ইমামকে চাকরিচ্যুত করা সেই ইউএনও রাঙ্গামাটিতে বদলি

কুমিল্লার লালমাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফোরকান এলাহিকে রাঙ্গামাটিতে বদলি করা হয়েছে। গত রবিবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় থেকে তাকে রাঙ্গামাটির বরকলে বদলি করা হয়। মসজিদে নামাজের কাতারে সরে দাঁড়াতে বলায় ইমামকে চাকরিচ্যুত করার অভিযোগ নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ার পর ইউএনও ফোরকানকে বদলির এই ঘটনা ঘটল। তবে কর্র্তৃপক্ষ বলছে, এটি রুটিন বদলির অংশ। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ শামীম আলম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে বদলির এই আদেশ জারি করা হয়। এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে ফেনীর ছাগলনাইয়ার ইউএনও মৌমিতা দাশকে লালমাইয়ের ইউএনও হিসেবে যোগদান করতে বলা হয়েছে।

এর আগে গত ১৩ অক্টোবর খুতবা শেষে জুমার নামাজ শুরুর আগে ইউএনও ফোরকানকে একটু সরে দাঁড়াতে বলাকে কেন্দ্র করে লালমাইয়ের ভাটরা কাছারী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমামকে চাকরিচ্যুত করার অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া এ ঘটনায় ইউএনও ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে একাধিকবার মসজিদের পুকুরের পানিতে চুবানোর হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন সেই ইমাম। ঘটনাটি নিয়ে ১৪ অক্টোবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে দেশজুড়ে সমালোচনা শুরু হয়।

এরপর ১৫ অক্টোবর বিকেলে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক (ডিসি) খন্দকার মু. মুশফিকুর রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে তার কার্যালয়ে যান ইউএনওর তোপের মুখে পড়া সেই ইমাম। ইমামসহ সংশ্লিষ্টদের থেকে ঘটনার বিবরণ শুনে জেলা প্রশাসক ইউএনওকে ইমামের কাছে দুঃখ প্রকাশ করতে বলেন। এ সময় ইউএনও ‘স্যরি’ বলে ওই ইমামের সঙ্গে কোলাকুলি করেন। পরে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ইউএনও নিজের গাড়িতে ইমামকে ভাটরা কাছারী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে নিয়ে যান এবং তার পেছনে মাগরিবের নামাজ আদায় করেন।