বিএনপি ১৮ অক্টোবরের সমাবেশ থেকে ঢাকা অবরোধের কর্মসূচি দিতে পারে বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, ‘অবরোধ করলে বিএনপি অবরোধ হয়ে যাবে। এখন পালাইয়া চুরি করে ঢুকছ? এরপর পালাবার পথ পাবা না। শাপলা চত্বর থেকে শেষ রাতে পালায় গেল না? আরও করুণ পরিণতি হবে বিএনপির।’ গতকাল সোমবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে যুবলীগ আয়োজিত যুব সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকার শাপলা চত্বরে বিশাল সমাবেশ করে হেফাজতে ইসলাম। ঢাকা অবরোধের ঘোষণা দেওয়া হয়। সেই সমাবেশ পরে অবস্থান কর্মসূচিতে পরিণত হলে গভীর রাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দিয়ে শাপলা চত্বর খালি করা হয়।
গতকাল বিকেল সাড়ে ৩টার পর থেকে যুবলীগের সমাবেশ শুরু হয়। দুপুর ১টার পর থেকেই ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন ওয়ার্ড, থানা এবং গাজীপুর জেলা ও মহানগর থেকে যুবলীগের নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে আসতে শুরু করেন।
যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশের সভাপতিত্বে ও প্রচার সম্পাদক জয়দেব নন্দীর সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিএনপির ১৮ অক্টোবরের কর্মসূচি, দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে ওইদিন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদেরও বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ, গুলিস্তান, বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেটে জমায়েত হওয়ার নির্দেশ দেন।
যুবলীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ঢাকা সিটির খবর রাখেন? ১৮ তারিখ সামনে রেখে মির্জা ফখরুল... বিএনপি ডিসেম্বর মাসের (২০২২) মতো তাদের নেতাকর্মীদের সারা বাংলাদেশ থেকে ঢাকা আনতে শুরু করেছে। হোটেলগুলোতে খালি নাই। সব সিট তারা বুক করে ফেলেছে। ঢাকা শহরে নতুন বাড়ি হচ্ছে, খালি ফ্ল্যাট আছে সব তারা বুক করে ফেলেছে। আবার ডিসেম্বর মাসের মতো সরকার পতনের স্বপ্ন দেখেছে মির্জা ফখরুল ইসলাম। ফখরুলের আন্দোলন, বিএনপির আন্দোলন ভুয়া। বিএনপিই হচ্ছে ভুয়া। এরা ঢাকা শহরে লোক জমায়েত করবে, অবরোধ করবে, এই শহরে সচিবালয় থেকে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা অবরোধ করার কর্মসূচি তারা ১৮ তারিখে ঘোষণা করবে। তারা সেই ষড়যন্ত্র করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জমায়েত হব। এখন প্রবেশ করছ (বিএনপি) চুরি করে, চুরি করে এসে আত্মীয়স্বজনের বাসায় থাকছ। ফখরুল বলেছেন, অতিরিক্ত কাপড় আনতে, ক্ষমতা দখল করার জন্য। তো আমরা কি দাঁড়ায়া ললিপপ খাব? যুবলীগের যুবকরা, ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ আমরাও প্রস্তুত আছি।