মাতৃত্বকালীন ভাতা ও সময় বাড়ছে

আর্থিকভাবে অসচ্ছল মায়েদের জন্য ভাতার ব্যবস্থা করেছে সরকার। সেখানে মায়েরা ভাতা পান সব মিলিয়ে ৩৬ মাস বা ৩ বছর। এবার ভাতা পাওয়ার সময় আরও ১ বছর বাড়িয়ে ৪৮ মাস করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এজন্য বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ১০৬ কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব করেছে মা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়। প্রকল্পটি প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) অনুমোদনের পর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় (একনেক) উত্থাপনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।

মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় ২০২২ সালে তাদের মাতৃ এবং শিশু সহায়তা দুটি কর্মসূচিকে (দরিদ্র মায়ের জন্য মাতৃত্বকাল ভাতা এবং শহর অঞ্চলের কর্মজীবী ল্যাকটেটিং মাতৃভাতা) একত্র করে মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি (এমসিবিপি) চালু করে। মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের এই কর্মসূচি প্রায় ১২ লাখ সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের গর্ভবতী নারীদের এবং অনূর্ধ্ব চার বছর বয়সী শিশুদের মায়েদের জন্য মাসিক ৮০০ টাকা দিয়ে আসছে। আবেদনকারীরা অনলাইনে নিজেদের নিবন্ধন করতে পারেন। ভাতা প্রতি মাসে সরাসরি তাদের অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত হয়।

মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর বলছে, মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচিটিতে অন-ডিমান্ড তালিকাভুক্তি এবং নিয়মিত ইলেকট্রনিক পেমেন্টের সুবিধা রয়েছে, কিন্তু দেশব্যাপী সব সুবিধাভোগী এ কর্মসূচির আওতাভুক্ত নয়। গর্ভবতী হওয়ার পর থেকে মাত্র ৩৬ মাস পর্যন্ত যে ভাতা দেওয়া হয় তা প্রয়োজনের তুলনায় অপর্যাপ্ত। তা ছাড়া, মা ও শিশুর সুস্বাস্থ্য ও সুরক্ষার জন্য পরিষেবা প্রদানকারীদের (স্বাস্থ্য পরিকল্পনা, পুষ্টি এবং জন্মনিবন্ধন) সঙ্গে সমন্বয়ের কিছুটা অভাব রয়েছে এবং মা-শিশুর পুষ্টি ও প্রয়োজনীয় সেবা এবং বিকাশ সম্পর্কিত সামাজিক এবং আচরণ পরিবর্তনজনিত কাউন্সেলিংয়ের (এসবিসিসি) গুণগতমান উন্নয়ন ও বিস্তৃতির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

তারা বলছেন, মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির শুধু মাসিক নগদ সহায়তা প্রদান কার্যক্রম দেশব্যাপী চালু থাকলেও অন্যান্য কর্মসূচি যেমন : এসবিসিসি সেশন, রিসোর্স পুলের জন্য প্রশিক্ষণ, এমআইএস সিস্টেম কর্মসূচিগুলো শুধু দেশের সাতটি উপজেলায় সম্পূর্ণরূপে কার্যকর রয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচিকে বিস্তৃত করা এবং এর কারিগরি ব্যবস্থাপনাগুলোকে শক্তিশালী করার জন্য বিবেচ্য কারিগরি সহায়তা প্রকল্পটির প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত কারিগরি সহায়তা প্রকল্পটির মাধ্যমে সারা দেশে মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির সুবিধাভোগীর সংখ্যা বাড়ানো এবং নগদ অর্থ সাহায্য প্রদানের মেয়াদ ৩৬ মাস (৬ মাস গর্ভকালীন এবং শিশুর জীবদ্দশায় ৩০ মাস) থেকে ৪৮ মাসে (৬ মাস গর্ভকালীন এবং শিশুর জীবদ্দশায় ৪২ মাস) উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত ‘সাপোর্টিং ইমপ্লিমেন্টেশন অব দ্য মাদার অ্যান্ড চাইল্ড বেনিফিট প্রোগ্রাম’ শীর্ষক প্রকল্পটি প্রাক্কলিত ব্যয় ১০৬ কোটি ৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের অর্থায়ন মাত্র ১৭ দশমিক ৫৮ শতাংশ বা ১৮ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। বাকি ৮৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা ঋণ হিসেবে দিচ্ছে বিশ্বব্যাংকের আইডিএ প্রোগ্রাম। অর্থাৎ প্রকল্পের ৮২ দশমিক ৪২ শতাংশই আসবে এ উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে। এ প্রকল্পটির মেয়াদ ধরা হয়েছে চলতি অর্থবছরের অক্টোবর থেকে ২০২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫ বছর।

পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত এ প্রকল্পটিতে সুবিধাভোগী মা ও শিশুর সংখ্যা ১৭ লাখ ১০ হাজারে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা হাতে নিয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য মা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রওশন আরা বেগমের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।

প্রকল্পটির ব্যয়ের তথ্যবিশ্লেষণে দেখা যায়, এর বড় অংশই খরচ হবে কেন্দ্রীয় ও মাঠপর্যায়ের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণকে কেন্দ্র করে। এ খাতের ৩ হাজার ৯১৩টি প্রশিক্ষণের জন্য ব্যয় হবে প্রায় ৪৮ কোটি টাকা, যা প্রাক্কলিত ব্যয়ের ৪৫ শতাংশের বেশি। যেসব গর্ভবতী মা ভাতা ও প্রশিক্ষণের আওতায় আসবেন, তাদের সামাজিক আচরণ পরিবর্তনের জন্য কাউন্সেলিং (এসবিসিসি) সেশন পরিচালনাকারী সরকারি রিসোর্স পুলের ব্যক্তিদের সম্মানী ভাতাতেই যাবে ১৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা। ৯ পরামর্শকের বেতন বাবদ ১২ কোটি ৬০ লাখ টাকা খরচ করা হবে। এটি প্রকল্পের ব্যয়ের প্রায় ১২ শতাংশ।