বর্তমান সরকার মানুষের ভোটাধিকার ধ্বংস করে দিয়েছে মন্তব্য করে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা জিএম কাদের বলেছেন, সরকার নির্বাচন ব্যবস্থাকে কুক্ষিগত করেছে। তারা দেশকে দুভাগে ভাগ করে ফেলেছে। একদিকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী, ডিসি, এসপি, পুলিশ ও প্রশাসনযন্ত্র, একদলীয় শাসন, দুর্নীতি, লুটপাট আর সুবিধাভোগী গোষ্ঠী। অন্যদিকে সাধারণ জনগণ। তাই ৯০ শতাংশ জনগণকে বঞ্চিত করার কারণে আওয়ামী লীগ নেতারা এখন ভীত-শঙ্কিত। ক্ষমতা ছেড়ে দিলে মহাবিপদের কথা বলেন। পুলিশ ছাড়া বের হলে বঞ্চিত-নিপীড়িত মানুষ আ. লীগকে ছাড় দেবে না।
গতকাল শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে মহানগর জাতীয় পার্টির সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জিএম কাদের।
বাংলাদেশ এখন দেউলিয়ার পথে বলে মন্তব্য করে জাপা চেয়ারম্যান বলেন, ডলার সংকটের কারণে রিজার্ভ সংকটে রয়েছে। প্রতি মাসে এক বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ কমছে। ব্যাংক ও পাওনাদারের ঋণ শোধের পর খালি হয়ে যাবে। আইএমএফ দুর্নীতি ও ব্যাংক লুটপাট ও টাকা পাচারের কথা বলে আসছে। বড় বড় মেগা প্রকল্পেও দুই-তিনগুণ বেশি ব্যয় করে উন্নয়নের নামে দুর্নীতি করা হয়েছে। এসব কারণে দেশ এখন গভীর সংকটে রয়েছে। দেউলিয়ার পথে যাচ্ছে।
জাপা চেয়ারম্যান বলেন, জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের বি-টিম হতে রাজনীতি করেনি। ১৯৯০ সালের পর থেকে যখনই যে ক্ষমতায় গেছে, জাতীয় পার্টিকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র করেছে। এই সরকারও জাতীয় পার্টিকে দুর্বল করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। কিন্তু কেউই জনগণের হৃদয় থেকে জাতীয় পার্টিকে, লাঙ্গল প্রতীককে মুছে ফেলতে পারেনি। বরং সেই লাঙ্গল প্রতীক, জাতীয় পার্টি আরও উজ্জীবিত হয়েছে, আরও শক্তিশালী হয়েছে।
নগর জাপা সভাপতি সোলায়মান আলম শেঠের সভাপতিত্বে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন দলের কো-চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। প্রধান বক্তা ছিলেন মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু এমপি। এতে অন্যদের মধ্যে জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশিদ এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, মোস্তফা আল মাহমুদ, জহুরুল ইসলাম জহির, এস এম ফয়সল চিশতী ও এ টি কিউ তাজ রহমান বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এমপি, জাতীয় পার্টির মহাসচিব মো. মুজিবুল হক চুন্নু এমপি, কো-চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশীদ এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য জহুরুল ইসলাম জহির, প্রেসিডিয়াম সদস্য মোস্তফা আল মাহমুদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, প্রেসিডিয়াম সদস্য এস এম ফয়সল চিশতী ও এ টি কিউ তাজ রহমান।
সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে জাতীয় পার্টি (জাপা) প্রেসিডিয়াম সদস্য সোলায়মান আলম শেঠকে আবার চট্টগ্রাম মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি ও আবু জাফর মাহমুদ কামালকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা হয়।