এ বছর ঢাকার বাইরে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। এখনো মোট আক্রান্তের ৬৩ শতাংশ রোগী ঢাকার বাইরে। কিন্তু মৃত্যু ঢাকাতেই বেশি। গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) আরও ১০ জন মারা গেছে। তাদের মধ্যে ঢাকার বাইরে ছয়জন ও ঢাকায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এই বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যু দাঁড়াল ১ হাজার ৩২৭ জন। তাদের মধ্যে ঢাকায় মারা গেছে ৮০২ জন, যা মোট মৃত্যুর ৬০ শতাংশ। বাকি ৪০ শতাংশ বা ৫২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকার বাইরে। অথচ মোট রোগীর ৬৩ শতাংশ ঢাকার বাইরে।
ঢাকায় বেশি মারা গেছে সরকারি হাসপাতালে ৫৬৬ জন, যা মোট মৃত্যুর ৭১ শতাংশ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মারা গেছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২০৫ ও মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৪১ জন। এরপর মিটফোর্ড হাসপাতালে ৬১, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ৪৯ ও ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কভিড-১৯ হাসপাতালে ৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালে ২২ ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে মারা গেছে ১০ জন।
ঢাকায় মোট মৃত্যুর ২৯ শতাংশ ঘটেছে বেসরকারি হাসপাতালে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৩৭ জন মারা গেছে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এরপর ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে আজগর আলী হাসপাতালে, ১৭ জন করে গ্রিন লাইফ ও স্কয়ার হাসপাতালে, ১৫ জন পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, ১৪ জন ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, ১২ জন করে বিআইএইচ ও ইউনাইটেড হাসপাতালে, ১১ জন বারডেম হাসপাতালে ও ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৮০০ ডেঙ্গু রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ঢাকায় ভর্তি হয়েছে ৪০৭ ও ঢাকার বাইরে ১ হাজার ৩৯৩ জন। এ নিয়ে এই বছর ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ২ লাখ ৬৫ হাজার ৮৬২ জন। তাদের মধ্যে ঢাকায় মোট রোগী ৯৮ হাজার ২৭ ও ঢাকার বাইরে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৮৩৫ জন দাঁড়াল।
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছে ৭ হাজার ৯১ রোগী। তাদের মধ্যে ঢাকায় ভর্তি আছে ১ হাজার ৯৭৫ ও ঢাকার বাইরে ৫ হাজার ১১৬ জন। এ বছর মৃত্যুহার শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ।