রাজনীতিতে আক্রমণ রক্ষণে লাঠির কদর

ঢাকায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি সমাবেশ কেন্দ্র করে দুই দলের নেতাকর্মীদের আক্রমণে ও রক্ষণে হাতে আড়াই ফুটের লাঠি নিয়ে ঘুরতে দেখা গেছে। উভয় দলের নেতাকর্মীরা আত্মরক্ষায় আড়াই ফুটের লাঠিকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে চলেছেন। গতকাল শনিবার রাজধানীতে নানা বয়সীর বেশিরভাগ লোক লাঠি নিয়ে ঘুরেছেন। ঢাকার সব প্রান্ত থেকে যে যেখানে এসেছেন হাতে লাঠি ছিল কমন ব্যাপার। একপক্ষ লাঠি হাতে নয়াপল্টনে বিএনপির কার্যালয়মুখী হয়েছে, অন্যপক্ষ জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম দক্ষিণ গেটমুখী।

আড়াই ফুটের লাঠি ছিল নানা ধরনের। তবে বাঁশের লাঠির সংখ্যাই ছিল বেশি। এ ছাড়া কাঠের লাঠি, ক্রিকেট স্টাম্প, এসএস পাইপ ও প্লাস্টিক পাইপের লাঠিও বহন করেছেন দুই দলের নেতাকর্মীরা। বলা চলে, রাজনীতিতে আড়াই ফুটের লাঠির চাহিদা বেশ বেড়েছে। কারণ বিএনপি করেছে মহাসমাবেশ, অন্যদিকে আওয়ামী লীগ করেছে শান্তি সমাবেশ। লাঠি হাতে থাকা কারা আওয়ামী লীগ আর কারা বিএনপি সেটা চেনার উপায় জাতীয় পতাকা। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হাতে লাঠি থাকলেও লাঠির মাথায় বেঁধে রেখেছেন জাতীয় পতাকা। বিএনপি নেতাকর্মীদের হাতে শুধু লাঠিই ছিল। দুই দলের কর্মসূচি ঘিরে লাঠির বিস্তর মহড়া চলতে দেখা গেছে রাজধানী ঢাকায়। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কর্মীদের লাঠি হাতে নেওয়ার নির্দেশনা কেন্দ্র থেকে না থাকলেও স্থানীয় নেতাদের বাড়তি সতর্কতার অংশ হিসেবে আক্রমণ ও রক্ষণে সবাই লাঠি নিয়ে এসেছেন।

বিএনপি নেতাকর্মীদের হাতে থাকা লাঠি আত্মরক্ষায় কমবেশি ব্যবহার হলেও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হাতের লাঠি ব্যবহারের ঘটনা ঘটেনি। দলটির কর্মীদের কাছে লাঠি বহনের কারণ জানতে চাইলে দেশ রূপান্তরকে বলেন, সন্ত্রাস প্রতিরোধে লাঠি বহন করছেন তারা। লাঠির ব্যবহার হয়েছে কি না জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ কর্মীরা বলেন, এখনো ব্যবহার করা হয়নি। তবে যেকোনো সময় লাঠি ব্যবহারের প্রয়োজন পড়তে পারে।

গুলিস্তান জিরো পয়েন্টের কাছে প্রায় ৫০ জনের একটি জটলা পাকিয়ে শান্তি সমাবেশের বক্তব্য শুনছেন গাজীপুর থেকে আসা দলীয় কর্মীরা। এ সময় আরিফ হোসেন নামে একজনের কাছে দেশ রূপান্তরের প্রতিবেদক জানতে চান হাতে লাঠি কেন? জবাবে তিনি বলেন, বড় ভাইয়ের নির্দেশ। তিনি বলেন, শান্তি সমাবেশে আসার প্রস্তুতি নিয়ে বাসে উঠতে গেলে প্রত্যেকের হাতে লাঠি ধরিয়ে দেওয়া হয়। বাসায় ফেরার পথেও তা নিয়ে যেতে হয়।

প্রেস ক্লাব ও সচিবালয়ের মাঝখানের রাস্তা দিয়ে শান্তি সমাবেশ শেষ করে যাওয়ার পথে লাঠি হাতে থাকা নিজামউদ্দিন বলেন, ‘আজকে লাঠি ব্যবহার হয়নি। কাল হতে পারে। তবে কোনো পক্ষের কেউই লাঠি হাতে চলাফেরা করলেও একা থাকেন না তারা। সংঘবদ্ধ হয়ে লাঠি নিয়ে ঘোরেন তারা।’

অন্যদিকে লাঠি হাতে বিএনপির মহাসমাবেশে আসা কর্মীরা বলেন, আত্মরক্ষায় তারা লাঠি বহন করছেন। আক্রমণ এলে পাল্টা আক্রমণ করব। সার্কিট হাউজ রোডে মসজিদের সামনে লাঠি হাতে বিএনপির শ-খানেক নেতা পুলিশের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ায় জড়িয়েছেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সেখানে লাঠি হাতে বেশ সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন আবদুল হাই। তার এক হাতে লাঠি, অন্য হাতে ইটের ভগ্নাংশ। তার কাছে লাঠি কেন জানতে চাইলে তিনি সোজাসুজিই বলেন, ‘মারার জন্য। সব সময়ই কি মার খাব? আজকে মার দিবও। এজন্যই লাঠি হাতে নিয়েছি।’

লাঠি হাতে নিয়ে দুই দলের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আপাতত আড়াই ফুটের লাঠিকে তারা আত্মরক্ষার হাতিয়ার হিসেবে দেখছেন। বিএনপির আন্দোলন ও আওয়ামী লীগের মোকাবিলার ঘোষণায় অস্থির হয়ে ওঠা রাজনীতিতে নিজ নিজ দলের কর্মীরা মনে করেন, লাঠি হাতে থাকলে প্রাথমিক মোকাবিলা করা তাদের জন্য সুবিধার হবে। তাই লাঠি কর্মীদের কাছে গুরুত্বের হয়ে উঠেছে। কর্মীরা আসার পথেও আড়াই ফুট লাঠি, যাওয়ার পথেও লাঠি বহন করে চলেছেন।