নীলফামারীর একটি চালকলে ইলেকট্রিক পাম্প মেশিন দিয়ে পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়ে অধীর চন্দ্র রায় (৬০) নামে এক শ্রমিককে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে সৈয়দপুর উপজেলার খাতামধুপুর ইউনিয়নের পাকুরেরতল এলাকার নমির উদ্দিন অটো রাইস মিলে কাজ করার সময় এক সহকর্মী পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়ে দিলে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
নিহত অধীর চন্দ্র রায় একই ইউনিয়নের খালিসা ধুলিয়া মালিপাড়ার মৃত উপেন্দ্র চন্দ্র রায়ের ছেলে। তাকে হত্যার অভিযোগে তার সহকর্মী মোর্শেদুল ইসলামকে (২২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার কুর্শা ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের কাছিম আলী কমালুর ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের স্বজনরা জানান, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে চালকলে কাজ করার সময় সহকর্মী মোর্শেদুল ইসলাম ইলেকট্রিক পাম্প মেশিন দিয়ে অধীরের পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়ে দেয়। এতে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে প্রথমে তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন চিকিৎসক। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১১টার দিকে মারা যান অধীর। এরপর হাসপাতাল থেকে রাত ২টার দিকে মরদেহ বাড়িতে নেওয়া হয়।
এদিকে পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়ে দেওয়ার ঘটনা আড়াল করে অন্য সহকর্মী শ্রমিকরা অধীরের লাশ দাহ করার চেষ্টা করেন। পরিবারের লোকজনের সন্দেহ হলে অধীরের বড় ছেলে প্রশান্ত চন্দ্র রায় তার বন্ধুদের মাধ্যমে সৈয়দপুর থানায় খবর দেয়। পরে গতকাল শুক্রবার ভোরে সৈয়দপুর থানা পুলিশ অধীরের বাড়িতে যায়। কিন্তু লাশ উদ্ধার করতে পুলিশকে বেগ পেতে হয়। সেখানেই মোর্শেদুল ইসলামকে কৌশলে গ্রেপ্তার ও লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর অধীরের ছেলে প্রশান্ত চন্দ্র রায় বাদী হয়ে দুপুরে সৈয়দপুর থানায় একটি মামলা করেন।
সৈয়দপুর থানার ওসি সাইফুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নিহত শ্রমিকের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। গ্রেপ্তার মোর্শেদুল অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’