চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে একটি বাড়ির নতুন বসানো নলকূপের গর্ত থেকে অনবরত বের হচ্ছে গ্যাস। বাহারছড়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের জলকদর খালের বেড়িবাঁধসংলগ্ন প্রবাসী আলী করিমের বাড়ির ওই নলকূপের গর্ত থেকে এক মাসের বেশি সময় ধরে গ্যাস নিঃসরণ এবং এর বিকট আওয়াজ হচ্ছে, যা নিয়ে আলী করিমের পরিবারের লোকজন রয়েছেন চরম আতঙ্কে।
গতকাল শনিবার স্টেশন লিডার নুরুল বাশারের নেতৃত্বে ফায়ার সার্ভিসের বাঁশখালী স্টেশনের একদল কর্মী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এলাকাবাসী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি জানান, প্রবাসী আলী করিমের বাড়িতে নলকূপ স্থাপনের জন্য খননের সময় গত ১৭ সেপ্টেম্বর ৯৬০ ফুট গভীরে গেলে ওই গর্ত দিয়ে হঠাৎ বিকট শব্দে গ্যাস (আগুন) নিঃসরণ হতে থাকে। পরে নলকূপ বসানোর কর্মীরা স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় কাদামাটি দিয়ে ওই গর্ত ভরাট করে দিলে তা শুকানোর পর আবারও সেখান থেকে গ্যাস বের হতে থাকে। এরপর বিষয়টি তারা গোপন রেখে ১০০ ফুট দক্ষিণে নতুন করে খনন করে আরেকটি নলকূপ বসিয়ে পানির ব্যবস্থা করেন। কিন্তু আগের নলকূপ বসানোর স্থান থেকে প্রতিনিয়ত শব্দ ও গ্যাস নিঃসরণ হতে থাকায় বিষয়টি আলী করিমের পরিবারের লোকজন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জানান। তারা বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তারকে ঘটনা খুলে বলেন। পরে তিনি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষকে জানান এবং বাঁশখালী ফায়ার সার্ভিসের একটি দলকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে বলে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শন শেষে স্টেশন লিডার নুরুল বাশার বলেন, ‘বর্তমানে তেমন বড় ধরনের কোনো সমস্যা চোখে পড়েনি। সামান্য বুদবুদ শব্দ করছে। ওই জায়গার পাশে না যাওয়াসহ গ্যাস বিষয়ে যারা কাজ করেন তাদের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’
নলকূপের বিষয়ে আলী আকবর বলেন, ‘প্রবাস থেকে দেশে এসে নতুন করে নলকূপ বসাতে গিয়ে এ ঘটনা ঘটে। ভয় পাওয়ায় বিষয়টি কাউকে জানানো হয়নি। এমনকি স্থানীয়রা অনেকে ভয় দেখিয়ে বলেছিল, এটা জানাজানি হলে সরকার এই জায়গা নিয়ে নেবে। নলকূপ মিস্ত্রি মাটির নিচে পাইপ বসাতে গিয়ে টের পান কোনো কিছুর অস্বাভাবিক চাপ। দমকা হাওয়ার চাপ এতটাই ছিল যে, প্লাস্টিকের পাইপ আর ভেতরে প্রবেশ করাতে না পেরে বাধ্য হয়ে আরও দক্ষিণে গিয়ে নতুন করে নলকূপ বসান। সেখানেও চাপ অনুভব করলেও মিস্ত্রিদল নলকূপ বসাতে সক্ষম হয়।’