পাঁচ নবজাতকের জন্ম দিলেন মা

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একসঙ্গে পাঁচ নবজাতকের জন্ম দিয়েছেন এক মা। এর মধ্যে এক ছেলে ও চার মেয়ে শিশু।

তবে ভূমিষ্ঠ হওয়া নবজাতকদের ওজন কমসহ জটিলতার কারণে এক মেয়ে শিশুর মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন একটি শিশুর স্বাভাবিক ওজন আড়াই কেজি হলেও শিশুগুলোর ওজন এক কেজির কম। ফলে বাকি চার শিশুকে এনআইসিইউতে রাখা হয়েছে। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। মায়ের অবস্থা ভালো রয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে হাসপাতালটির গাইনি ওয়ার্ডে নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে পাঁচটি শিশুর জন্ম দেন মা মনসুরা আক্তার (২১)। তিনি নরসিংদীর শিবপুরের বান্ধারদিয়া গ্রামের সিএনজি অটোরিকশার চালক আমির উদ্দিন মামুনের স্ত্রী।

তার বাবার বাড়ি একই উপজেলার নিনগাও গ্রামে। আড়াই বছর আগে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় তাদের।

গাইনি ওয়ার্ডের ইউনিট-৬-এর প্রধান অধ্যাপক ডা. সুলতানা আফরোজ শিলার তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন আছেন বাচ্চাদের মা। ইউনিটের ডিউটিরত চিকিৎসক ডা. মাশরিমা মোরশেদ মিশি জানান, সকালে লেবার ওয়ার্ডে ভর্তি হন মনসুরা। পরে নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে পাঁচটি সন্তান প্রসব করেন তিনি। মায়ের অবস্থা ভালো থাকলেও পাঁচটি নবজাতকে এনআইসিইউতে রাখা হয়। সেখানে এক মেয়ে নবজাতকের মৃত্যু হয়।

নবজাতকদের মা মনসুরা আক্তার বলেন, এটি তাদের প্রথম বাচ্চা। সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন তিনি। গতকাল নিয়মিত চেকআপের জন্য শিবপুরের একটি ক্লিনিকে যান। সেখান থেকে তাদের বলা হয়, তার গর্ভে পাঁচটি নবজাতক রয়েছে। তাদের ঢাকায় এসে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলেন। সেজন্য বৃহস্পতিবার সকালে তারা ঢাকায় আসার জন্য পূর্ব পরিকল্পনা করে রাখেন। তবে ভোরে মনসুরার প্রচন্ড ব্যাথা শুরু হলে দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসা হয়।

তার স্বামী মামুন বলেন, রাস্তায় গাড়িতে থাকা অবস্থার অবনতি হতে থাকে। এরপর সকাল ৮টার দিকে ঢাকা মেডিকেলে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকরা পাঁচটি বাচ্চার নরমাল ডেলিভারি করেন। তবে পাঁচ নবজাতকেরই ওজন খুবই কম। তাদের এনআইসিইউতে রেখেছেন চিকিৎসকরা। তবে সন্তানদের মায়ের অবস্থা ভালো আছে।