বিএনপি নেতাদের পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে ট্রেনে চড়ার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘লজ্জা-শরম ভেঙে পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে ট্রেনে চড়ুন, টিকিট আমরাই কেটে দেব।’
গতকাল বুধবার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে রংপুর ও দিনাজপুর জেলা এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শাজাহান খান এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, কেন্দ্রীয় সদস্য হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়া প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি নেতারা চুপি চুপি পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে গেছে, লজ্জা লাগে। এখনো বিএনপি নেতাদের অনুরোধ জানাব, লজ্জা-শরম ভেঙে আসুন, আপনারা পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে ট্রেনে চড়ুন, টিকিটটা আমরাই কেটে দেব। আবার বিনা টিকিটে যাওয়ার চেষ্টা করবেন না।’
নানামুখী ষড়যন্ত্র হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দেশের গণতন্ত্রকে নস্যাৎ করার জন্য একটি মহল উঠে-পড়ে লেগেছে, একটি মহল দেশে তাঁবেদার সরকার বসাতে চায়। হামিদ কারজাই মার্কা সরকার বসাতে চায়। আরেকটি মহল সেটির মদদদাতা হিসেবে কাজ করছে। সেই প্রেক্ষাপটে আজকের এই বৈঠক তৃণমূলকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কার্যক্রমের অংশ। কারণ আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকি দেশের কোনো শক্তি নাই, আওয়ামী লীগকে পরাজিত করতে পারে। সে জন্য ঐক্য এবং সংহতির ওপর আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি।’
এ সময় পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন দেশের উদাহরণ দিয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান বলেন, ‘পশ্চিম বাংলা বামফ্রন্ট তিন দশকের বেশি ক্ষমতায় ছিল সংগঠনের কারণে। মালয়েশিয়া যে দলের নেতৃত্বে স্বাধীনতা অর্জন করেছে, সেই দল পাঁচ দশকের বেশি ক্ষমতায় ছিল সংগঠনের কারণে। সিঙ্গাপুরে যে দলের নেতৃত্বে স্বাধীনতা এসেছে, সেই দল এখনো রাষ্ট্রক্ষমতায়। সেখানেও বহুমুখী গণতন্ত্র কিন্তু সে দল এখনো রাষ্ট্রক্ষমতায়।’
তথ্যমন্ত্রী বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘মার্কিন জরিপে উঠে এসেছে জননেত্রী শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা ৭০ ভাগ। পরশু দিন আইএমএফ রিপোর্ট দিয়েছে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশ। আর পুরো পৃথিবীর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশ। আমি জানি না, এসব জরিপ মির্জা ফখরুল সাহেবদের চোখে পড়ে কি না। তাদের চোখেও সমস্যা আছে, কানেও সমস্যা আছে। সেই সাথে মনের সমস্যা আছে, বোধশক্তির সমস্যা আছে, সে কারণে তারা এগুলো দেখেও দেখে না, শুনেও শোনে না।’
‘দেশের প্রবৃদ্ধি বৈশ্বিক গড়ের দ্বিগুণ হবে, আইএমএফের এ রিপোর্টে বিএনপি কী বলবে’ : তথ্যমন্ত্রী বলেছেন, বিশ্বময় যখন অর্থনৈতিক মন্দা এবং প্রবৃদ্ধি নিচের দিকে যাচ্ছে, সেখানে বিশ্বের গড় প্রবৃদ্ধির চেয়ে আমাদের প্রবৃদ্ধি বেশি হবে, এটি আইএমএফের রিপোর্ট। এই রিপোর্টের পর মির্জা ফখরুল সাহেব কিংবা বিএনপি নেতারা কী বলেন, এখন আমি অপেক্ষায় আছি।’
গতকাল দুপুরে সচিবালয়ে বাংলাদেশ সম্পাদক ফোরামের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
সাংবাদিকরা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লিখিত ‘চলতি বছরের বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি আগের ৩ দশমিক ৫ থেকে কমে ৩ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে আরও কমে ২ দশমিক ৯ শতাংশ হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের নিচে নামবে না এবং ২০২৮ সালে ৭ শতাংশ হবেÑ এ নিয়ে মন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া জানতে চায়। জবাবে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী চলমান মন্দার মধ্যেও আমাদের প্রবৃদ্ধির হার অন্যান্য দেশের চেয়ে অনেক ভালো। নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে অনেক কথা হয়, কিন্তু আসলে পৃথিবীর সব দেশে নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। অবশ্যই নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের কষ্ট হচ্ছে, সরকার চেষ্টা করছে নানা ধরনের প্রণোদনা দিয়ে টিসিবির মাধ্যমে ১ কোটি ফ্যামিলি কার্ড দিয়ে, ৫০ লাখ মানুষকে কম টাকায় চাল বিতরণ করে, আরও ১ কোটি মানুষকে নানা ধরনের খাদ্যশস্য বিতরণের মাধ্যমে কষ্ট লাঘবের চেষ্টা করছে। যে কারণে বাংলাদেশে হাহাকার নাই।’
বিএনপি নেতা শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিকে গ্রেপ্তারের পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিরূপ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘মির্জা ফখরুল সাহেব কি বলতে চাচ্ছেন কারও বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট থাকলেও তাকে গ্রেপ্তার করা যাবে না। ওয়ারেন্ট থাকলে তো গ্রেপ্তার হবেই। ওয়ারেন্ট থাকলে তো আওয়ামী লীগ নেতাও গ্রেপ্তার হয়। যার বিরুদ্ধে ভাঙচুরের, অগ্নিসংযোগের কিংবা অন্য কারণে ওয়ারেন্ট আছে তাহলে পুলিশ তো তাকে গ্রেপ্তার করবেÑ এটিই স্বাভাবিক। এটিই আইনি প্রক্রিয়া, এটিই আইনি ভাষা। তারা যে আইন-আদালত মানে না, বিচার মানে না, সেটিরই প্রমাণ হচ্ছে এ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল সাহেবের বক্তব্য।’
এর আগে বাংলাদেশ সম্পাদক ফোরামের প্রধান উপদেষ্টা ডেইলি অবজারভারের সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরীর নেতৃত্বে উপদেষ্টা আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়া, শরিফ সাহাবুদ্দিন, বেলায়েত হোসেন, আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম রতন, সদস্য সচিব ফারুক আহমেদ তালুকদার এবং সম্পাদকদের মধ্যে রিমন মাহফুজ, মফিজুর রহমান খান বাবু, শামীম সিদ্দিকী, মাহবুবুর রহমান, দীপক আচার্য, নাজমুল আলম তৌফিক প্রমুখ মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন।