ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নিষেধাজ্ঞা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কোথায় গণতন্ত্র এনেছে

নিষেধাজ্ঞা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কোথায় গণতন্ত্র এনেছে এ প্রশ্ন রেখে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, ‘আমি (মার্কিন কর্মকর্তা) তাদের প্রশ্ন করেছিলাম, তোমরা নিষেধাজ্ঞা দিয়ে কোন দেশে গণতন্ত্র এনেছ? তোমরা নাইজেরিয়া, কম্বোডিয়া, হাঙ্গেরিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলে। কোথাও কি তোমরা সফল হয়েছ? উত্তরে জানিয়েছে, কোথাও না। সুতরাং এগুলো অকাম। এগুলো উত্তেজনার সৃষ্টি করে।’

গতকাল বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের উপসহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী আফরিন আখতারের ঢাকা সফর প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তার এ সফরটি রোহিঙ্গাবিষয়ক হলেও দেশের জাতীয় নির্বাচন নিয়েও আলোচনা হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন দেখতে চায়। আমরাও অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কিন্তু সরকার চাইলেই সংঘাত ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচনের বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিতে পারে না। এটার জন্য সব দলের দায়িত্ব রয়েছে। সবার আন্তরিকতা থাকলে সংঘাত ছাড়া নির্বাচন করা সম্ভব।’

এদিকে গত বুধবার শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোতে ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওরা) ২৩তম মন্ত্রিপর্যায়ের বৈঠকের ফাঁকে আফরিন আখতারের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় ড. মোমেনের। সেই সাক্ষাতে আলোচনার বিষয়ে ড. মোমেন বলেন, তার সঙ্গে খুব ভালো আলাপ হয়েছে। নির্বাচন, মানবাধিকার ইস্যুসহ নানা বিষয়ে আলাপ হয়েছে। তাকে নির্বাচনের প্রস্তুতির বিষয়ে বলেছি। সরকার অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে, তা তুলে ধরেছি।

মার্কিন উপদেষ্টার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক মাঝপথে থেমে যাওয়ার তথ্য ‘মিথ্যা’ : সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভানের সঙ্গে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ মিশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক হয়। ওই বৈঠক মাঝপথে থেমে যায় বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যে সাংবাদিক এগুলো লিখেছেন, তিনি মিথ্যা লিখেছেন। তার কি সত্য-মিথ্যা যাচাই করার কা-জ্ঞান নেই?’

জাতীয় নির্বাচনে পর্যবেক্ষক না এনে বিশেষ অনুরোধ করা হবে না : দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পর্যবেক্ষক দল না এলে তাদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হবে না বলে জানিয়েছেন ড. মোমেন। তিনি বলেন, ‘দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পর্যবেক্ষক দল এলে ভালো, না এলে আমরা তাদের বিশেষভাবে অনুরোধ করব না। নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে বলে আমাদের আত্মবিশ্বাস আছে।’

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে কিছুই জানেন না দাবি করে ড. মোমেন বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা দেবে কি দেবে না তা-ও জানি না। তবে তাদের সঙ্গে আমাদের আলোচনা হচ্ছে।’

ভারতের ভিসার দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ভিসার দীর্ঘসূত্রতা সম্পর্কে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। আশা করছি এ সমস্যা কমে আসবে।

২৪ অক্টোবর ব্রাসেলস যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী : ড. মোমেন ব্রিফিংয়ে জানান, ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেইয়েনের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৪-২৭ অক্টোবর ব্রাসেলস সফর করবেন। সেখানে তিনি ইইউর গ্লোবাল গেটওয়ে ফোরামের বৈঠকে অংশ নেবেন।

তিনি আরও বলেন, ওই বৈঠকে বিশ্বের অনেক নেতা যোগ দেবেন। আমরা এ বৈঠকের সুযোগ কাজে লাগাতে চাই। সফরে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ইইউর ঋণদাতা সংস্থা ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের (ইআইবি) সঙ্গে ৩৯৫ মিলিয়ন ইউরোর আর্থিক সহায়তা চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যার মধ্যে অনুদান হিসেবে ৪৫ মিলিয়ন ইউরো এবং বাকি ৩৫০ মিলিয়ন ইউরো ঋণ হিসেবে দেবে ইআইবি।

ব্রাসেলস সফরে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে ড. মোমেন বলেন, বৈঠক হবে কি না, তা আমার জানা নেই।

চীনকে আটকাতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে টাকা-পয়সা নিয়ে আসতে বললেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী : চীনকে আটকানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভানকে টাকা-পয়সা খরচ করার পরামর্শ দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, অন্য দেশগুলোকেও এ কথা বলেছেন বলে জানান তিনি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াশিংটনে গত ২৭ সেপ্টেম্বর জ্যাক সুলিভানের সঙ্গে বৈঠকের প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি বলেন, ‘আমি তাকে বললাম আপনাদের শুধু উপদেশ আর হুকুম এবং ভয় এগুলো দিয়ে চীনকে আটকানো যাবে না। এটি করতে হলে টাকা-পয়সা নিয়ে আসেন।’

ড. মোমেন বলেন, ‘উনি (জ্যাক সুলিভান) আমাকে বললেন যে তিনি চেষ্টা করছেন। তারা বিষয়টি অনুধাবন করেন। তিনি বললেন, আপনি বিষয়টি মিউনিখ সিকিউরিটি কনফারেন্সে তুলে ধরেছিলেন এবং আমি বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেছি। আমি এজন্য উদ্যোগ নিয়েছি। আমেরিকা ২০০ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল তৈরি করতে চায়, উন্নয়নশীল দেশগুলোকে দেবে বলে।’ বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘চীন থেকে আমরা ঋণ নিয়েছি মাত্র ৪০০ কোটি ডলার। এটি আমাদের জিডিপির এক শতাংশ। তবে ফলাও করে কিছু পন্ডিত বলেন যে, বাংলাদেশ চীনের লেজুড় হয়ে গেছে।’