আ.লীগের সংঘর্ষে আহত ৫০ শতাধিক ছাত্রী অসুস্থ

ময়মনসিংহের নান্দাইলে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের দুপক্ষের সংঘর্ষ হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুরে দুই ঘণ্টা ধরে চলা এ সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হন। সংঘর্ষের কারণে প্রায় দেড় ঘণ্টা ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল।

এদিকে সংঘর্ষের মাঝখানে পড়ে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা ভয়ে দিগি¦দিক ছোটাছুটি করতে থাকে। সংঘর্ষ থামানোর জন্য পুলিশের ছোড়া কাঁদানে গ্যাসের ঝাঁজালো গন্ধে নান্দাইল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শতাধিক ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

স্থানীয় সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আবেদীন খান তুহিন এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) আবদুস সালাম ও সাধারণ সম্পাদক মো. আমিনুল ইসলাম সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়।

জানা গেছে, গতকাল উপজেলা আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলো এক প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করে। তারা স্থানীয় সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আবেদীন খান তুহিনের অনুসারী। কিন্তু উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পক্ষ বিষয়টি জানত না। কর্মশালা শুরু হওয়ার এক ঘণ্টা আগে দুপক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়।

দলের নেতাকর্মীরা জানান, গতকাল দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন বিষয়ে ‘রোড টু স্মার্ট বাংলাদেশ’ নামে প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করে উপজেলা যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তারা সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আবেদীন খানের অনুসারী বলে পরিচিত। দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে নান্দাইল উপজেলা পরিষদে মিলনায়তনে দিনব্যাপী এ কর্মশালা শুরু হওয়ার কথা ছিল। আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক কবির বিন আনোয়ার প্রধান আলোচক হিসেবে কর্মশালায় উপস্থিত থাকবেন বলে জানানো হয়।

তবে কর্মশালা আয়োজনের বিষয়টি নান্দাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পক্ষের নেতারা জানতেন না। কর্মশালা শুরু হওয়ার আগে ওই পক্ষের নেতারা অনুষ্ঠানস্থলে যান। এ সময় প্রতিপক্ষের অনুসারীরা তাদের বাধা দেন। এ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি এবং পরে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এরপর শুরু হয় সংঘর্ষ। দুই গ্রুপের উত্তেজিত নেতাকর্মীরা উপজেলা পরিষদের হলরুমে ঢুকে হলরুম ও হলরুমের সামনে থাকা বেশ কিছু মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেন। এমন পরিস্থিতিতে আয়োজকরা ‘রোড টু স্মার্ট বাংলাদেশ’ প্রশিক্ষণ কর্মশালা বাতিল করেন।

পরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গৌরীপুর সার্কেল) মোহাম্মদ সুমন মিয়ার নেতৃত্বে নান্দাইল মডেল থানা ও হাইওয়ে থানার পুলিশ সদস্যরা টিয়ার গ্যাসের বেশ কয়েকটি শেল ছুড়ে দুপক্ষের নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সংঘর্ষে আহতদের নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসার পর আটজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে নান্দাইল উপজেলা সদরে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। জোরদার করা হয়েছে পুলিশি টহল।

সংঘর্ষের বিষয়ে জানতে চাইলে নান্দাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম শাহান বলেন, ‘দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে ওরিয়েন্টেশন হবে, অথচ উপজেলা আওয়ামী লীগকে অবহিত করা হয়নি। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কেন অবহিত করা হয়নি তা জানতে আমরা সেখানে সমবেত হই। এ সময় এমপি তুহিনের লোকজন আমাদের ওপর হামলা চালায়।’

অন্যদিকে নান্দাইল উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের সদস্য আবু বক্কর সিদ্দিক বাহার বলেন, ‘দলীয় নেতাকর্মীদের অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করে ওরিয়েন্টেশনে অংশগ্রহণ করতে হয়। এ হামলার জন্য উপজেলা আওয়ামী লীগ দায়ী।’

নান্দাইল সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন মিয়া জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে।