরিদ, ক্রীড়া সম্পাদক সোহেল সরওয়ার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।