প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আগামী সাধারণ নির্বাচন যেন কেউ ভন্ডুল ও প্রশ্নবিদ্ধ করতে না পারে সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি বাংলাদেশের অব্যাহত উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য দেশবাসীকে নৌকায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তার সম্মানে বাংলাদেশি কমিউনিটি আয়োজিত এক সংবর্ধনায় ভার্চুয়ালি দেওয়া বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কেউ যেন পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন ভন্ডুল এবং প্রশ্নবিদ্ধ করতে না পারে সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’
বেলজিয়াম ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা এস্পেস লুমেইনের পারফর্মিং আর্ট থিয়েটারে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে এই সংবর্ধনার আয়োজন করে।
সরকারের বিরুদ্ধে যেসব অপপ্রচার চালানো হচ্ছে তাতে কোনো কর্ণপাত না করে গত ১৫ বছরে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব উন্নয়ন জনগণের কাছে তুলে ধরতে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘অপপ্রচারের যথার্থ জবাব হিসেবে গত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশে যে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড করেছে তা জনগণের কাছে তুলে ধরুন।’
বিএনপি-জামায়াতের প্রতি ইঙ্গিত করে খুনি-সন্ত্রাসীদের কেউ যেন পুনরায় জনগণের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে না পারে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, জনগণ আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে দেশের স্বাধীনতা ও উন্নয়ন পেয়েছে।
দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আওয়ামী লীগকে ভোট দেওয়ার আহবান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার দেশকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত করেছে।
তিনি বলেন, আন্তরিকতা, সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা এবং সে অনুযায়ী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কারণে আমরা বাংলাদেশের ব্যাপক উন্নয়ন করতে সক্ষম হয়েছি।
আওয়ামী লীগ সরকার গত ১৫ বছরে ব্যাপক উন্নয়ন করলেও ১৯৭৫-১৯৯৬ এবং ২০০১-২০০৯ পর্যন্ত ২৯ বছরে বিএনপি-জামায়াতসহ অন্যান্য সরকার বাংলাদেশের উন্নয়নে কী করেছে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রী।
২৯ বছর দেশের জনগণের জন্য অন্ধকার ও কষ্টের সময় ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তাদের হাতে বাংলাদেশের কোনো ভবিষ্যৎ নেই এবং তারা বাংলাদেশের জনগণের কথা চিন্তা করে না।’
ঐতিহাসিক ৬ দফা দাবি ও ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধসহ সব সংগ্রামে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানের কথা স্মরণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
সরকার রেমিট্যান্সে ৫ শতাংশ প্রণোদনা দিচ্ছে জানিয়ে তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠানোর অনুরোধ জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করায় বাংলাদেশে অতিদরিদ্র থাকবে না। তিনি বলেন, তার সরকার ইতিমধ্যেই সারা দেশে ৮ লাখ ৪০ হাজার গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবারকে বিনামূল্যে বাড়ি নির্মাণ করে দিয়েছে। দেশকে অতিদারিদ্র্যমুক্ত করতে সরকার ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য আরও ১১ হাজার বাড়ি নির্মাণ করছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার ২০৪১ সালের মধ্যে দেশকে স্মার্ট বাংলাদেশে পরিণত করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর ব্রাসেলস ত্যাগ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৫-২৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ‘গ্লোবাল গেটওয়ে ফোরামে’ যোগদান শেষে গতকাল বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলস ত্যাগ করেছেন। ইউরোপীয় কমিশনের (ইসি) প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভনডার লেয়েনের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী গত ২৪ অক্টোবর ব্রাসেলসে যান।
প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইট বেলজিয়ামের ব্রাসেলস জাভেনটেম বিমানবন্দর থেকে ব্রাসেলস স্থানীয় সময় ২২:০০টায় বেলজিয়াম ত্যাগ করার কথা। আজ শুক্রবার দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে ফ্লাইটটির ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কথা রয়েছে।
সফরকালে প্রধানমন্ত্রী ফোরামের সাইডলাইনে ইউরোপীয় দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে বেশ কয়েকটি বৈঠক করেন।
গতকাল সকালে তিনি বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডি ক্রুর সঙ্গে এবং লুক্সেমবার্গের প্রধানমন্ত্রী জেভিয়ার বেটেলের সঙ্গে দুটি আলাদা দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। পরে বিকেলে প্রধানমন্ত্রী গ্লোবাল গেটওয়ে ফোরামের সমাপনী পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে যোগ দেন।
টিভি চ্যানেল ‘ইউরো নিউজ’ এবং ‘পলিটিকো’ যথাক্রমে ২৫ ও ২৬ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎকার নেয়। বাসস